Thursday, January 7, 2021

ভাবনা (Extended)

জানা নেই তবু হেঁটে যাই পথে

হেঁটে যাই আর যেতে চাই দূরে

জানা নেই 

কোথায়

জানা নেই 

কোথায়

জানা নেই তবু হেঁটে যাই পথে

হাতে হাত রাখি যেতে চাই দূরে 

জানা নেই

কোথায়

জানা নেই

কোথায়

(ঢাকা, ২০১১)


আমার এই ভাবনারা তোমার মগজে ঢুকে যায়

হাতড়ায় সাঁতরায়

সাঁতরায় হাতড়ায়

প্রতিদিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরো যখন

ভেবে দেখো কি এ শহরে তুমি কত একলা...

একলা একলা একলা...

ঠিক ভাবনারই মতোন

তুমিও কি ভেসে যাও মিশে যাও

বাতাসের সীসাতে

রাস্তার আলোতে

হাতড়াও সাঁতরাও

সাঁতরাও হাতড়াও

ভাবনার হাত ধরে 

সরে সরে সরে যাও

দূরে দূরে দূরে যাও

সীমানা পেরিয়ে যাও

অগস্তে হারিয়ে যাও

হাতড়াও সাঁতরাও

সাঁতরাও হাতড়াও

(কি মজা!!!)


(Extended, ঢাকা, ২০২১)


জানা নেই তবু হেঁটে যাই পথে

হেঁটে যাই আর যেতে চাই দূরে

জানা নেই 

কোথায়

জানা নেই 

কোথায়

জানা নেই তবু হেঁটে যাই পথে

হাতে হাত রাখি যেতে চাই দূরে 

জানা নেই

কোথায়

জানা নেই

কোথায়





স্নানঘরের নিঃসঙ্গতা

স্নানঘরে আবেশের বাষ্পরা গান গায়

তুমি নেই

তুমি নেই

নীল জল উড়ে যায় 

ঘোলা হয়ে যায় চারদিক আর আয়নাও

এ উষ্ণতা জমিয়ে রাখা নিঃসঙ্গতারই হয়তো

হায়

তুমি নেই 

তুমি নেই

বাষ্পরা গান গেয়ে যায় আবেশে

আর কেঁদে যায় দুচোখের মণিতে

হায়

তুমি নেই 

তুমি নেই


https://youtu.be/rhlM0rhl7Mk






Wednesday, January 6, 2021

গল্প : ছয় : মরা পূর্ণিমা

শান্তা এই রাতেই মরে গেল যখন ভর পূর্ণিমা আর সেই সাথে আবহাওয়াও চমৎকার। আকাশ এতো পরিষ্কার যেন সে কারনেই বাগানের কামিনী ফুলগুলো আরও বেশি সৌরভ ছড়াচ্ছে। মল্লিকার আগর বাতির গন্ধ আর এতোগুলো  মেয়ের তীক্ষ্ম গলায় একসাথে এলোমেলো সুরা আর দোয়াদুরুদ পড়ার হট্টোগোল একদম ভালো লাগছে  না। ওর মাথাটায় একটা ফাঁকা ফাঁকা অনুভুতি ভর করে আছে আর শরীরটাও হালকা লাগছে কেমন। অসহ‍্য লাগলেও উঠে যেতে পারছে না যদি পড়ে যায় এই ভয়ে। অনুসূয়া, ছোট করে সবাই ডাকে অনু, শান্তার আট বছরের মেয়েটাও ফ্রকের সাথে পাজামা আর মাথায় কোত্থেকে একটা ছোট ফুলেল হিজাব পরে কোরান পড়ছে। কতোটুকু কি পড়ছে কে জানে, দেখে মনে হচ্ছে ওর বসে থাকার শক্তিটুকু নেই আর শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। আর এতো কাঁদার পর চোখেও ভালো দেখতে পাবার কথা নয়। কিন্তু সবার কথা শুনে ওর বিশ্বাস হয়েছে যে ও যদি দোয়া করে, সুরা পড়ে ওর মা ভালো থাকবে, ওর মায়ের গুনা আল্লা মাফ করে দেবে। যদিও ও জানেনা ওর মা আসলে আদৌ কোনো গুনা করেছে কিনা। ওকে যে মাঝেমাঝে বকতো আর একদিন রাগ করে ওর একটা বারবি জানলা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল, বাবার সাথে যে প্রায়ই রাগারাগি করতো আর কথা বলাও বন্ধ করে দিত, কখনো কখনো দাদুকে না বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতো, মাঝেমধ‍্যে আনমনা হয়ে পড়তো, ঘর অগোছালো করে রাখতো, অনেক ইংরেজী ফিল্ম দেখতো কিংবা মাঝে মাঝে খারাপ রান্না করতো সেগুলোকেই গুনা বলে কিনা, এইসব ভাবার মতো অবস্থাও ওর আছে কি না কে জানে। মল্লিকার পুরো পরিবেশটা নারকীয় মনে হচ্ছিল অন্তত শান্তার ছোট্ট মেয়েটার জন‍্য তো বটেই। এই গরমে এতো মানুষের ভীড়ে আর এতো পোষাকের  চাপে বেচারি পুরো ঘেমে নেয়ে উঠেছে। মল্লিকার এক মুহুর্তে মনে হয় কে তৈরী করেছে এই পৈশাচিক রীতিগুলো? আর মানুষ ই বা কিভাবে গ্রহন করেছে এসব নিষ্ঠুরতা? ওর সদ‍্য অনাথ বাচ্চা মেয়েটার জন‍্য বুকে খুব ব‍্যাথা হতে থাকে, আজকাল প্রায়ই বুক ব‍্যাথা করে সাথে শ্বাসকষ্টও হয় মল্লিকার। ওর শুধু মনে হয় এইসব লোকজনগুলোকে যদি বের করে দিতে পারতো এই ঘর থেকে, তারপর বাচ্চা মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে বসে থাকতো ঘর অন্ধকার করে আর একটা ঘুম পাড়ানি গান যদি গাইতে পারতো ওর কানে। বাচ্চাটার একটু ঘুমোনো দরকার। গত এতোগুলো মাস একটুও নিশ্চই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেনি। আইসিইউতে শেষ যখন ওকে নেয়া হয়েছিল, ওর মা তখনো শ্বাস নিচ্ছিল হয়তো। ও শুধু মায়ের চুলে একটু আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল, মায়ের চোখের পাতা একটু নড়ে উঠেছিল কি না ঠিক খেয়াল করে উঠতে পারেনি। এর আগেও শান্তাকে বেশ ক'বার হাসপাতালে রাখতে হয়েছিল তখন ও বাসাতেই থাকতো। আজ সন্ধ‍্যায় হঠাৎ যখন ওর বাবা শান্ত গলায় বললো 'মা চলো তোমার আম্মুকে দেখবে' ও জানতো আর অপেক্ষায় থাকার কিছু নেই। হাসপাতালের রাসায়নিক গন্ধ, উজ্জ্বল সাদা আলো, চকচকে মেঝে, এতো ধাতব যন্ত্রপাতি, চেনা অচেনা লোকজন, বিবস মুখের ডাক্তার, মাথায় স্কার্ফ পরা ব‍্যস্ত নার্সরা, নীল পোষাকের কর্মচারিরা, দেয়ালের ফুলের আর সূর্যাস্তের ছবি, দেয়াল ঘেঁসে সুন্দর ফার্ণের বাগান, প্রচন্ড এসির ঠান্ডা, ধীরে চলা লিফ্ট, সব ওর একটা মিউট করে রাখা চলচ্চিত্রের মতো লাগছিল। ও শুধু নিজের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দই যেন শুনতে পাচ্ছিল আর বাবার হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিল তাড়াতাড়ি।


মল্লিকা মাথার ভেতরের বিরক্তি আর ক্ষোভটা আর যেন চেপে রাখতে পারছিল না। বুকের ব‍্যাথাটা বেড়েই চলেছে যেন ক্রমাগত। তাই আচমকাই উঠে পড়লো আর ঘরটা থেকে বেরিয়ে গেল। বসে থাকতে থাকতে পায়ে ঝিঝি ধরে গেছে তাও কোনো রকমে পা টেনে টেনে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো। নিচের বসার ঘরটায় কয়েকজন হাফেজ হুজুর তারস্বরে কোরান পড়ে যাচ্ছে। লোকজনে ভর্তি নিচতলাটা, সবাই পুরুষ, বিভিন্ন বয়সের, প্রায় সবাই সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরে আছে, কারো কারো মাথায় একরঙা সাদা কিংবা নকশাতোলা টুপি। আগর আর আতরের গন্ধের সাথে সাথে বিরিয়ানির গন্ধও ভেসে আসছে পাশের ডাইনিং স্পেস থেকে। কারো যদি খিদে টিদে পেয়ে যায়, তাই এই ব‍্যবস্থা করেছে কোন শুভাকাঙ্খী হয়তো। মল্লিকা ভেবে পেলো না এতো রাতে কি করে এতো আয়োজন করে ফেললো এরা। আর যাই হোক শোকের মাতন তো এ নয়, মানুষগোলো যেন প্রচণ্ড ভয়ে আছে আর সেই ভয়কে তুষ্ট করতেই এতো আয়োজন। শান্তার বরটাকেও দেখতে পেল, একটা সাদা পাঞ্জাবি পরে গাড়ি বারান্দায় কজন সমবয়সী লোকের সাথে একটা বেঞ্চিতে বসে আছে। বন্ধুবান্ধবই হয়তো এরা। দেখে খুব ক্লান্তই লাগছে শুধু, অনেকটা রোগা হয়ে গেছেন, কম ধকল তো যায়নি এ ক'মাস। সামনে একটা ঠান্ডা লাশের গাড়ি ওটাতে শান্তার দেহটা কাফনে আপাদমস্তক পেঁচিয়ে বেঁধে রাখা আছে। শেষ গোসল হয়ে গেছে এখন রক্তের সম্পর্কের নিকটাত্মীয় ছাড়া অন‍্য আর কোনো পুরুষ দেহটা দেখতে পারবে না, ছুঁতেতো পারবেই না। স্বামীও পারবে না, মরে যাবার পর নাকি স্বামী বেগানা পুরুষ হয়ে যায়। কিছু নতুন নতুন জিনিস শিখছে মল্লিকা এখানে আসার পর থেকে। 


গাড়ি বারান্দা থেকে ডানদিকে এক চিলতে বাগানটার দিকে মোড় নেয় মল্লিকা। বাগানের মুখের বাতিটাই জ্বলছে খালি। ভেতরের বাতিগুলো সব নেভানো বা হয়তো নষ্টই। ভালোই হলো। হয়তো এ কারনেই এখানে লোকজন নেই বল্লেই চলে। মল্লিকা কামিনী গাছটার নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। এই গাছটার নিচে শান্তার সাথে মল্লিকার খুব সুন্দর একটা ছবি আছে। ওইদিনই প্রথম আর এর আগে ওই একবারই এই বাড়িতে এসেছিল মল্লিকা। ওর মেয়ে লারার স্কুলে অনুও পড়ে, শান্তার সাথে ওখানেই আলাপ। সেদিন অনুর জন্মদিনে ওর কজন বন্ধুদের সাথে ওদের মায়েদেরও নিমন্ত্রণ ছিল। শান্তা বলেছিল সবাইকে শাড়ি পরে আসত আর পারলে একটু আগে আগে বিকেল করে যদি আসতে পারে। মল্লিকাই তাড়াতাড়ি বিকেল পাঁচটার মধ‍্যে এসেছিল। আর এসেতো এই আলিশান বাগান সহ দোতলা বাড়িটা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। শান্তার সাথে আলাপ করে কখনোই বুঝতে পারেনি ওরা এতো ধনী। মল্লিকার এতো অস্বস্তি হচ্ছিল, আগে জানলে আসতোই না। লারাকে মল্লিকার এক বান্ধুবী একটা পার্টি ফ্রক উপহার দিয়েছিল কিছুদিন আগে। একবারও পরেনি বলে ওটাই সুন্দর করে র‍্যাপ করে উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছিল। কি আর করবে এতো হিসেবের সংসার, একটা বাড়তি উপহার কেনার টাকা ওর আসলেই ছিল না। কিন্তু এতো সাবধানি হিসেবী জীবনের মধ‍্যেও মল্লিকা একমাত্র খুশি কারন হল লারা, মেয়েটা সত‍্যি বড় লক্ষ্মী হয়েছে। রাজ‍্যের দুষ্টুমি আর গোঁয়ারতুমীটা করে ঠিকই কিন্তু ওর আশা হয়তো একদিন সত‍্যি সত‍্যি মানুষ হবে। যখন ওকে জিজ্ঞেস করেছিল ওর নতুন উপহার পাওয়া জামাটা অনুকে দিয়ে দেবে কি না, প্রথমে যেন একটু থতমত খেয়ে গিয়েছিল লারা তারপর বেশ কিছুক্ষণ যেন গভীর কিছু চিন্তা করলো, তারপর হাসি মুখেই বললো "ঠিক আছে মা। খালি হাতে যাওয়া তো ঠিক নয়। তাই না?" মল্লিকার মনে হয়েছিল মেয়েটা বড় হয়ে যাচ্ছে বড্ডো তাড়াতাড়ি। তেমন কিছু আবদারও করে না।  অভাবের সাথে মানিয়ে নিতে বাধ‍্য করে করে  ও নিজেই যেন মেয়েটাকে জোর করে বড় বানিয়ে তুলছে। মল্লিকার একটু কান্না পাচ্ছিল, এমন একটা লাল টুকটুকে জামার খুব শখ ছিল লারার অনেকদিন। বাড়ির ফ‍্যান্সি শপিংগুলো ওর শ্বাশুড়ি দিলারাকে ছাড়া কেউ ভাবতেই পারে না। ওনার পছন্দের ওপর সবার অগাধ আস্থা। লারার জন‍্য কখনোই উনি লাল জামা কিনতে দেন না, বলেন, "অমন ময়লা গায়ের রঙে লাল জামা পরলে ওকে আরও কালো দেখাবে"। মল্লিকার খুব কষ্ট লাগে এমন ভাষা শুনে ওর এতো মিষ্টি মেয়েটাকে ওদের ময়লা মনে হয় আর ওর ঘন বাদামি রংটা ওদের কাছে কালো মনে হয়। দিলারা নিজের শারিরীক সৌন্দর্য নিয়ে সবসময় একটা অসুস্থ ঘোরের মধ‍্যে থাকেন বলে মল্লিকার ধারনা। একসময়কার ডাকসাইটে সুন্দরী দিলারা হয়তো ক্রমআগ্রাসী বার্ধক‍্যকে মেনে নিতে একদমই পারছেন না তাই সারাক্ষণই প্রচন্ড মেজাজ খারাপ করে থাকেন আর যখন তখন নিজের সৌন্দর্য এবং প্রবল বিশ্বাসের নীল রক্তের অহংকার জাহির করতে থাকেন। ছোট্ট লারাটাকেও তাঁর দম্ভের আঁচড় কামড় থেকে বাঁচাতে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হয়। প্রতিদিন অন্তত একবার দিলারা মল্লিকাকে একটা কালো কন‍্যা সন্তান জন্ম দেবার জন‍্য খোঁটা দিয়ে যান। মল্লিকার যখন বিয়ে হয়েছিল দিলারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরখ করে নিয়েছিলেন ওর উজ্জ্বল ফর্সা গায়ের রং, নিখুত চোখ মুখের অনুপাত, গড়ের চেয়ে বেশি উচ্চতায় আকর্ষনীয় শারিরীক গঠন, ঘন মেঘের মত কোঁকড়ানো চুল, সুন্দর কন্ঠস্বর ও বাচন এবং চলনসই শিক্ষাগত যোগ‍্যতা, মল্লিকার এবং সেই সাথে ওর পরিবারের অন‍্যান‍্য সদস‍্যদেরও। এতো সাবধানতার পরও যখন লারা জন্মালো মল্লিকার বর তারেকের চেহারা ও গায়ের রঙ নিয়ে নিজের অজান্তেই দিলারার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়লো ওদের মা-মেয়ের ওপরেই। প্রয়োজনের বাইরে লারাকে একটা খেলনাও কখনো মল্লিকা কিনে দেয়নি কিংবা কিনে দিতে পারেনি কোনদিন, ওদের ভাষায় বিলাসিতা বলতে শুধুমাত্র নিজে একা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সবার অমতের বিরুদ্ধে গিয়ে মেয়েটাকে শহরের সবচেয়ে নামকরা বেসরকারি বাংলামাধ‍্যম স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। বাসায় লারাকে এখনও ও  নিজেই পড়ায় তবু অন‍্য স্কুলের তুলনায় এখানে খরচটা একটু বেশি, সে কারনেই মল্লিকা নিজের এবং লারারও প্রায় সমস্ত শখ আহ্লাদ একরকম বিসর্জন দিয়েছে। এমন কি লারা একটু বড় হবার পর থেকে যেহেতু স্কুল তেমন একটা দূরে নয় তাই স্কুলে আসা যাওয়াটা পর্যন্ত ওরা পায়ে হেঁটেই করে।তারপরও দিলারার মনে হয় সে তার মেয়েকে নিয়ে বড় বেশি ন‍্যাকামি করে আর এতো লাই দিতে থাকলে ভবিষ‍্যতে ওকে সামলানো দুষ্কর হয়ে পড়বে। 


আজ যখন সন্ধ‍্যায় অনুদের বাসায় ফোন করেছিল রাত প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ, শান্তার শ্বশুরই জানিয়েছিল যে সকালে শান্তাকে আবার হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর সন্ধ‍্যা সাড়ে সাতটায় ডাক্তাররা ওকে ক্লিনিকেলি মৃত ঘোষণা করে দিয়েছে। মল্লিকা হাসপাতালে ছুটে গেছে বাড়ির সবার আপত্তি সত্ত্বেও, সবাই বলছিল গিয়ে কি হবে, ভীড় বাড়িয়ে কি লাভ, অনেক রাতও হয়ে গেছে, সে তো আর খুব কাছের কেউ নয়, অতো বড়লোক লোকজন  আগ বাড়িয়ে এতো দরদ দেখালে লোকে কি বলবে, কে যাবে সাথে বা পরে ফিরবে কি করে ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি। আসল কথাটাই ওরা হয়তো এমন খারাপ খবরের সময়ে বলতে পারেনি যে এখন মল্লিকা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে ভাতটা কে রান্না করবে, টেবিলে রাতের খাবার, শ্বাশুড়ির ইনসুলিন, ওষুধ এগুলো কে সাজিয়ে দেবে কিংবা রাতের ধোয়াপালাগুলোই বা কে করবে? মল্লিকার কানে তেমন কিছুই ঢুকছিল না কিন্তু তারপরও যেন একটু কৃতজ্ঞ বোধ করছিল। আর ওর শুধু মনে পড়ছিল শান্তার ভীষণ বিষাদে ভরা বড় বড় চোখ দুটো, এতো অর্থনৈতিক বিভেদ,  যোগাযোগহীনতা কিংবা সামাজিক দূরত্বের পরও যে চোখদুটো বলতো যে ওরা দুজন একই রকম, বড় বেশি একই রকম। 


কামিনী গাছটার নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এইসবই ভেবে যাচ্ছিল মল্লিকা। হঠাৎ মনে হলো লোকজন ওকে খেয়াল করছে তাই গাড়ি বারান্দার দিকে এগোতেই দেখলো তারেক দাঁড়িয়ে আছে লাশের গাড়িটার কাছে। ওকে দেখতে পেতেই হড়বড় করে বলতে লাগলো, "এসবের মানে কি মলি? রাত দুইটা বাজে। কতক্ষণ এসেছি এখানে। এরাতো কেউ তোমার নামও জানেনা আর চিনতেও পারছে না। বলেছিলাম আগেই এইসব বড়লোকদের ব‍্যাপার। তাও এলে যখন এতোক্ষণ কি? আর কোনো লাভ কি হলো? ফোনটা পর্যন্ত সাথে আনোনি। এতো ইরেসপনসিবল হলে কিভাবে কি? কোনো ভদ্রঘরের মেয়ে এতো রাতে বাসার বাইরে থাকে? আম্মা খুব ক্ষেপে গেছে। এতোক্ষণেও ঘুমিয়েছে কি না কে জানে। তুমি তো জানো আম্মা এসব আদিখ‍্যেতা, উড়নচন্ডিপণা একদম পছন্দ করে না। ক্ষেপে গিয়ে কি করবে আল্লাই জানে।" মল্লিকা নির্লিপ্ত গলায় বললো " হুম। এখন বাসায় যাবো।" তারেক যেন একটু হকচকিয়ে গেল ওর গলাটা শুনে। অনেক্ষন হাঁটার পর একটা রিক্সা পেল। রিক্সায় হঠাৎ নিরবতা ভেঙে তারেক বললো "ও হ‍্যাঁ! তোমাকে তো বলাই হয় নি। প্রজেক্ট বানাতে গিয়ে লারা এন্টিকাটারে অনেকখানি হাত কেটে ফেলেছে তুমি বেরিয়ে যাবার পর। কি রক্তারক্তি, কান্নাকাটি, মহাগন্ডগোলের মধ‍্যে পড়লাম, তুমি একটা বাসায় নাই। পরে রাতেও খেলো না কিছু।" মল্লিকা কিছু বললো না, শুধু ল‍্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো দেখে যেতে লাগলো।


পরদিন সকালে লারার মুখটা দেখে মল্লিকার একটু বিরক্তই লাগতে লাগলো। এতো ছোটখাটো কারনে এতো মন খারাপ করলে পুরো জীবনটা কেমন করে কাটাবে। প্রজেক্টটা শেষ করতে পারেনি বলে ভীষণ মন খারাপ করে আছে আর মাঝে মাঝেই বাঁ হাতের ব‍্যান্ডেজ করা তর্জনীটা চোখের সামনে এনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে। মল্লিকা জানে এইসব প্রজেক্ট বানাতে আর ছবি আঁকতেই লারার সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে। খুব আগ্রহ নিয়ে কাজগুলো নিজেই করে, মল্লিকা নিতান্তই দরকার হলে একটু সাহায‍্য করে দেয়। তারপরও এতো বিমর্ষ হয়ে পড়াটা ওর একটু বেশি বেশিই মনে হল। স্কুলে যেতে যেতে লারাকে বললো "দেখো লারা, একদিন প্রজেক্ট রেডি না হলে এতো মন খারাপ করার কিছু নেই। সবসময় সবকিছু একদম তোমার মন মতো হবে না। চেষ্টা করলেও না। আর হাতের দিকে তাকিয়ে থাকলে হাত তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে না।" লারা কিছু একটা বলতে গিয়েও চুপ করে গেল। ওর শুধু মনে হলো মা খুব রেগে আছে। মায়ের অনুর মায়ের জন‍্য মন খারাপ এটা ও জানতো, কিন্তু এতো রেগে কেন আছে তা বুঝতে পারছে না। লারা এটাও ভেবে পাচ্ছে না যে অনু এখন কি করছে। গতকাল তো মা একলাই গেল। আর ফেরার পর এই প্রসঙ্গে কোন কথাই হয়নি। আচ্ছা অনুর মা কি তাহলে আর কোথাও নেই? এটা ভাবতেই লারা ভীষণ চমকে উঠলো আর হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো। ভীষন একটা ভয় যেন লারাকে চেপে ধরলো চারপাশ থেকে। মা আছে পাশেই তারপরও ওর খুব ভয় করতে লাগলো। দাদু গতকাল বলছিল অনুর মা ভাল না তাই এতো কষ্ট পেলো আর অনুও নাকি ত‍্যাঁদড় একটা মেয়ে, অনুর মা অনুকে কোন আদব কায়দাই নাকি শেখায়নি। অনুরা একদিনই এসেছিল ওদের বাসায় গত বছর। ইন্ডিয়া থেকে ফিরে কিছু ক্লাসের পড়া তুলে নিতে। দাদু খুব বিরক্ত হয়েছিল সেদিন। আর বলছিল ওরা এতো বড়লোক শুধু কটা চকলেটই আনলো ইন্ডিয়া থেকে! হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ায় মল্লিকার জীজ্ঞাসু চোখের দিকে তাকিয়ে লারা প্রশ্ন করলো "আচ্ছা মা, অনু খুব দুষ্ট তাই বলেই কি ওর মা ওকে ছেড়ে চলে গেছে?" মল্লিকা একটু ঘাবড়ে গেল লারার এমন প্রশ্ন শুনে। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বললো "না লারা, অনুর মা অনুকে ছেড়ে কোথাও যায় নি আর কোনদিন যাবেও না।" মল্লিকা একটা রিক্সা ডেকে নিল। লারাটার হয়তো শরীরটা তেমন ভাল নেই আর তাছাড়া ওর নিজেরও ভীষণ ক্লান্ত লাগছে।


লারাকে স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে মল্লিকা বাইরে শেডের নিচে বেঞ্চিগুলোর একটাতে বসলো। অন‍্য আরো কিছু মায়েরাও আছে আর থাকেনও সবসময়ই। সংসারের এতো ব‍্যস্ততার মধ‍্যে অনেকেই একটু দম ফেলে গল্পগুজবে মেতে ওঠেন কিছুক্ষণ। মল্লিকার তেমন সময় থাকেনা বেশির ভাগ সময়ই, সে লারাকে ছেড়েই হন্তদন্ত হয়ে বাসায় ছুটে যায়। কারন ঘরের আসবাবগুলো ঠিকসময়ে ঝাঁট দিয়ে পুরো ঘর গুছিয়ে না রাখতে পারলে পরে ঝামেলায় পড়তে হয়। বেলা এগারোটা নাগাদ খাদিজা বুয়া আসে আর  হুড়মুড় করে দশ পনেরো মিনিটের মধ‍্যে ঘরটা কোনরকমে ঝাড়ু দিয়ে মুছে চলে যায়। সপ্তাহে একদিন ধোয় দুটো টয়লেট, সেদিন আর ঘর মোছে না। এই এতটুকু কাজ করেনা বলে মল্লিকাকে প্রতিনিয়ত বাঁকা মন্তব‍্য শুনতে হয় দিলারার কাছ থেকে। তা যাক, ওসব এখন ওর গা সওয়া হয়ে গেছে কিন্তু আবার ভাবে আসলেই কি তাই? আজ মল্লিকা বাসায় ফেরার তাড়া অনুভব করছে না একদম। চুপচাপ বসে থাকবে ঠিক করে অনেকক্ষণ। কিছুক্ষণের মধ‍্যেই বুঝতে পারে শান্তার মৃত‍্যুর খবরটা এর মধ‍্যেই চাউর হয়ে গেছে। এই ছোট শহরটায় অমন সুন্দরী অমন বড়লোক বাড়ির কম বয়সী বউ মরে গেলে চাউর হবারই কথা। মল্লিকা একটু আনমনা হয়েই বসে থাকে কিন্তু চারদিকের জমে ওঠা আলাপচারিতাগুলো ওর কানে এসে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে যায়। 

"আহারে... এখনও মেনে নিতে পারছিনা আপা। বাচ্চাটার কি হবে?" 

"কি কষ্টটাই না পেল বেচারি। বরটাও নাকি পরে অনেক করেছে।"

"দেশের বাইরে নিল না, এতো টাকা ওদের। বুঝিনা বাবা।"

"আরে টাকা থাকলে হয়? মনও লাগে। বিয়ের পর থেকে একদিনও নাকি শান্তি দেয়নি শ্বশুরবাড়ির লোক। আমার বরের এক ভাগ্নির তো ওর এক মামাতো দেওরের সাথে বিয়ে হল সেদিন।"

"বাদ দিন ভাই, বাচ্চাটার কথা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে। আপনারা কেউ গিয়েছিলেন? শুনেছি  নটায় জানাজা ছিল, এতোক্ষণে হয়তো মাটি দিচ্ছে।"

"বাদ দেব কেন? অমন পরীর মতো হাসিখুশি মেয়েটা যে ওদের চোখের সামনে ক্ষয়ে যাচ্ছিল প্রতিদিন ওরা টেরও পেল না? শেষে নাকি শুধু হাড় আর চামড়া ছিল শরীরে।"

"আরে সেও কিছু কম ছিল না, শুনেছি বেশ চোপা করতো। আর ওই বিয়ের আগের একটা সম্পর্ক ছিল, ওটা নিয়ে তো সারাক্ষণ অশান্তি লেগেই থাকতো।"

"আরে রাখুন তো আপা, বিয়ের আগে কতো কিছুই তো থাকে কতজনের, তা এতো সমস‍্যা থাকলে ওরা ওই মেয়ে ঘরে তুললো কেন? বেচারি একটু ফেসবুকও ইউজ করতো না, ফোনও নাকি প্রায়ই বন্ধ থাকতো। আর বরকে ছাড়া কোথাও যেতোও না। একলা স্কুলে আসতো মেয়েকে নিতে শুধু, তাও গাড়ি নিয়ে। পুরোনো বন্ধুবান্ধবদের সাথে পর্যন্ত নাকি যোগাযোগ ছিল না।"

"লোভ আপা, লোভ। শুনেছি ওর বাপের বাড়িরও কিছু কম নেই। বিয়ের সময় অনেক কিছু পেয়েছিল। ভাইরা একমাত্র বোনকে সব প্রাপ‍্য একদম মিটিয়ে দিয়েছিল।"

"বরটা তো সারাদিন ইয়ার দোস্ত নিয়ে ক্লাবেই পড়ে থাকতো। শেষ কিছুদিন করেছে। তাতে কি? কিছুদিন পরেই ভুলে যাবে। দেখবেন হয়তো আরো বড় দাও মারবে কদিন পর। মাঝখান থেকে বাচ্চাটা..."


মল্লিকার মাথা ধরে যায় আবার ভীষণ। একটু টলতে টলতেই ও বাড়ির দিকে পা বাড়ায়। মনে হয় এক্ষুনি পড়ে যাবে মাটিতে। গতকাল বিকেলের পর থেকে কিছুই মুখে তোলেনি। রোদের তেজটাও বেড়ে গেছে অনেক। ও হাত তুলে একটা রিক্সা ডাকে, গলা দিয়ে কিছুক্ষণ কোন স্বরই বেরোতে চায় না, তারপর অনেক কষ্টে বলতে পারে কোথায় যাবে।




লারার পরীক্ষা শেষ হয়েছে গতকাল। ওর ফুপুর সাথে তাই একটু বেড়াতে গেছে বাইরে। এমনিতে মল্লিকা ওকে একলা ছাড়ে না। তাও ভাবলো ও তো আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, একটু একটু করে সবার সাথে মিশুক আলাদা করে। আর ওর নিজের জগৎটাও তৈরী করে নিক। সারাক্ষণ মায়ের পায়ে পায়ে ঘুরলে পরে পৃথিবীটা ওর খুব অচেনা মনে হতে পারে। সোমা ওর ননদ, ঢাকায় হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করছে। এখন কিছুদিন ক্লাস নেই তাই বাড়ি এলো। এখনই বেশ স্বাবলম্বি হয়ে উঠেছে, নিজের খরচ নিজেই চালাচ্ছে পার্টটাইমে টিউশনি আর এটা ওটা করে। মল্লিকার বেশ লাগে ওর উচ্ছল আর একরকম স্বাধীন জীবনযাপনের গল্প শুনে। তারেকও খুশি কারন বোনকে ওর তেমন কিছু দিতে হয়না। কিন্তু দিলারা খুব বিরক্ত পুরো ব‍্যাপারটা নিয়ে। ওর ঢাকায় চলে যাওয়া, হোস্টেলে থাকা পুরো বিষয়টার তিনি ঘোর বিরোধী। হোস্টেল কোন ভদ্র মেয়েদের জায়গা নয়। বিরুদ্ধাচরণ করেও তেমন কিছু আর করতে পারেন নি শেষ পর্যন্ত কারন স্বামী মারা যাবার পর তাঁর অবস্থান নিয়ে তিনি এখন খুব শংকিত থাকেন। ছেলের কথার ওপর আর তেমন একটা কথা বলেন না আজকাল। আর এই থম মেরে থাকা, বেশি বোঝা বউটাই তো আরো আগুনে ঘি ঢেলেছিল ননদটাকে শহরের বাইরে পাঠাতে। তবে এবার তিনি বদ্ধপরিকর, সোমার বিয়ে দিয়েই তবে ছাড়বেন। সোমা ঠিক মায়ের মতো না হলেও একেবারে ফ‍্যালনা নয়, একটু চেষ্টা করলে একটা বড়লোক বাড়িতে ঠিক সম্বন্ধ করতে পারবেন। আর তারেকের বড় চাচী বলছিল যে তার হাতে কয়েকটা বেশ ভাল পাত্র আছে। আল্লা চাইলে এবার দায়িত্বটা সেরে ফেলে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন এমনটা ভাবতে ভাবতে দিলারা তার বিকেলের চাটাতে চুমুক দিলেন আর সাথে সাথেই থুথু করে চিৎকার করে উঠলেন "মলি এটা কি চা হয়েছে? কি এটা? না হয়েছে লিকার, না হয়েছে দুধ। এই অলক্ষ্মী বউ ঘরে আসার পর থেকে একদিনও শান্তি পেলাম না। সকাল বিকাল একটু আরাম করে চা খাব তারও জো নেই। এরকম হাভাতে ঘরের মেয়ে আনলে এমনই তো হবে...।" আজ মলির কি হল কে জানে মাথাটা প্রচণ্ড গরম হয়ে গেল। ও দিলারার সামনে থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে রান্নাঘরের সিঙ্কে সশব্দে রেখে আসলো। আর ফিরে এসে নিজের চায়ের কাপে নির্লিপ্তভাবে চুমুক দিতে থাকলো। মল্লিকার স্পর্ধা দেখে দিলারা একেবারে নির্বাক হয়ে গেলেন। তারেকও আশ্চর্য হয়ে গেল ওর এমন আচরণ দেখে। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বললো "এগুলো কি মলি? এগুলো কি ধরনের বেয়াদবি? তুমি এখনই আম্মার কাছে মাফ চাও। এখনই। তারপর ঠিকঠাক এক কাপ চা বানিয়ে আনো।" মল্লিকা যেন কিছু শুনতেই পায়নি এমন ভাব করে টেবিল গোছাতে শুরু করলো। তারেক এবার উঠে গিয়ে মল্লিকার পাশে গিয়ে প্রচণ্ড রেগে বলতে থাকে "মলি! এটা কিন্তু খুব বাড়াবাড়ি করছো। এক্ষুনি মাফ চাও।"। মল্লিকা কোন উত্তর না দিয়ে রান্নাঘরের দিকে যায়। তারেক এবার আরো রেগে যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে থাকে। রান্নাঘরে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে "এসব বেয়াদবি কিন্তু এখানে চলবেনা মলি। এসব করে কিন্তু তুমি এ বাড়িতে থাকতে পারবেনা।" মল্লিকা তারেকের দিকে ঘুরতেই তারেক আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না, রাগে তারেকের সারা শরীর কাঁপতে শুরু করলো, "মলি..." বলে চিৎকার করে উঠলো আর ওর ডানহাতটা উঠে গেল শূণ‍্যে। কিন্তু মল্লিকা তারেকের হাতটা ধরে নিল ওর গালে পড়বার আগে একটুও চোখের পলক না ফেলে। আর চোখে চোখ রেখেই এক ভৌতিক শীতল গলায় বলে উঠলো "সাবধান তারেক! সাবধান! আমি এতো সহজে হারবো না। কোথাও যাবোও না। মরবোও না। এই বাড়িতেই থাকবো। শুধু তোমরা জেনে নাও তোমাদের সাথে থাকতে আমার ঘেন্না করে।"





টুকরো কথা : দেয়াল

যখন যেখানে যাই, হায় এ কি কপাল, একখান প্রেমিক জুটে যায়, তারচেয়েও বলা ভাল জুটতে চায়। তারা উন্মুখ হয়ে তাকায় আর স্বপ্নীল চোখে যেন বলে "চলো মেয়ে আমরা ঘুরতে যাই। দূরে কোথাও। একটা নৌকো নিয়ে ঘুরবো সারাদিন। কিংবা অচেনা একটা গ্রাম পায়ে হেঁটে চষবো দুজন। পরের গাছের কুলটা পেয়ারাটা দেখো কেমন ছিঁড়ে আনবো তোমার জন‍্য। কিংবা মজা করে খেয়ে নেব কুৎসিত চা বিস্কুটও। কিংবা গিয়ে বসতে পারি একটা সুইমিংপুলের ধারেও, ঠান্ডা কফি আর ঠান্ডা ফ্রাইস খেতে থাকবো ঘন্টার পর ঘন্টা। আমার হাত ধরো, দেখো ঠিক ওই উঁচু পাহাড়টা চড়ে নেব। তুমি রেখো এই কাঁধে মাথা, আমি তোমায় কথা বলতে বলবো না, নিজেও বলবোনা একটাও শব্দ। সমুদ্রের ধারে তোমার চোখে এনে দেব নীল রং, একদম সত‍্যিকারের। কিংবা দুজনে নাহয় একটা ভীড় রাস্তায় রঙিন আইসক্রিম  চাটতে চাটতে ভীড়েই হারিয়ে যাবো। বিশ্বাস করো আমার মাথায় নেই কোনো কুচুটে। পকেটের শেষ টাকাটা খরচ করবো একটু নির্জনতার জন‍্য আর দেখো ঠিক খুঁজে পাবে ডানাগুলো।" 

উফ ! কি যন্ত্রণা ! এদের মাথায় জানি আমি শয়তানেরই বাসা। তাই আমি কান বন্ধ করে রাখি যেন কিছুই শুনতে না পাই। নিজেকে বলি "না না না... কিছুতেই শুনবো না...সত‍্যি বলুক বা মিথ‍্যা, কিচ্ছু যায় আসে না। প্রতিদিন কেন কোনোদিনই প্রথম দিনের মতো হয়না। আমার আছে দেয়াল। সাদা রঙের দেয়াল। আমি ফিরে যাব দেয়ালের কাছে। সে থাকে চিরকাল একইরকম। সেই শুধু চিরকাল সমান একাগ্রতায় শুনে যায় যত কথা আছে আর ঠিক একইভাবে তাকিয়ে থাকে। হায় প্রিয়তম দেয়াল, আমি শুধু তোমারই, আর শুধু তোমাকেই ভালবাসি।"



Tuesday, January 5, 2021

স্কেচ : আট

আরে! আরে! কি করছো?


"নাচছি।"


এ‍্যাঁ!!! এটা আবার কেমন নাচ? কোত্থেকে শিখলে?


"বাগানের একটা কেঁচোর কাছ থেকে। ওর সাথে বন্ধুত্ব হলো আজ। ওর নাচটা পছন্দ হলো তাই শিখে নিলাম।"


কি! কেঁচোর সাথে বন্ধুত্ব? কেঁচোর সাথে নাচ? তোমার বন্ধুরা কই?


"ওই যে! বাগানে। সকাল হোক, পাখিরা আর মৌমাছিরাও আসবে।"


ধ‍্যাৎ! আমি তোমার মানুষ বন্ধুদের কথা বলছি।


"ও। ওদের কেউ ছেড়ে গেছে আর কেউ তাড়া খেয়েছে।"


কি? কেন এমন করলে? ছেড়ে গেল কেন? আর তাড়ালেই বা কেন?


"বাব্বা!!! আমাকেই দুষছো দেখি!!! তুমি কে ভাই??? যাও যাও। তুমিও ভাগো তাড়াতাড়ি।"


আরে, সেভাবে ঠিক বলতে চাইনি। কি হয়েছিল তাই শুধু জানতে চেয়েছি।


"ওরাই তো বললো আমি নাকি ভালো নই, একটা আস্তো হাড় বজ্জাত। আরো বললো জানোতো? বললো আমি নাকি চৌদ্দ নম্বর!"


কি বলছো! মুখের ওপর বললো?


"কেউ বললো মুখের ওপর আর কেউ বলছিল একে অন‍্যকে। আমি নিজে শুনেছি।"


হুম... যাকগে... বাদ দাও। কিন্তু ওই যে একজন ছিল তুমি ঘুমিয়ে পড়লে আসতো, সে কোথায়?


"সে তো আর আসে না। ভুলেই গেছে আমাকে।"


হুম... তবে ওকেও বাদ দাও। কেঁচোটাই ভালো।


"এতোক্ষণে ঠিক কথাটা বললে চাঁদু! চলো তোমাকেও নাচটা শিখিয়ে দিই। কেঁচোটাতো ঘুমুচ্ছে, তুমিই একটু আমার সাথে নাচো... এই যে এভাবে দাঁড়াও... তারপর এই...এইরকম... ডিং ডিং ডিং ডিং | ডিং ডিং ডিং ডিং | এইতো দারুণ... ডিং ডিং ডিং ডিং..."


https://soundcloud.com/mykebogan/6-beers-lightweight?ref=clipboard&p=a&c=0




আবোলতাবোল : আট

চীন থেকে এসেছিল 

হট মিস চিং চিং চুঁ

সরু সরু হাত পা

উড়ে যেত দিলে ফুঁ

বললো এসে তুমরা ভাই

ভীষণ রকম বোকা তু!

গ্লোবাল কম্পিটিশনে

হয়ে যে যাবে ছাতু

এখোনো খাও ডাল ভাত

পোকা মাকড় চাখো না

না হলে সর্বভুক

পৃথিবীতে টিকবে না

সারাদিন ফেসবুক

গুজগুজ ফুসফুস

তুমাদের সরকার আন্ধা নি?

কোয়ালিটি কন্ট্রোল

ট‍্যালট‍্যালে ঝোলঝোল

এভাবে চলবে নাকি

আমদানি আর রপ্তানি?

তুমাদের মাইয়াগুলা 

এতু করে খাটনি

তারপরও চেহারা দেখো

একেকটা ফকিন্নি

পোলাপানগুলা তু

নিজের ভাষাই বুঝে না

ইংরেজী ঠিক শিখেনা

চাইনিজ তু জানেইনা

ক্লায়েন্টগুলা লেখাপড়া 

একদম কি শিখেই নাই

বিসনেস মিটিং এ

দাড়িমোচে চুলকায়

অ‍্যামবাসেডারটা

তুমাদেরই ঠিক তু

না কি সে বুঝেই না

আমাদের শর্তু

তুমাদের রাস্তায়

এতু নাঙ্গা ভুখারা

এমনও তু দেখি নাই

যখন গেছি সাহারা

তুমরা নাকি নদীমাতৃক

নদী তু খুঁজে পাইনাই

এতু দূর্গন্ধ 

বেশি একটা ঘুরিনাই

রিসোর্টের নামে তুমরা

কি বানাইসো এগুলা?

কয়টা বিল্ডিং তুলে

জমিগুলা খাইলা?

শালবনে শাল নাই

সুন্দর বনে বাঘ নাই

পাহাড় নাই রাস্টিক

সমূদ্রতে প্লাস্টিক

কতু আর মন টেকে

পাঁচতারা হোটেলটাতে

বাইরে নাকি খুব ভয়

রেপ করে গলা কাটে?

এমন করে তাকায় যেন

জীবনে মেয়ে দেখে নাই

ওরা সব কারা সব

ওদের ঘরে মেয়েরা নাই?

এতু বাচ্চা পয়দা করো

তুমাদের কি শরম নাই

নিজেকে নিয়েই ভাবো

দেশের কোনো চিন্তা নাই

এতু সময় নষ্ট করো 

কাজ করো কখন আর

পরের পেছনে লাগা

এটা কোনো ক‍্যারিয়ার?

কারিগরি বুদ্ধি নাই

বাস্তব জ্ঞান নাই

কি করবা দিয়ে শুধু

বিদ‍্যা মুখস্তু?

রোবটরা এর চেয়ে ভাল

জানে আপডেট সমস্তু

স্কুলগুলা এতু ভীড়ে

দেখবা ভেঙে পড়বে

মাদ্রাসা আবার কি

ওটা দিয়ে কি হবে?

বাচ্চাদের ছোটবেলায়

ধনী গরিব শেখাচ্ছো

ভবিষ‍্যতে কি করবে

তা নিয়ে ভেবেছো?

এতো তু স্বপ্ন দেখো

তা কারা পূরণ করবে

সবাই এক না হলে

আগুন শুধু জ্বলবে

উগ্রবাদী না তাড়ালে

একদিন হবে ব্ল‍্যাকলিস্ট

তুমাদের বাদ দিয়ে

গুনে নেব সাউদইস্ট

কথাগুলো বল্লাম 

কানে কিছু ঢুকলো?

এই বলে চিং চিং চু

ফ্লাইট ধরতে ছুটলো












স্কেচ : সাত

গোলাপ গাছে নতুন নতুন কুঁড়ি। দেখেছো তুমি?


"হুম"


খুশি নও মনে হচ্ছে?


"..."


সবচেয়ে সুন্দর গোলাপটা কাকে দেবে ঠিক করেছো?


"..."


মন খারাপ তোমার?


"গোলাপগুলো রোদে শুকোবো তারপর RoseTea বানিয়ে খেয়ে নেবো।"


কিন্তু সেদিন তো অন‍্যরকম বলছিলে


"সত‍্যি বলিনি তখন। এখন সত‍্যিটা বলছি।"


কোনটা যে সত‍্যি বল আর কোনটা যে মিথ‍্যা বল! বুঝিনা বাবা!


"তোমার বোঝার কি দরকার?"


তবে কে বুঝবে?


"সত‍্য বুঝবে আর মিথ‍্যা বুঝবে ওরা কে কি। এতো জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকে, ওদেরই বুঝে নিতে দাও।"


https://soundcloud.com/crxxx/replay-1?ref=clipboard&p=a&c=0




বাগধারা চরিত

অকটবিকট অক্কা পাবে অকর্মার ধাড়ি

অগ্নিবাণে অথই জলে অতিচালাকের নাড়ি


আউড়ে তাকায় আঁখি ঠারে আঁজলপাঁজল গাড়ি

আথালিপাথালি আছাড় খায় আচমকা সুন্দরী


ইঁচড়ে পাকা ইঁদুর কলে ইতি উতি ভাবে

ইতি টানে ইন্দ্রপতন তাই ইষ্টনামে কাঁপে


উচিত শিক্ষা উচিত শাস্তি উচিত সময়ে পাবে

উটক-পাটক উটকো কথায় উল্টো বিপদ হবে


ঊনপাঁজুরে ঊনখেজুরে ঊর্ধ্বনেত্রে তাকায়

ঊনকোটি চৌষট্টি সমস্তটাই চায়


এই বেলা এওজ-তরাজ এঁটে ওঠা দায়

এক আঁচড়ে এসপার-ওসপার, একা দোকা ঠায়


ওই কি বলে, ওই পর্যন্তই, ওজন করা প্রেম

ওতে ঘাতে চলতে পারলে ওজন দরে কেন


কঞ্জুসের ভাত্তাখোড়ে দিবানিশি কর্ম সারে, কওয়ার কথা নয়

কাঁচা ওলে পা না দিলে, কাগাবগা না করলে,

কাটান ছেঁড়ান হয়?


খচিয়ে দিয়ে খচখচানি খড়ের আগুন ধরায়

খুদে রাক্ষসের খিল ধরবে খ‍্যাঁচামেচির চিপায়


গজরগজর গছিয়ে দিতে গড়গড়িয়ে চলে

গেঁড়ে বসেও গজাল ঠোকে গান্ডেপিন্ডে গিলে


ঘটি-চোর ঘন্টা গরুড় ঘটিরামের ছানা

ঘা-করানী, ঘর-জ্বালানী শেখেনা ঘাট মানা


চই চই চই চকমকানো চকরা-বকরা জামা

দেখলে চক্ষু চড়ক গাছ চঙলমারা প্রেমা


ছক কেটে যায় ছন্দেবন্দে ছরাদ করাই সার

ছাই দিয়ে যায় বাড়া ভাতে ছালনচাখা ছার


জোচ্চোরেতে জগ দিয়ে যায় গোপনে জুত মতো

জোঁকের মুখে নুন পড়বে ঠিক জন্মের মতো


ঝকমারির ঝলসা কানায় ঝাঁটা পিটিয়ে যায়

ঝোঁকের মাথায় ঝিঁ ঝিঁ ধরে ঝোলঅম্বল এক হয়


টেনে বুনে টক্কর খেয়েও টঙস টঙস হাঁটা

ট‍্যা-ফোঁ হাঁড়ি টোল খেয়ে যায়, গরম দেখায় টাকা


ঠাউরে দেখা ঠাওর করা ঠিকে ঝিয়ের কাজ কি?

ঠুঁটো জগন্নাথ ঠান্ডা মারে ঠেলা মারায় আজ কি?


ডজন ডজন ডবকে ওঠার ডগমগানো হাসি

ডুকরে কাঁদায় ডাহা মিথ‍্যে, ডিগবাজি খায় রাশি


ঢং করা ঢনা ধরা ঢাক পিটিয়ে গায়

ঢলঢলিয়ে ঢপের কেত্তন ঢেউ খেলিয়ে যায়


তত্ত্ব করে, তল করে না, তক্কে তক্কে থাকে

তাগাড়মাখা তারিয়ে খেলেও তাসের ঘর বাঁকে


থৈ থৈ থৈ থলথলে থপথপাথপ হাঁটে

থু থু করে থোবড়া নেড়ে, থ‍্যাবড়ানো নাক বাঁটে


দয়ে মজানো দক্ষযঞ্জ দক্ষিণ হাতের কাজ নয়

দড়ি ছেঁড়া দমবাজেদের দরজা দেয়াই ঠিক হয়


ধরনা দেবে, ধাওয়া করবে, ধস্তাধস্তি শেষে

ধান শুনতে কান শুনলে ধর্মে সইবে কি সে?


নাক উঁচিয়ে নরম গরম নগদ বিদায় দিলে

নেমকহারামের নবাবি চাল দেখবে নোনা জলে


পটোলচেরা চোখের সাথে পটোল তোলা ফ্রি

পঁচা শামুকে পা টা কেটে পঞ্চত্ব প্রাপ্তী


ফপর দালাল ফড়ফড় করে, ফাঁক করে দেয় পকেট

ফাঁড়া কাটানোর ফাঁকা আওয়াজে ফাঁপ ধরে যায় পেট


বজ্র আঁটুনি ফষ্কা গেরো বগলদাবা গাঁট্টি

বয়সকালের বদলা নিতে বালির বাঁধে ঘাঁটি


ভবলীলা সাঙ্গ হবার ভয়েই কেঁচো হওয়া

ভিটে মাটি চাঁটি হলে ভুতের বোঝা বওয়া


মই কেড়ে নেয় গাছে তুলে, মগের মুলুক না কি?

মটকা মেরে থাকলে পড়ে, মড়াকাঁদা যায় কি?


যখনকার যা তখনকার তা, যদু মধুর জীবন

যেমন দেবা তেমন দেবী, যো-সো, যেমন তেমন


রকবাজিতে রক্তগঙ্গা বইতে পারে রোজ

রগরগে সব রদবদলের রাঙা মুলোর খোঁজ


লক্ষ্মীছাড়া লগি পোঁতার লজ্জার নেই মাথা

ল‍্যাংবোটে শোনে না লাখ কথার এক কথা


শকার বকার করাই কাজ, শাপ-শাপান্তের দীক্ষা

শাঁখের করাত কেটে যায় শবরীর প্রতীক্ষা


ষষ্ঠী মা দূরেই থাকে ষাড়াষাড়ির বানে

ষোল কড়াই কানা হলো ষাঁড়ের গোঁয়ের টানে


সইয়ে সইয়ে সতিন কাঁটা, সয়ে যাওয়া আর কতো?

সর্বঘটে কাঁঠালি কলা সাতকথা কয় যতো


হকের ধনের উঠলে কথা হচ্ছে হবে করে

হত‍্যে দেওয়া হীরের টুকরো হাপিত‍্যেশে মরে




স্কেচ : ছয়

কাল কি হবে?


"আকাশ কালো হবে মেঘে। ঝুম বৃষ্টি নামবে। সারাদিন বৃষ্টিই হবে।"


বাহ! দারুণ তো! তুমি কি করবে?


"ভিজবো। যতক্ষণ বৃ‍ষ্টি না থামে"


আর?


"আর বাগানে যেখানে জল জমবে তার ওপর ঝাঁপাবো।"


হাহাহা...


"তারপর বারান্দায় মেঝেতেই শুয়ে পড়বো ভেজা কাদামাখা গায়েই। আর ঘুমিয়েও পড়বো।"


জ্বর উঠে যাবে। নিউমোনিয়াও হয়ে যেতে পারে।


"হুম। অনেক জ্বর উঠবে। আগুন জ্বর। চোখ খুলতে পারবোনা। শুধু একটা ঠান্ডা হাতের জন‍্য অপেক্ষা করাটাই বুঝতে পারবো মাথায়।"


ঠান্ডা হাত! কার হাত?


"তুমি চিনবে না। আমি ঠিক চিনে নেবো জ্বরের ঘোরেও।"


https://soundcloud.app.goo.gl/R9cRD




Monday, January 4, 2021

স্কেচ : পাঁচ

তা কেমন কাটছে দিনকাল?


"বিভৎস মজায় !"


এখন কি করছো?


"মজা !"


গতকাল ওখানে কেন গিয়েছিলে?


"এমনি। একটু মজা করতে !"


তা ওরা কি বললো?


"মজা দ‍েখাবে !"


তুমি কি বললে?


"উফ! খাবারগুলো তো দারুন মজা !"


আর কিছুই বললে না?


"নাহ ! সেটাইতো মজা !"


জীবন মানে কি বলোতো?


"মজা !!!"


https://soundcloud.app.goo.gl/fz2cC




আবোলতাবোল : সাত

কাচ্চি বলে হাঁচ্চি দেবো

বাঙাল বাপের পো

আমি হলাম সাচ্চা মুঘল

রেডি সেট গো

কোভিড দিনে অলস বেড়াল

লেপের তলে শো

হোমে পাবি ডেলিভারি

দুশ্চিন্তা নো

নো চিন্তা ডু ফুর্তি

পারলে দিবি ক‍্যাশ

নইলে দিবি ক্রেডিট কার্ড

অ‍্যারেঞ্জমেন্টে ব‍্যাস

হায়দ্রাবাদি লক্ষ্মই

কোলকাতা বা ঢাকাই

যেটা চাবি সেটাই পাবি

ছাড়তে হবে টাকাই

রেস্টুরেন্ট না হোমমেইড

বাসমতি না পোলাও

মেনু দেখে বেছে নিয়ে

ফুডপান্ডা বোলাও

কে বাধা দেয় কার বা সাহস

সকাল দুপুর সন্ধ‍্যাতে

লজ্জা কিসের ব‍্যস্ত থাক

গান্ডে পিন্ডে গেলাতে

স্বাদে গন্ধে বন্ধ থাকুক

দুই চোখ দুই কান

কোথায় শোকের উঠলো মাতন

কার ক্ষুধার্ত প্রাণ

কে পঁচছে হাসপাতালের

বারান্দাতে শুয়ে

কে চলেছে অনিশ্চিতে

শেষ সম্বল খুইয়ে

কার গায়ে নেই কাঁথা কম্বল

কার গায়ে নেই জামা

কে খুইয়েছে মানসম্মান

কে ধরেছে ধামা

কে নেমেছে ঘুচিয়ে দিতে

বাংলাদেশের মুখ

কে পেয়েছে ঘরে বাইরে

ধর্ষন করার সুখ

কে হয়েছে মাতব্বর

কে হয়েছে প‍্যাঁচা

কচি বধু পেল আবার

কোন ধামড়া চাচা

কে ঝাড়া দেয় হাত পা গুলো

কার হালকা ঘাড়

কে গিয়েছে কলসি গলায়

খেয়া নদীর পাড়

কোন শিশুটি নতুন এলো

ধোলাইখালের তীরে

কোন শিশুটি অবাক হারায়

গুলিস্তানের ভীড়ে

কে দান মারে শেয়ার খানায়

নতুন ছক কষে

শেরের ওপর শোয়া শের

পাকাটা টসটসে

কে খেয়ে নেয় রাস্তাঘাট

ব্রিজ কালভার্ট নদীও

কে পেয়ে যায় নতুন প্রাসাদ

তারই সাথে গদিও

কার সোনা মুখ চুন হয়ে যায়

কার হয়ে যায় ইয়ে

রাজনৈতিক অরজিতে

কার হয়ে যায় বিয়ে

কে সাফ করে ঘর ও দুয়ার 

কে সাফ করে রাস্তা

কোন মেয়েটা জাতে ওঠে

কোন মেয়েটা সস্তা

কোন মেয়েটা বিড়ি ফুঁকে

কোন মেয়েটা মদ খায়

কে গিয়েছে বাঘের পেটে

কেই বা আবার সোনা পায়

কে করছে বন উজাড়

কে লুটেছে ভান্ডার

কে হয়েছে গোল্ডম‍্যাডেলিস্ট

কে হয়েছে আন্ডার

কে করেছে হতাশাকে

প্রাণের প্রিয় সঙ্গী 

কে পড়েছে নতুন প্রেমে

কে হয়েছে ঢঙ্গী

কার ঘরে আজ ভাত চড়েনি

কার ভেগেছে বর

কে পড়লো গাড়ির তলে

কার বা মরন জ্বর

কোন শিল্পী একলা ঘরে

নিজের হাতে কামড়ায়

কে ভুগে যায় মরন ব‍্যাধি

কে ফোঁটে সুঁচ চামড়ায়

কারা করে চড়ুইভাতি

কারা করে পার্টি

কারা গেছে করতে মিছিল

কার হাতে রয় বাটি

কারা আবার ফন্দি করে

আগুন লাগায় বাসে

এরা আবার কারা রে

কোত্থেকে সব আসে

খাবি দাবি কলকলাবি

জীবন তো একখান

পকেট ভরা টাকা আছে

চুকিয়ে দিবি দাম

কার খাস কার বা পরিস

কিসের এতো চিন্তা

যতো পারিস কাচ্চি খেয়ে

সুখে কাটা দিনটা




টুকরো কথা : অপেক্ষা

আজ ভোরে ঘুম থেকে উঠেই নিজের SexyVoice record করতে চাইলাম। কাল গভীর রাতেও চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু হলোনা। আমি কি তবে আর আগের মতো উরাধুরা নই একেবারেই! ভদ্রটি হয়ে গেলাম না কি? কদিন হলো ভাঁড়ার শুকনো। আর শুকনো মাল এঘরে নিষিদ্ধ অনেক দিন হয়ে গেল। সবুজ চা, সোনালি চা, গোলাপী চা আর দুবেলা ডিটক্স খেয়ে খেয়ে আমার সব দূঃখ যন্ত্রণা কি শেষ পর্যন্ত উবেই গেল? তবে কি "আহা কি আনন্দ" ধরনের গান লিখতে পারবো? আমার পরিবারের বাচ্চাগুলো তবে সত‍্যি খুব খুশি হবে। ওরা আনন্দ করতে চায় নাচতে চায়। ওরা সকাল বিকাল আমার খবর নেয়, কিসি পাঠায়, হৃদয় পাঠায়, কাছে আসতে চায়, ঘুম পাড়াতে চায়, স্নান করাতে, খাওয়াতেও চায়। ওরা জাগিয়ে রাখতে চায় যেন প্রতিদিন। কোনোদিন ওদের ধন‍্যবাদ দিয়েছি কি না মনে পড়ছেনা। আমার Gym Instructor কে একদিন বলেছিলাম "Thank U very much. U know, I thought I couldn't get up again." ভদ্রলোক একটু আবেগপ্রবন হয়ে পড়েছিলেন হয়তো। অতো লোকজন না থাকলে হয়তো জড়িয়ে ধরতেন একবার। দুজন Instructor ই এর আগে আমাকে কয়েকবারই জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার WorkoutAim এর ব‍্যাপারে। আমার Ex Colleague রা প্রতিদিন আমাকে বলতো "U r so Beautiful. U look Gorgeous!" মেয়েরা, ছেলেরাও। প্রথমে অবাক হলেও পরে নিজেও ভাবতে শুরু করেছি I m Beautiful. ওরা আমাকে বাইরে কফি খেতে লাঞ্চ করতে নিয়ে যেতো। অফিসের ক‍্যাফেতে একলা গেলে হাসিমুখে সামনে এসে বসতো। Resign দেবার পর একদিন একজন এমনও বলেছিল "আপনাকে প্রতিদিন দেখবো না, এমনটা আমি সত‍্যি বলতে কি ভাবতেই পারছি না"। চাকরি ছাড়ার পর ওরা প্রায় একবছর প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আমার খবর নিয়েছে। দেখা করতে চেয়েছে। আমি কেন যেন নির্লিপ্ত থেকে গেছি, মনের মধ‍্যে একটা সংকোচ একটা ভয় কাজ করে যেন। এতো ভালবাসার কি আসলেই যোগ‍্য আমি? আমার উচ্চমাধ‍্যমিকের কলেজে ছিল অগুনতি শিক্ষার্থীরা। গ‍্যালারিতে ক্লাস হতো, বেশিরভাগকে চিনতামই না। যেদিন শেষ ক্লাস ছিল কতোজন যে এলো আর ছবি তুললো একসাথে। বলছিল ছবিটা রেখে দেবে সারাজীবন। আমি ওদের মুখগুলো অবাক হয়ে দেখছিলাম, ভেবেছিলাম মনে রেখে দেবো সারাজীবন কিন্তু হারিয়ে ফেলেছিলাম খুব তাড়াতাড়িই। উচ্চমাধ‍্যমিকের পর একটা প্রজেক্টে যোগ দিয়েছিলাম 'সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম' নামে। কাজ ছিল চট্টগ্রাম শহর এবং গ্রামের বিভিন্ন স্কুলগুলোতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পাঠদান তারচেয়েও বেশি ছেলেমেয়েদের সাথে ভাবনার আদানপ্রদান করা। খুব অল্প দিনই কাজটা করেছিলাম। আমার অশান্ত মন এক জায়গায় বেশিদিন থিত হবার ছিল না। একদিন মিমি সুপার মার্কটের একটা রকমারি দোকানে হঠাৎ দেখি একটা আট কি ন বছরের ফ্রক পরা মেয়ে কেমন যেন অভিমান নিয়ে মুখ ভার করে আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি কাছে গিয়ে একটু হাসতেই বললো "তুমি যে বলছিলা আবার আসবা, আর তো আসো নাই।" আমার মনে পড়লো সেদিন ছুটির ঘন্টা পড়ে গিয়েছিল, ওদের কথা দিয়েছিলাম আরেকদিন আসবো আর সেদিন ওদের সবার কথা শুনবো। আমি যখন স্কুলটার গেইট পেরিয়ে ফুটপাত ধরে এগোচ্ছিলাম তখনো কয়েকজন আমার পাশে পাশে হাঁপাতে হাঁপাতে উজ্জ্বল চোখ নিয়ে বলছিল "আবার কবে আসবা? তাড়াতাড়ি আইসো...দেরি কইরো না..."

আজকাল আমি খুব ভাবি আবার কবে আসবো? আবার সবার সাথে দেখা হবে? আমার কথা সবাই আবার কবে বুঝবে আর মন খুলে দেবে আবার? এবার ফিরলে সত‍্যি সত‍্যি সব সংকোচ ভুলে বলবো আমি তোমাদেরই মেয়ে, আমি তোমাদের ভালোবাসি।




টুকরো কথা : স্নানকথা

আজ এইমাত্র জল পানি পেলাম, মানে স্নান 🛀 করলাম। আমাদের বাঙালি মুসলিম ঘরে আমরা  বলি গোসল, হায় ভাষারও কতো বর্ণভেদ 🙁। আমার লেখার সময় স্নান লিখতে ভাল লাগে, গান মনে পড়ে 🎶করো স্নান নবধারা জলে🎶। নবধারাই একরকম, হিটারটা প্রতিবার নতুন জল গরম করে। MetroLife জিন্দাবাদ। তুমি আমার BestBuddy না হলে এই এতো রাতে ভাবতে পারতাম? যা বলছিলাম, আজ জল পানি পেলাম, লক্ষী মেয়েটি হলাম (কিংবা সাজলাম🙄)। কয় দিন পর গুনে দেখিনি। তবে আমি এতে আনন্দে নতুন আশায় বুক বেঁধেছি কারন নতুন গবেষণা বলছে তারুন‍্যের রহস‍্য হলো Low Maintenance 😯 এতো দিন পর মনের মতো একটা গবেষণা 😁। গবেষককে এবং তার Absolute Primary  Hypothesis কে আমার HighElbow!

এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমি Scientifically বুঝতে পেরেছি তেলের কতো প্রয়োজন, হায় ত্বক! হায় চুল! তোমরাও এতো তেল ভালবাসো 🤦‍♀️! হায় Seleucus! ব‍্যটা তুই ডায়লগের সময় কই থাকিস? মরুকগে, আজ ভাবছি মাথায় নারকেল তেলও দেবো, অনলাইনে লন্ডন থেকে imported Extra Virgin Coconut Oil। এটা রান্নাতেও ব‍্যবহার করা যায়। একটা শ্রীলংকান চিকেনের পদ বানাবো বানাবো করেও হয়ে উঠছে না অনেকদিন। এই উচ্চমূল‍্য Allrounder নারকেল তেলও দেখছি গরমে গলে যায়, বেশী শীতে জমে যায় আর হালকা শীতে আহাম্মক অপদার্থ প্রেমিকের মতো বুঝে উঠতে পারে না যে জমে যাবে নাকি গলে যাবে। ভেবে দেখলাম শীত বেশ পড়েছে তাই মাথায় তেল লাগাতে খাটনি আছে Boss 😩। সত‍্যি সত‍্যি শেষ পর্যন্ত এতোটাই কুঁড়ে হয়ে গেলাম এই Covid Situation এ! মাথার পেছনে Gym Instructor এর ক্রুর হাসি চিন্তা করে ঘাড় চিনচিন করছে, জানি আমার ভবিষ‍্যত হচ্ছে TABATA আর CircuitTraining 😬। 

আমি দরিদ্র মানুষ, পাশে একটা Seleucus নেই, একটা PS নেই বা একটা অমর বন্ধুও নেই যে প্রসঙ্গ থেকে সরে গেলে কানে কানে জানাবে। বলছিলাম নারকেল তেলের কথা। ছোটবেলায় গ্রাম থেকে দুরকম নারকেল তেল আসতো। একটা রংহীণ (মাথায় দেবার জন‍্য) আরেকটা হলুদ দিয়ে জ্বাল দেয়া (স্নানের পর গায়ে মাখার জন‍্য)। হলুদ  মেশানো নারকেল তেলটা একবার রাখা ছিল সে সময়কার সানসিল্ক এগ শ‍্যাম্পুর বোতলে। হায় কপাল আমাদের সহজ সরল দাদুটাই এর Victim হলো শেষ পর্যন্ত। একদিন ভুল করে বসলো আর ওর সব সাদা চুলগুলো হলদে হয়ে গেল। লজ্জায় শরমে বেচারি যেন মাটিতে মিশে গেল আর আমরা তো ছিলাম ই গড়াগড়ি খাওয়ার জন‍্য। দাদু বেচারি খুব লাজুক ছিল, লজ্জায় বাতের ব‍্যাথার কথাও কাউকে বলতো না। হাত পা ফুলে বলিরেখা মুছে যেতো প্রায় মাঝে মাঝে। অন‍্য কেউ গরম স‍্যাঁক দিয়ে দিলেও সে শরমিন্দা হয়ে থাকতো যেন। জন্ম থেকে শুনেছি দাদুর বয়স একশো👀 বছর। এমন মিষ্টি কুঁজো বুড়ির দেখা পরে শুধু গল্পের বইতেই পেয়েছি। দাদু বলতো "ছোডবউ, অ‍্যামনে কইও না। কালা... গলার মালা!" দাদুর মুখে পানের গন্ধ আমার ভালো লাগতো না কিন্তু ওর কথা শুনতে খুব ভালো লাগতো😁। আরো ভালো লাগতো শুনে "কুঁচ বরন কন‍্যা তাহার মেঘ বরন কেশ"। পরে জেনেছি এখানে বর্ণবাদি কবি শ্বেত বা তপ্তসোনা বর্ণের কুঁচফলের গোটা বুঝিয়েছেন (WTF🤷‍♀️)। তা বোঝাক, এখন আমার মেঘ বরন কেশ পেলেই হবে। তা কালো মেঘ হোক বা সাদা মেঘ, গোধুলির রক্তাভ মেঘ বা ঊষার স্বর্ণাভা মেঘ কিংবা Trendy রংধনু মেঘ। মেঘবরন কেশে বলতে চাই In My Opinion (IMO) I M THIS THIS THIS 😌, I THINK THIS THIS THIS🙃, I BELIEVE THIS THIS THIS🤫, NOT THAT THAT THAT🤮.

সত‍্যি Seleucus! কি বিচিত্র প্রতিটি জগৎ😇! নাহ এভাবে ঠিক পোষাচ্ছেনা। Seleucus মার্কা একটা Robot বা নিদেন পক্ষে একটা Dummy অর্ডার করতেই হবে অনলাইনে। কতো দাম হবে কে জানে 🤔?





Sunday, January 3, 2021

আবোলতাবোল : ছয়

যদি বলো 'হ‍্যাঁ'

নিজ দায়িত্বে বোলো মোর শ‍্যাম

লক্ষীটি হবোনা

কুকুরের ল‍্যাজে আছে প্রেম


যদি বলো 'না'

দূর থেকে দেখবো না আর

চলে যাবো...

যেখানে

চলাচল নেই গো তোমার


থাকবো এমনটাই

তুমি নও স্বভাবের পিতা

শ‍্যাম থাকে সুটকেসে

হারিয়েও যেতে পারে

স্টেশনে ট্রেনে বাসে

ঘরেও পঁচতে পারে

শ‍্যাম ছাড়া এ জীবন 

কখনোই হয়না গো বৃথা


শ‍্যামের বাঁশি বাজে

ইউটিউব চ‍্যানেলে

আর নেটফ্লিক্সে

ডাক দিয়ে যায় লুসিফার

পৃথিবীর প্রেমিকেরা

লম্পট ঘরছাড়া

বাড়ালে এ হাত

হতে পারে কুপোকাত

ভাবনার আছে কি যে

নেটের এই স‍্যোসালে

হালের রিমিক্সে

মনে ধরে যখন যাকে যার


কিংবা কি বা এসে যায়

আমি যদি হই অবতার

লাল পতাকা হাতে

রাস্তায় মাঠে ঘাটে

খেটে খাওয়া মানুষের

চেনা অচেনা দাসের

হৃদয় হয়ে লড়ে যাই

চাই শুধু সমতাই

সকলের হবে রাধা

কখনো সে হবেনা তোমার


তবু বলি

যদি বলো 'হ‍্যাঁ'

মন থেকে বলো মোর শ‍্যাম

সত‍্যি থাকবে শুধু 

থাকবে না মিথ‍্যার জ‍্যাম

শহরের আলোসব

ঝাড়বাতি মনে হবে

চাঁদ তারা ঢাকবে না মেঘে

রাস্তার মোড়ে মোড়ে

বিয়ার ফোয়ারা হবে

গাড়িগুলো ছুটে যাবে বেগে

ছোট ছেলেমেয়েগুলো

দিয়ে যাবে বেলীমালা

কিংবা দোলন চাঁপা

সাজিয়েও দিতে পারে ডালা

যদি বলো হ‍্যাঁ

মন থেকে বলো শ‍্যাম মোর

এই রাত কেটে যাবে

আসবেই আমাদের ভোর





স্কেচ : চার

এতো রাত হলো, ঘুমোলেনা?


"এখনো না, ঘুম পেলে ঘুমিয়ে পড়বো ঠিক।"


হাতে কি ওটা? কি করছো বলোতো ঠিক করে?


"কি আবার? একটা বই! এতে দেখছি রবি ঠাকুরের ব‍্যাজার মুখ।"


সে কি?


"ভাবছি ওর সাথে একটু মজা করবো। এমন বুড়ো জ‍্যাঠার মতো মুখ করে আছে, পাগল না কি? তবে সাদা সাদা চুল দাড়িগুলো বেশ।"


আরে আরে কি করছো?


"কিসি"


ধ‍্যাত! কি যে বলো... আর কি যে করো...


"যাও তো যাও। একটু ভাবতে দাও। অনেকদিন ষড়যন্ত্রের প্র‍্যাকটিস নেই। এই বুড়ো বুদ্ধি হবার পর থেকে জ্বালিয়ে মারছে!"




Saturday, January 2, 2021

টুকরো কথা : মহার্ঘ মরিচ

আজ সন্ধ‍্যায় বহুদিন পর ফুচকা খেলাম বেইলি রোডের ফুটপাতে। কয় বছর পর কে জানে? কয় টুকরো কাঁচা মরিচ এতো ঝাল ছিল যে প্রায় চিৎকার করতে করতে ফুটপাতেই বসে পড়েছিলাম। তাড়াতাড়ি পানি মুখে ঢেলেও তেমন কোন লাভ হচ্ছিল না। আমি তেমন একটা ঝাল খেতে পারিনা কখনোই। মুখ জ্বলার সাথে সাথে মাথা ঘুরে ওঠে আর চারদিকে  অন্ধকার হয়ে যায়। ঢাকার বাজারে শুধুমাত্র প‍্রচণ্ড ঝাল মরিচই পাওয়া যায়। আমার যেখানে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সেই চট্টগ্রামের বাজারে হরেক রকম মরিচ পাওয়া যায়, লোকজন পছন্দ মতো কিনতে পারে। আমার পছন্দ হলো হাটাজারির (আসলে নাম হলো হাটহাজারি, বহু আগের কোনো ঐতিহাসিক হাজারি যোদ্ধাদের হাট) এক বিশেষ কম ঝাল মরিচ যা মূলত এক জাতের কাশ্মীরি মরিচ, ধারনা করা হয় সুফি সাধকরা সাথে করে নিয়ে এসেছিল অন্তত কয়েকশো বছর আগে। আকারে বেশ বড় মরিচটা গাঢ় সবুজ রঙের, গন্ধটা একটু বুনো কিন্তু মিষ্টি, পাকলে সিঁদুরে লাল রঙের হয়ে যায়। ছোটবেলায় একটা টিয়ে পাখিকে মরিচ খেতে দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম পরে নানুভাইয়া বলেছিল লাল রং পাখিদের খুব পছন্দ তাই পাকা মরিচও ওদের খুব পছন্দ, ওরা নাকি ঝাল তেমন একটা বুঝতে পারেনা। পাখিদের সবকিছু কতোটাই না আলাদা! সে যাই হোক, বলছিলাম হাটাজারির মরিচের কথা, চট্টগ্রামের গরুর মাংসের অনবদ‍্য রেসিপির একটি গোপন এবং অপরিহার্য উপাদান হলো এই বিশেষ ধরনের মরিচের গুঁড়ো বা পেস্ট। এই মরিচ রোদে শুকানো হয় তখন এর রং হয়ে যায় গাঢ় লালখয়েরি কিন্তু তারপর পাটায় পিষে নিলে বা গুঁড়ো করে নিলে রং হয় উজ্জ্বল লাল আর যেকোনো তরকারিতে ব‍্যবহার করলেই তার রং হবে টকটকে লাল কিন্তু ঝাল হবে সহনীয় আর এক অদ্ভুত স্বাদ ও গন্ধ হবে, একেকজনের কাছে একেকরকম মনে হতে পারে কিন্তু আমার মনে হয় পৌরাণিক স্বাদ, গন্ধ, রং ও গল্প আছে এই মরিচে। বাবা আর নানুভাইয়া দুজনেই বলতো যেন ইন্দ্রিয়গুলোকে খুব যত্ন এবং মনোযোগের সাথে ব‍্যবহার করি। বই তো সবাই পড়ে আর পড়তেও হবে কিন্তু যদি ইন্দ্রিয় দিয়ে সবকিছু অনুভব করতে না পারি তবে শিক্ষা অপূর্ণই থেকে যায়। এই দুজন পুরুষ, যাদের কাছে আমার মানবতার এবং নারীবাদেরও প্রথম পাঠ, দুজনই ছিল প্রখর অনুভুতিশীল (Empath)। ওদের কথা আলাদা করে আরো অনেক অনেক, হয়তো সারাজীবনই বলতে ও লিখতে চাই। কিন্তু আজ মূলত আমি হাটাজারির মরিচের বর্ণাঢ‍্য ও মহার্ঘ জীবন নিয়ে আপ্লুত। তীব্র রোদ সহ‍্য করে সে নিজেকে প্রস্তুত করে দীর্ঘ‍ এক গৌরবময় জীবনের জন‍্য। তাকে পিষে ফেলি কিংবা চূর্ণ করে ফেলি কিংবা উত্তাপে অন‍্য আর সবকিছুর সাথে মিশিয়ে ফেলতে চাই সে আরো প্রবল ভাবে  নিজের স্বকীয়তা, সৌন্দর্য ও ক্ষমতা নিয়েই অপ্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে ওঠে। মরিচ নিয়ে ভাবতে হবে, আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে মনে হচ্ছে।



আবোলতাবোল : পাঁচ

ইমো চুলে আমি বম্ববিচ

নখে এঁকে রাখি কিছু শিল্প

আদরের নই রাজকন‍্যা

ভেতরে যে কাঙালিনী দিব‍্য


আমি রাস্তারই মেয়ে জেনো

রাস্তায় বাঁচে এই চেতনা

রাস্তায়  হেঁটে  যাই দেখে যাই 

ওখানেই থেকে যায় ঠিকানা


ভাবনারা ভর করে আঁচড়ায়

কামড়ায় আমাকেই

আরো আরো নিচে নামি আমি

আটপৌরে জামাতেই

ভিখিরির চিৎকার

আলেমের ধিক্কার

মগজের শীৎকার

আপনের হাহাকার

আমাকে আর ছোঁয় না

ভয়ও দেখায় না

আমি স্ট্রীটবিচ এক

রাস্তার সুর তাল

ট‍্যাগ করে আমাকে

থামাতে ও জাগাতে

চেনা ও অচেনা

প্রচন্ড দিনকাল


জীবন কে খুঁড়ে দেখি আজকাল

বিশ্বাস অবিশ্বাস

নতুন পাশার ছকে

ছাড়ে শেষ নিঃশ্বাস

কেড়ে নেয় বস্ত্র

ছেড়ে যাবো বস্ত্র আমিও

খেলে যাবো তবুও

নাও সমস্ত

আর কত নেবে তাই দেখবো

ফুটপাতে বসে শুয়ে দেখবো

চোখে মুখে প্রহসন আঁকবো

দরকারে প্রতিবার মরবো


সিধে নই 

সাপটা সোজা এক স্ট্রিটবিচ

কোমর জড়ায় যদি লোমহাত

ছুঁড়েও ফেলতে পারে

ভেবে তো দেখিনি তার পাঁচ সাত


আমি তোমাদেরই মেয়ে জেনো

রাস্তায় হেঁটে চলা চিপক্রাশ

প্রতিদিন দেখে যাও আমাকেই 

রাস্তাতে যার চির বসবাস

Listen to আবোলতাবোল : দুই by Tahmina Aspired on #SoundCloud

https://soundcloud.app.goo.gl/CWG7b



Friday, January 1, 2021

স্কেচ : তিন

তুমি কি ওকে চেনো?


"না। সত‍্যি যদি বলি। তবে সে থাকে কল্পনাতে।"


কল্পনায় চেনো তবে?


"না। সে দূরে দূরেই থাকে আর অচেনাই থেকে যায়। দাঁড়িয়ে থাকে ঘরের কোণায় নয়তো দরজায়।"


কিছু বলে?


"বলে। ওর চোখ। পড়ে নিতে চায় আমাকে। বুঝি আমি।"


শুধু এইটুকুই? 


"হুম।"


এর আর কি বা মানে হয়?


"হয়। তুমি বুঝবে না। তুমি তো আর আমি নও।"


বলো দেখি তাও। দেখি চেষ্টা করে।


"ও না থাকলে ঘর ফাঁকা হয়ে যাবে। আমি একা হয়ে যাবো। গানগুলো পালিয়ে যাবে। অপেক্ষা শেষ হয়ে যাবে।"


কি যে বলো মাথামুন্ডু?


"বলেছিলাম। তুমি আমি নও। এখন যাও।"


এখনই? কেনো?


"ওর এতো কথা ভালো লাগছে না। দেখছো না কেমন মুখ গোমড়া করেছে?"


https://soundcloud.app.goo.gl/9s2Qg






LIQ TALK : 1

If I feel like a piece of cake in Ur hand

Itsy bitsy honey dipped 

Then I jump to fire in Ur arms

Can I make U crazy n turn U blue?


When I see the starry starry starry starry night

Do U dream in Ur sleep?


Baby I made U up n kiss U in my head














If I knock off every lie that U trust

Squishy Moshy full of hate

Then I jump to fire at Ur sight

Will U run up crazy n hold me blue?


When I see my fury fury fury fury life

Can U breath in peace?


Baby I made U up n take U in my head


Voices

Voices

Voices


They make me

Crazy

Dizzy

Hazy

Walls I see


Voices

Voices

Voices


Says here U r

Crazy

Dizzy

Hazy

Here U r (Babe o my)


https://soundcloud.app.goo.gl/cPbeu


শুভেচ্ছা নাও দুহাজার একুশ













আতসবাজি পুড়ছে

বজ্রের মতো ফাটছে

আকাশ জোড়া আলো

ঝড়ের মতো

নক্ষত্রের মতো

ধুমকেতুর মতো

সাদা  হলুদ লাল সবুজ নীল

দ্বীধাহীন উৎসব উত্তেজনা আর আক্রোশেও যেন উগ্র আকাশ

মাটি থেকে আকাশে মানুষের চির উজাড় সম্পর্কের উন্মত্ত প্রকাশ

মানুষ উর্ধমূখী উন্মাদচিত্ত

জীবনের বৈভব নিয়ে আপ্লুত চিৎকারে

নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ 

লক্ষ কোটি সংখ‍্যাহীন

যা গেছে তা যাক 

যত সুখ যত দূঃখ ছিল আছে থাকবে

জীবন্ত আত্মচিৎকারে আলো ও শব্দের তান্ডবে সংগীতের তালে তাদের চির সার্থকতা খুঁজে পাক

কি দেবে কি নেবে কত মূল‍্যে

তাতে নয় কারো প্রাণ চিন্তিত 

চির বহমান চির অক্ষয় সময়ের টানে

অগুনতি নারী আগুনতি পুরুষ

মেতে উঠেছে সৌর জগতের অংশ হয়ে

ভালোবেসে আবাহনে দুহাজার একুশ


https://soundcloud.app.goo.gl/uo5N



English Translation of Bangla Folk Song: Fakir Lalon Shah; চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি; Forever I Nurtured a Mysterious Bird

 Forever I Nurtured a Mysterious Bird Forever I nurtured a mysterious bird, which never discloses its identity. For this grief, my eyes ...