Showing posts with label Tahmina Aspired. Show all posts
Showing posts with label Tahmina Aspired. Show all posts

Tuesday, January 5, 2021

আবোলতাবোল : আট

চীন থেকে এসেছিল 

হট মিস চিং চিং চুঁ

সরু সরু হাত পা

উড়ে যেত দিলে ফুঁ

বললো এসে তুমরা ভাই

ভীষণ রকম বোকা তু!

গ্লোবাল কম্পিটিশনে

হয়ে যে যাবে ছাতু

এখোনো খাও ডাল ভাত

পোকা মাকড় চাখো না

না হলে সর্বভুক

পৃথিবীতে টিকবে না

সারাদিন ফেসবুক

গুজগুজ ফুসফুস

তুমাদের সরকার আন্ধা নি?

কোয়ালিটি কন্ট্রোল

ট‍্যালট‍্যালে ঝোলঝোল

এভাবে চলবে নাকি

আমদানি আর রপ্তানি?

তুমাদের মাইয়াগুলা 

এতু করে খাটনি

তারপরও চেহারা দেখো

একেকটা ফকিন্নি

পোলাপানগুলা তু

নিজের ভাষাই বুঝে না

ইংরেজী ঠিক শিখেনা

চাইনিজ তু জানেইনা

ক্লায়েন্টগুলা লেখাপড়া 

একদম কি শিখেই নাই

বিসনেস মিটিং এ

দাড়িমোচে চুলকায়

অ‍্যামবাসেডারটা

তুমাদেরই ঠিক তু

না কি সে বুঝেই না

আমাদের শর্তু

তুমাদের রাস্তায়

এতু নাঙ্গা ভুখারা

এমনও তু দেখি নাই

যখন গেছি সাহারা

তুমরা নাকি নদীমাতৃক

নদী তু খুঁজে পাইনাই

এতু দূর্গন্ধ 

বেশি একটা ঘুরিনাই

রিসোর্টের নামে তুমরা

কি বানাইসো এগুলা?

কয়টা বিল্ডিং তুলে

জমিগুলা খাইলা?

শালবনে শাল নাই

সুন্দর বনে বাঘ নাই

পাহাড় নাই রাস্টিক

সমূদ্রতে প্লাস্টিক

কতু আর মন টেকে

পাঁচতারা হোটেলটাতে

বাইরে নাকি খুব ভয়

রেপ করে গলা কাটে?

এমন করে তাকায় যেন

জীবনে মেয়ে দেখে নাই

ওরা সব কারা সব

ওদের ঘরে মেয়েরা নাই?

এতু বাচ্চা পয়দা করো

তুমাদের কি শরম নাই

নিজেকে নিয়েই ভাবো

দেশের কোনো চিন্তা নাই

এতু সময় নষ্ট করো 

কাজ করো কখন আর

পরের পেছনে লাগা

এটা কোনো ক‍্যারিয়ার?

কারিগরি বুদ্ধি নাই

বাস্তব জ্ঞান নাই

কি করবা দিয়ে শুধু

বিদ‍্যা মুখস্তু?

রোবটরা এর চেয়ে ভাল

জানে আপডেট সমস্তু

স্কুলগুলা এতু ভীড়ে

দেখবা ভেঙে পড়বে

মাদ্রাসা আবার কি

ওটা দিয়ে কি হবে?

বাচ্চাদের ছোটবেলায়

ধনী গরিব শেখাচ্ছো

ভবিষ‍্যতে কি করবে

তা নিয়ে ভেবেছো?

এতো তু স্বপ্ন দেখো

তা কারা পূরণ করবে

সবাই এক না হলে

আগুন শুধু জ্বলবে

উগ্রবাদী না তাড়ালে

একদিন হবে ব্ল‍্যাকলিস্ট

তুমাদের বাদ দিয়ে

গুনে নেব সাউদইস্ট

কথাগুলো বল্লাম 

কানে কিছু ঢুকলো?

এই বলে চিং চিং চু

ফ্লাইট ধরতে ছুটলো












Monday, January 4, 2021

আবোলতাবোল : সাত

কাচ্চি বলে হাঁচ্চি দেবো

বাঙাল বাপের পো

আমি হলাম সাচ্চা মুঘল

রেডি সেট গো

কোভিড দিনে অলস বেড়াল

লেপের তলে শো

হোমে পাবি ডেলিভারি

দুশ্চিন্তা নো

নো চিন্তা ডু ফুর্তি

পারলে দিবি ক‍্যাশ

নইলে দিবি ক্রেডিট কার্ড

অ‍্যারেঞ্জমেন্টে ব‍্যাস

হায়দ্রাবাদি লক্ষ্মই

কোলকাতা বা ঢাকাই

যেটা চাবি সেটাই পাবি

ছাড়তে হবে টাকাই

রেস্টুরেন্ট না হোমমেইড

বাসমতি না পোলাও

মেনু দেখে বেছে নিয়ে

ফুডপান্ডা বোলাও

কে বাধা দেয় কার বা সাহস

সকাল দুপুর সন্ধ‍্যাতে

লজ্জা কিসের ব‍্যস্ত থাক

গান্ডে পিন্ডে গেলাতে

স্বাদে গন্ধে বন্ধ থাকুক

দুই চোখ দুই কান

কোথায় শোকের উঠলো মাতন

কার ক্ষুধার্ত প্রাণ

কে পঁচছে হাসপাতালের

বারান্দাতে শুয়ে

কে চলেছে অনিশ্চিতে

শেষ সম্বল খুইয়ে

কার গায়ে নেই কাঁথা কম্বল

কার গায়ে নেই জামা

কে খুইয়েছে মানসম্মান

কে ধরেছে ধামা

কে নেমেছে ঘুচিয়ে দিতে

বাংলাদেশের মুখ

কে পেয়েছে ঘরে বাইরে

ধর্ষন করার সুখ

কে হয়েছে মাতব্বর

কে হয়েছে প‍্যাঁচা

কচি বধু পেল আবার

কোন ধামড়া চাচা

কে ঝাড়া দেয় হাত পা গুলো

কার হালকা ঘাড়

কে গিয়েছে কলসি গলায়

খেয়া নদীর পাড়

কোন শিশুটি নতুন এলো

ধোলাইখালের তীরে

কোন শিশুটি অবাক হারায়

গুলিস্তানের ভীড়ে

কে দান মারে শেয়ার খানায়

নতুন ছক কষে

শেরের ওপর শোয়া শের

পাকাটা টসটসে

কে খেয়ে নেয় রাস্তাঘাট

ব্রিজ কালভার্ট নদীও

কে পেয়ে যায় নতুন প্রাসাদ

তারই সাথে গদিও

কার সোনা মুখ চুন হয়ে যায়

কার হয়ে যায় ইয়ে

রাজনৈতিক অরজিতে

কার হয়ে যায় বিয়ে

কে সাফ করে ঘর ও দুয়ার 

কে সাফ করে রাস্তা

কোন মেয়েটা জাতে ওঠে

কোন মেয়েটা সস্তা

কোন মেয়েটা বিড়ি ফুঁকে

কোন মেয়েটা মদ খায়

কে গিয়েছে বাঘের পেটে

কেই বা আবার সোনা পায়

কে করছে বন উজাড়

কে লুটেছে ভান্ডার

কে হয়েছে গোল্ডম‍্যাডেলিস্ট

কে হয়েছে আন্ডার

কে করেছে হতাশাকে

প্রাণের প্রিয় সঙ্গী 

কে পড়েছে নতুন প্রেমে

কে হয়েছে ঢঙ্গী

কার ঘরে আজ ভাত চড়েনি

কার ভেগেছে বর

কে পড়লো গাড়ির তলে

কার বা মরন জ্বর

কোন শিল্পী একলা ঘরে

নিজের হাতে কামড়ায়

কে ভুগে যায় মরন ব‍্যাধি

কে ফোঁটে সুঁচ চামড়ায়

কারা করে চড়ুইভাতি

কারা করে পার্টি

কারা গেছে করতে মিছিল

কার হাতে রয় বাটি

কারা আবার ফন্দি করে

আগুন লাগায় বাসে

এরা আবার কারা রে

কোত্থেকে সব আসে

খাবি দাবি কলকলাবি

জীবন তো একখান

পকেট ভরা টাকা আছে

চুকিয়ে দিবি দাম

কার খাস কার বা পরিস

কিসের এতো চিন্তা

যতো পারিস কাচ্চি খেয়ে

সুখে কাটা দিনটা




টুকরো কথা : অপেক্ষা

আজ ভোরে ঘুম থেকে উঠেই নিজের SexyVoice record করতে চাইলাম। কাল গভীর রাতেও চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু হলোনা। আমি কি তবে আর আগের মতো উরাধুরা নই একেবারেই! ভদ্রটি হয়ে গেলাম না কি? কদিন হলো ভাঁড়ার শুকনো। আর শুকনো মাল এঘরে নিষিদ্ধ অনেক দিন হয়ে গেল। সবুজ চা, সোনালি চা, গোলাপী চা আর দুবেলা ডিটক্স খেয়ে খেয়ে আমার সব দূঃখ যন্ত্রণা কি শেষ পর্যন্ত উবেই গেল? তবে কি "আহা কি আনন্দ" ধরনের গান লিখতে পারবো? আমার পরিবারের বাচ্চাগুলো তবে সত‍্যি খুব খুশি হবে। ওরা আনন্দ করতে চায় নাচতে চায়। ওরা সকাল বিকাল আমার খবর নেয়, কিসি পাঠায়, হৃদয় পাঠায়, কাছে আসতে চায়, ঘুম পাড়াতে চায়, স্নান করাতে, খাওয়াতেও চায়। ওরা জাগিয়ে রাখতে চায় যেন প্রতিদিন। কোনোদিন ওদের ধন‍্যবাদ দিয়েছি কি না মনে পড়ছেনা। আমার Gym Instructor কে একদিন বলেছিলাম "Thank U very much. U know, I thought I couldn't get up again." ভদ্রলোক একটু আবেগপ্রবন হয়ে পড়েছিলেন হয়তো। অতো লোকজন না থাকলে হয়তো জড়িয়ে ধরতেন একবার। দুজন Instructor ই এর আগে আমাকে কয়েকবারই জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার WorkoutAim এর ব‍্যাপারে। আমার Ex Colleague রা প্রতিদিন আমাকে বলতো "U r so Beautiful. U look Gorgeous!" মেয়েরা, ছেলেরাও। প্রথমে অবাক হলেও পরে নিজেও ভাবতে শুরু করেছি I m Beautiful. ওরা আমাকে বাইরে কফি খেতে লাঞ্চ করতে নিয়ে যেতো। অফিসের ক‍্যাফেতে একলা গেলে হাসিমুখে সামনে এসে বসতো। Resign দেবার পর একদিন একজন এমনও বলেছিল "আপনাকে প্রতিদিন দেখবো না, এমনটা আমি সত‍্যি বলতে কি ভাবতেই পারছি না"। চাকরি ছাড়ার পর ওরা প্রায় একবছর প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আমার খবর নিয়েছে। দেখা করতে চেয়েছে। আমি কেন যেন নির্লিপ্ত থেকে গেছি, মনের মধ‍্যে একটা সংকোচ একটা ভয় কাজ করে যেন। এতো ভালবাসার কি আসলেই যোগ‍্য আমি? আমার উচ্চমাধ‍্যমিকের কলেজে ছিল অগুনতি শিক্ষার্থীরা। গ‍্যালারিতে ক্লাস হতো, বেশিরভাগকে চিনতামই না। যেদিন শেষ ক্লাস ছিল কতোজন যে এলো আর ছবি তুললো একসাথে। বলছিল ছবিটা রেখে দেবে সারাজীবন। আমি ওদের মুখগুলো অবাক হয়ে দেখছিলাম, ভেবেছিলাম মনে রেখে দেবো সারাজীবন কিন্তু হারিয়ে ফেলেছিলাম খুব তাড়াতাড়িই। উচ্চমাধ‍্যমিকের পর একটা প্রজেক্টে যোগ দিয়েছিলাম 'সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম' নামে। কাজ ছিল চট্টগ্রাম শহর এবং গ্রামের বিভিন্ন স্কুলগুলোতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পাঠদান তারচেয়েও বেশি ছেলেমেয়েদের সাথে ভাবনার আদানপ্রদান করা। খুব অল্প দিনই কাজটা করেছিলাম। আমার অশান্ত মন এক জায়গায় বেশিদিন থিত হবার ছিল না। একদিন মিমি সুপার মার্কটের একটা রকমারি দোকানে হঠাৎ দেখি একটা আট কি ন বছরের ফ্রক পরা মেয়ে কেমন যেন অভিমান নিয়ে মুখ ভার করে আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি কাছে গিয়ে একটু হাসতেই বললো "তুমি যে বলছিলা আবার আসবা, আর তো আসো নাই।" আমার মনে পড়লো সেদিন ছুটির ঘন্টা পড়ে গিয়েছিল, ওদের কথা দিয়েছিলাম আরেকদিন আসবো আর সেদিন ওদের সবার কথা শুনবো। আমি যখন স্কুলটার গেইট পেরিয়ে ফুটপাত ধরে এগোচ্ছিলাম তখনো কয়েকজন আমার পাশে পাশে হাঁপাতে হাঁপাতে উজ্জ্বল চোখ নিয়ে বলছিল "আবার কবে আসবা? তাড়াতাড়ি আইসো...দেরি কইরো না..."

আজকাল আমি খুব ভাবি আবার কবে আসবো? আবার সবার সাথে দেখা হবে? আমার কথা সবাই আবার কবে বুঝবে আর মন খুলে দেবে আবার? এবার ফিরলে সত‍্যি সত‍্যি সব সংকোচ ভুলে বলবো আমি তোমাদেরই মেয়ে, আমি তোমাদের ভালোবাসি।




টুকরো কথা : স্নানকথা

আজ এইমাত্র জল পানি পেলাম, মানে স্নান 🛀 করলাম। আমাদের বাঙালি মুসলিম ঘরে আমরা  বলি গোসল, হায় ভাষারও কতো বর্ণভেদ 🙁। আমার লেখার সময় স্নান লিখতে ভাল লাগে, গান মনে পড়ে 🎶করো স্নান নবধারা জলে🎶। নবধারাই একরকম, হিটারটা প্রতিবার নতুন জল গরম করে। MetroLife জিন্দাবাদ। তুমি আমার BestBuddy না হলে এই এতো রাতে ভাবতে পারতাম? যা বলছিলাম, আজ জল পানি পেলাম, লক্ষী মেয়েটি হলাম (কিংবা সাজলাম🙄)। কয় দিন পর গুনে দেখিনি। তবে আমি এতে আনন্দে নতুন আশায় বুক বেঁধেছি কারন নতুন গবেষণা বলছে তারুন‍্যের রহস‍্য হলো Low Maintenance 😯 এতো দিন পর মনের মতো একটা গবেষণা 😁। গবেষককে এবং তার Absolute Primary  Hypothesis কে আমার HighElbow!

এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমি Scientifically বুঝতে পেরেছি তেলের কতো প্রয়োজন, হায় ত্বক! হায় চুল! তোমরাও এতো তেল ভালবাসো 🤦‍♀️! হায় Seleucus! ব‍্যটা তুই ডায়লগের সময় কই থাকিস? মরুকগে, আজ ভাবছি মাথায় নারকেল তেলও দেবো, অনলাইনে লন্ডন থেকে imported Extra Virgin Coconut Oil। এটা রান্নাতেও ব‍্যবহার করা যায়। একটা শ্রীলংকান চিকেনের পদ বানাবো বানাবো করেও হয়ে উঠছে না অনেকদিন। এই উচ্চমূল‍্য Allrounder নারকেল তেলও দেখছি গরমে গলে যায়, বেশী শীতে জমে যায় আর হালকা শীতে আহাম্মক অপদার্থ প্রেমিকের মতো বুঝে উঠতে পারে না যে জমে যাবে নাকি গলে যাবে। ভেবে দেখলাম শীত বেশ পড়েছে তাই মাথায় তেল লাগাতে খাটনি আছে Boss 😩। সত‍্যি সত‍্যি শেষ পর্যন্ত এতোটাই কুঁড়ে হয়ে গেলাম এই Covid Situation এ! মাথার পেছনে Gym Instructor এর ক্রুর হাসি চিন্তা করে ঘাড় চিনচিন করছে, জানি আমার ভবিষ‍্যত হচ্ছে TABATA আর CircuitTraining 😬। 

আমি দরিদ্র মানুষ, পাশে একটা Seleucus নেই, একটা PS নেই বা একটা অমর বন্ধুও নেই যে প্রসঙ্গ থেকে সরে গেলে কানে কানে জানাবে। বলছিলাম নারকেল তেলের কথা। ছোটবেলায় গ্রাম থেকে দুরকম নারকেল তেল আসতো। একটা রংহীণ (মাথায় দেবার জন‍্য) আরেকটা হলুদ দিয়ে জ্বাল দেয়া (স্নানের পর গায়ে মাখার জন‍্য)। হলুদ  মেশানো নারকেল তেলটা একবার রাখা ছিল সে সময়কার সানসিল্ক এগ শ‍্যাম্পুর বোতলে। হায় কপাল আমাদের সহজ সরল দাদুটাই এর Victim হলো শেষ পর্যন্ত। একদিন ভুল করে বসলো আর ওর সব সাদা চুলগুলো হলদে হয়ে গেল। লজ্জায় শরমে বেচারি যেন মাটিতে মিশে গেল আর আমরা তো ছিলাম ই গড়াগড়ি খাওয়ার জন‍্য। দাদু বেচারি খুব লাজুক ছিল, লজ্জায় বাতের ব‍্যাথার কথাও কাউকে বলতো না। হাত পা ফুলে বলিরেখা মুছে যেতো প্রায় মাঝে মাঝে। অন‍্য কেউ গরম স‍্যাঁক দিয়ে দিলেও সে শরমিন্দা হয়ে থাকতো যেন। জন্ম থেকে শুনেছি দাদুর বয়স একশো👀 বছর। এমন মিষ্টি কুঁজো বুড়ির দেখা পরে শুধু গল্পের বইতেই পেয়েছি। দাদু বলতো "ছোডবউ, অ‍্যামনে কইও না। কালা... গলার মালা!" দাদুর মুখে পানের গন্ধ আমার ভালো লাগতো না কিন্তু ওর কথা শুনতে খুব ভালো লাগতো😁। আরো ভালো লাগতো শুনে "কুঁচ বরন কন‍্যা তাহার মেঘ বরন কেশ"। পরে জেনেছি এখানে বর্ণবাদি কবি শ্বেত বা তপ্তসোনা বর্ণের কুঁচফলের গোটা বুঝিয়েছেন (WTF🤷‍♀️)। তা বোঝাক, এখন আমার মেঘ বরন কেশ পেলেই হবে। তা কালো মেঘ হোক বা সাদা মেঘ, গোধুলির রক্তাভ মেঘ বা ঊষার স্বর্ণাভা মেঘ কিংবা Trendy রংধনু মেঘ। মেঘবরন কেশে বলতে চাই In My Opinion (IMO) I M THIS THIS THIS 😌, I THINK THIS THIS THIS🙃, I BELIEVE THIS THIS THIS🤫, NOT THAT THAT THAT🤮.

সত‍্যি Seleucus! কি বিচিত্র প্রতিটি জগৎ😇! নাহ এভাবে ঠিক পোষাচ্ছেনা। Seleucus মার্কা একটা Robot বা নিদেন পক্ষে একটা Dummy অর্ডার করতেই হবে অনলাইনে। কতো দাম হবে কে জানে 🤔?





Sunday, January 3, 2021

আবোলতাবোল : ছয়

যদি বলো 'হ‍্যাঁ'

নিজ দায়িত্বে বোলো মোর শ‍্যাম

লক্ষীটি হবোনা

কুকুরের ল‍্যাজে আছে প্রেম


যদি বলো 'না'

দূর থেকে দেখবো না আর

চলে যাবো...

যেখানে

চলাচল নেই গো তোমার


থাকবো এমনটাই

তুমি নও স্বভাবের পিতা

শ‍্যাম থাকে সুটকেসে

হারিয়েও যেতে পারে

স্টেশনে ট্রেনে বাসে

ঘরেও পঁচতে পারে

শ‍্যাম ছাড়া এ জীবন 

কখনোই হয়না গো বৃথা


শ‍্যামের বাঁশি বাজে

ইউটিউব চ‍্যানেলে

আর নেটফ্লিক্সে

ডাক দিয়ে যায় লুসিফার

পৃথিবীর প্রেমিকেরা

লম্পট ঘরছাড়া

বাড়ালে এ হাত

হতে পারে কুপোকাত

ভাবনার আছে কি যে

নেটের এই স‍্যোসালে

হালের রিমিক্সে

মনে ধরে যখন যাকে যার


কিংবা কি বা এসে যায়

আমি যদি হই অবতার

লাল পতাকা হাতে

রাস্তায় মাঠে ঘাটে

খেটে খাওয়া মানুষের

চেনা অচেনা দাসের

হৃদয় হয়ে লড়ে যাই

চাই শুধু সমতাই

সকলের হবে রাধা

কখনো সে হবেনা তোমার


তবু বলি

যদি বলো 'হ‍্যাঁ'

মন থেকে বলো মোর শ‍্যাম

সত‍্যি থাকবে শুধু 

থাকবে না মিথ‍্যার জ‍্যাম

শহরের আলোসব

ঝাড়বাতি মনে হবে

চাঁদ তারা ঢাকবে না মেঘে

রাস্তার মোড়ে মোড়ে

বিয়ার ফোয়ারা হবে

গাড়িগুলো ছুটে যাবে বেগে

ছোট ছেলেমেয়েগুলো

দিয়ে যাবে বেলীমালা

কিংবা দোলন চাঁপা

সাজিয়েও দিতে পারে ডালা

যদি বলো হ‍্যাঁ

মন থেকে বলো শ‍্যাম মোর

এই রাত কেটে যাবে

আসবেই আমাদের ভোর





Saturday, January 2, 2021

টুকরো কথা : মহার্ঘ মরিচ

আজ সন্ধ‍্যায় বহুদিন পর ফুচকা খেলাম বেইলি রোডের ফুটপাতে। কয় বছর পর কে জানে? কয় টুকরো কাঁচা মরিচ এতো ঝাল ছিল যে প্রায় চিৎকার করতে করতে ফুটপাতেই বসে পড়েছিলাম। তাড়াতাড়ি পানি মুখে ঢেলেও তেমন কোন লাভ হচ্ছিল না। আমি তেমন একটা ঝাল খেতে পারিনা কখনোই। মুখ জ্বলার সাথে সাথে মাথা ঘুরে ওঠে আর চারদিকে  অন্ধকার হয়ে যায়। ঢাকার বাজারে শুধুমাত্র প‍্রচণ্ড ঝাল মরিচই পাওয়া যায়। আমার যেখানে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সেই চট্টগ্রামের বাজারে হরেক রকম মরিচ পাওয়া যায়, লোকজন পছন্দ মতো কিনতে পারে। আমার পছন্দ হলো হাটাজারির (আসলে নাম হলো হাটহাজারি, বহু আগের কোনো ঐতিহাসিক হাজারি যোদ্ধাদের হাট) এক বিশেষ কম ঝাল মরিচ যা মূলত এক জাতের কাশ্মীরি মরিচ, ধারনা করা হয় সুফি সাধকরা সাথে করে নিয়ে এসেছিল অন্তত কয়েকশো বছর আগে। আকারে বেশ বড় মরিচটা গাঢ় সবুজ রঙের, গন্ধটা একটু বুনো কিন্তু মিষ্টি, পাকলে সিঁদুরে লাল রঙের হয়ে যায়। ছোটবেলায় একটা টিয়ে পাখিকে মরিচ খেতে দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম পরে নানুভাইয়া বলেছিল লাল রং পাখিদের খুব পছন্দ তাই পাকা মরিচও ওদের খুব পছন্দ, ওরা নাকি ঝাল তেমন একটা বুঝতে পারেনা। পাখিদের সবকিছু কতোটাই না আলাদা! সে যাই হোক, বলছিলাম হাটাজারির মরিচের কথা, চট্টগ্রামের গরুর মাংসের অনবদ‍্য রেসিপির একটি গোপন এবং অপরিহার্য উপাদান হলো এই বিশেষ ধরনের মরিচের গুঁড়ো বা পেস্ট। এই মরিচ রোদে শুকানো হয় তখন এর রং হয়ে যায় গাঢ় লালখয়েরি কিন্তু তারপর পাটায় পিষে নিলে বা গুঁড়ো করে নিলে রং হয় উজ্জ্বল লাল আর যেকোনো তরকারিতে ব‍্যবহার করলেই তার রং হবে টকটকে লাল কিন্তু ঝাল হবে সহনীয় আর এক অদ্ভুত স্বাদ ও গন্ধ হবে, একেকজনের কাছে একেকরকম মনে হতে পারে কিন্তু আমার মনে হয় পৌরাণিক স্বাদ, গন্ধ, রং ও গল্প আছে এই মরিচে। বাবা আর নানুভাইয়া দুজনেই বলতো যেন ইন্দ্রিয়গুলোকে খুব যত্ন এবং মনোযোগের সাথে ব‍্যবহার করি। বই তো সবাই পড়ে আর পড়তেও হবে কিন্তু যদি ইন্দ্রিয় দিয়ে সবকিছু অনুভব করতে না পারি তবে শিক্ষা অপূর্ণই থেকে যায়। এই দুজন পুরুষ, যাদের কাছে আমার মানবতার এবং নারীবাদেরও প্রথম পাঠ, দুজনই ছিল প্রখর অনুভুতিশীল (Empath)। ওদের কথা আলাদা করে আরো অনেক অনেক, হয়তো সারাজীবনই বলতে ও লিখতে চাই। কিন্তু আজ মূলত আমি হাটাজারির মরিচের বর্ণাঢ‍্য ও মহার্ঘ জীবন নিয়ে আপ্লুত। তীব্র রোদ সহ‍্য করে সে নিজেকে প্রস্তুত করে দীর্ঘ‍ এক গৌরবময় জীবনের জন‍্য। তাকে পিষে ফেলি কিংবা চূর্ণ করে ফেলি কিংবা উত্তাপে অন‍্য আর সবকিছুর সাথে মিশিয়ে ফেলতে চাই সে আরো প্রবল ভাবে  নিজের স্বকীয়তা, সৌন্দর্য ও ক্ষমতা নিয়েই অপ্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে ওঠে। মরিচ নিয়ে ভাবতে হবে, আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে মনে হচ্ছে।



আবোলতাবোল : পাঁচ

ইমো চুলে আমি বম্ববিচ

নখে এঁকে রাখি কিছু শিল্প

আদরের নই রাজকন‍্যা

ভেতরে যে কাঙালিনী দিব‍্য


আমি রাস্তারই মেয়ে জেনো

রাস্তায় বাঁচে এই চেতনা

রাস্তায়  হেঁটে  যাই দেখে যাই 

ওখানেই থেকে যায় ঠিকানা


ভাবনারা ভর করে আঁচড়ায়

কামড়ায় আমাকেই

আরো আরো নিচে নামি আমি

আটপৌরে জামাতেই

ভিখিরির চিৎকার

আলেমের ধিক্কার

মগজের শীৎকার

আপনের হাহাকার

আমাকে আর ছোঁয় না

ভয়ও দেখায় না

আমি স্ট্রীটবিচ এক

রাস্তার সুর তাল

ট‍্যাগ করে আমাকে

থামাতে ও জাগাতে

চেনা ও অচেনা

প্রচন্ড দিনকাল


জীবন কে খুঁড়ে দেখি আজকাল

বিশ্বাস অবিশ্বাস

নতুন পাশার ছকে

ছাড়ে শেষ নিঃশ্বাস

কেড়ে নেয় বস্ত্র

ছেড়ে যাবো বস্ত্র আমিও

খেলে যাবো তবুও

নাও সমস্ত

আর কত নেবে তাই দেখবো

ফুটপাতে বসে শুয়ে দেখবো

চোখে মুখে প্রহসন আঁকবো

দরকারে প্রতিবার মরবো


সিধে নই 

সাপটা সোজা এক স্ট্রিটবিচ

কোমর জড়ায় যদি লোমহাত

ছুঁড়েও ফেলতে পারে

ভেবে তো দেখিনি তার পাঁচ সাত


আমি তোমাদেরই মেয়ে জেনো

রাস্তায় হেঁটে চলা চিপক্রাশ

প্রতিদিন দেখে যাও আমাকেই 

রাস্তাতে যার চির বসবাস

Listen to আবোলতাবোল : দুই by Tahmina Aspired on #SoundCloud

https://soundcloud.app.goo.gl/CWG7b



Friday, January 1, 2021

LIQ TALK : 1

If I feel like a piece of cake in Ur hand

Itsy bitsy honey dipped 

Then I jump to fire in Ur arms

Can I make U crazy n turn U blue?


When I see the starry starry starry starry night

Do U dream in Ur sleep?


Baby I made U up n kiss U in my head














If I knock off every lie that U trust

Squishy Moshy full of hate

Then I jump to fire at Ur sight

Will U run up crazy n hold me blue?


When I see my fury fury fury fury life

Can U breath in peace?


Baby I made U up n take U in my head


Voices

Voices

Voices


They make me

Crazy

Dizzy

Hazy

Walls I see


Voices

Voices

Voices


Says here U r

Crazy

Dizzy

Hazy

Here U r (Babe o my)


https://soundcloud.app.goo.gl/cPbeu


শুভেচ্ছা নাও দুহাজার একুশ













আতসবাজি পুড়ছে

বজ্রের মতো ফাটছে

আকাশ জোড়া আলো

ঝড়ের মতো

নক্ষত্রের মতো

ধুমকেতুর মতো

সাদা  হলুদ লাল সবুজ নীল

দ্বীধাহীন উৎসব উত্তেজনা আর আক্রোশেও যেন উগ্র আকাশ

মাটি থেকে আকাশে মানুষের চির উজাড় সম্পর্কের উন্মত্ত প্রকাশ

মানুষ উর্ধমূখী উন্মাদচিত্ত

জীবনের বৈভব নিয়ে আপ্লুত চিৎকারে

নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ 

লক্ষ কোটি সংখ‍্যাহীন

যা গেছে তা যাক 

যত সুখ যত দূঃখ ছিল আছে থাকবে

জীবন্ত আত্মচিৎকারে আলো ও শব্দের তান্ডবে সংগীতের তালে তাদের চির সার্থকতা খুঁজে পাক

কি দেবে কি নেবে কত মূল‍্যে

তাতে নয় কারো প্রাণ চিন্তিত 

চির বহমান চির অক্ষয় সময়ের টানে

অগুনতি নারী আগুনতি পুরুষ

মেতে উঠেছে সৌর জগতের অংশ হয়ে

ভালোবেসে আবাহনে দুহাজার একুশ


https://soundcloud.app.goo.gl/uo5N



Thursday, December 31, 2020

স্কেচ : দুই

যারা আজ আসেনি এলোমেলো বিকেলের আড্ডায় ওরা সবাই কোথায় গেছে তুমি কি জানো?


"ওরা কেউ ফুল তুলতে গেছে বাগানে। কেউ গেছে টাকার খোঁজে আর কেউ নিরুদ্দেশে।"


তুমি গেলে না?


"পথগুলো খুব অচেনা মনে হলো। মনে হলো হারিয়ে যাবো। আর বাড়ি ফিরতে পারবো না"


তোমার বাড়ি? কোথায় তোমার বাড়ি?


"আছে একটা। নদীর ধারে। তোমরা দেখতে পাবে না।"


কে আছে তোমার বাড়ি?


"আমার সবচেয়ে পুরোনো বন্ধুরা। তোমরা চিনবে না।"


তবে চিনিয়ে দিলেই পারো


"আচ্ছা। সময় আসুক, পরিচয় করিয়ে দেবো একদিন। এখন আসি।"


এখন কোথায় যাচ্ছো?


"নদীর ধারে। কিছু বুনো ফুল, পাতা আর ঘাস লাগাবো বাড়িটার চারদিকে। আকাশেও নীল রংটা একটু বাড়াতে হবে আর তুলি দিয়ে কিছু সাদা মেঘ আঁকবো। নদীর জলে একটা ডিঙ্গি। মাঝিটা গাইতে পারলে ভালো হয়।"


আমাদেরও নিয়ে চলো


"আজ নয়। পরে একদিন। সময় হলে তোমরা নিজেরাই চিনে চিনে চলে এসো।"




স্কেচ : এক

মেয়ে তুমি চাও কোন রং বলো তো?


"আমি ওই নীল চাই 

সবুজ গোলাপি হলুদও চাই

বিমর্ষ ছাই চাই

সাদা চাই

কালো ভীষণ একাকী কালোও চাই"


মেয়ে তুমি কোথায় যাবে ঠিক করেছো?


"যেখানে ঝুম বৃষ্টি নামে আর মাটি খুব নরম

যেখানে সূর্যের খুব তেজ

যেখানে পাহাড়গুলো নীল মনে হয়

যেখানে গাছেরা মানুষের মতো কথা বলে"


মেয়ে তুমি স্নান করো ঠিকঠাক?


"হুম করি

যখন জোছনা নামে কিংবা বৃষ্টি হয়

জানো তো আমার জন‍্য অপেক্ষায় থাকে সমুদ্র"


গান জানো? নাচ জানো? 


"আমি গান বাঁধি মনে মনে

আর গাই আত্মাদের কানে কানে

ঘুরে ঘুরে নাচি তার আর তালের যাদুতে

তখন একদম পা ফেলিনা মাটিতে"


মেয়ে তুমি স্বপ্নে কি দেখো?


একটা ছোট আলো সুড়ঙ্গের শেষে

আর দেখি পড়ছি অনেক উঁচু কোনো আকাশ থেকে


ঘুমাও তুমি? খাবার খাও?


"আমি ঘুমিয়ে পড়ি যখন যেখানে ইচ্ছে হয়

আর যখন খিদে পায় খাবার ঠিক পেয়ে যাই"


আর কি ভালোবাসো তুমি মেয়ে?


"একটা করুন সুর ভালোবাসি

আবছা মনে পড়ে আবার পড়ে না

ওই সুরে আছে অপূর্ব সত‍্য"


মেয়ে তুমি খুব বোকা না কি?


"আমি বোকা সেজে থাকি

আর একেবারে বোকাই হয়ে যেতে চাই

বোকা হলে ঠিক জানি মনে পড়বে সুরটা"





টুকরো কথা : বাতি

আজ সন্ধ‍্যায় বেরিয়েছিলাম। বিজয় নগরের বাতির দোকানগুলো সব ঘুরলাম। এতো সুন্দর সুন্দর বাতির মিছিল বাতির ঝাড়। চোখ একদম ধাঁধিয়ে যাবার জোগাড়। টাকা থাকলে হয়তো কেনার কথা ভাবতাম কোন একটা আধুনিক যাদুকরী ঝাড়বাতি। কিংবা হয়তো ভাবতামই না। কিনে লাগাবোটা কোথায়? এতো ঝকঝকে দামি বাতি এই ঘরে বড় বেমানান লাগবে। একটা সময় ভাবতাম যেদিন টাকা হবে অনেক এটা কিনবো ওটা কিনবো। এখন আর ভাবিনা। বরং টাকা না থাকাটা উপভোগ করি কারন ওটা না থাকলেই সব চাহিদার উর্ধ্বে থাকা যায়। বাবার কথা, রুপার কথা মনে পড়ে। ওরা খুব অল্পতে খুশি ছিল। বাবা বলতো "মাগো আমার সব আছে, কেন শুধু শুধু পয়সা নষ্ট করবে? অপচয় করে না মা।" বাবাকে তাও মাঝে মাঝে কিছু ট্রেন্ডি জিনিস কিনে দিতাম। সবাই হাসতো বলতো আমি নাকি পাগল এসব বাবা কোনোদিন পরবে না। কিন্তু বাবা ঠিক পরতো আর মিটমিট হাসতো। সবাই তখন অবাক হয়ে ভাবতো এই ষাটোর্ধো জীর্ণশীর্ণ প্রচন্ড অসুস্থ লোকটা যেকোনো পোশাকই এতো ভালো carry করে কি করে। বাবা ছিল একটা RealDude, সে যখন খুব অভাবে ছিল প্রথমজীবনে তখনও আর যখন আমি ওকে সাজাতে পেরেছি তখনও। সারাজীবন। এতো আলো ছিল তোমার বাবা... এতো আলো! তোমার চারদিকে কি অলৌকিক আলো ছড়িয়ে থাকতো। এখনো থাকে, যখন তুমি আমাকে ঘুমের ভেতর দেখা দিয়ে যাও, সাহায‍্য করতে আসো।

ছোট ছোট কিছু বাতি কিনেছি নীল আর সাদা। গানের ঘরে নীল আর কালো দেয়ালগুলোতে লাগাবো। কিছু নীল গান বানাতে চাই। কয়েকটা কালো আর কয়েকটা অন‍্য রঙেরও। কিংবা পরতে পরতে কয়েক রঙা ছবির মতো কিছু দুঃখের কিংবা আনন্দের গান। আগে থেকে বলাটা মুশকিল। শেষে সবকিছুর কেমন একটা অন‍্য মানে যেন দাঁড়ায়। বাবা মনে আছে তুমি বলতে "মাগো, তুমি আমার ছেলের চেয়ে বেশি। এমন মেয়ে পেলে ছেলের কি দরকার?" সময় সমাজ প্রতিমূহুর্তে আমায় আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে  ছুঁড়ে দিয়ে সারাজীবন জানাতে চেয়েছে আমার সত‍্যিকারের অবস্থানটা কোথায়। মুখ থুবড়ে শুধু পড়ে থেকেছি আবর্জনায় অন্ধকারে। প্রতিবার তুমিই শুধু হাতে একটা বাতি নিয়ে আমার কাছে আসো। যখন বেঁচে ছিলে তখনও আর এখনও। 

শোয়া থেকে উঠতে ইচ্ছে করেনা। তার চেয়েও মনে হয় যেন পারি না। তাও আরেকবার চেষ্টা করবো। বারবার করবো। শুধু নীল বাতিগুলোয় চলবে না। তুমিতো আছো বাবা। আলো অন্ধকারে সারাজীবন আছো। জানি আমি।

https://soundcloud.com/krisbowers/hope?ref=clipboard&p=a&c=0



Wednesday, December 30, 2020

গল্প : পাঁচ : এখনো সারেঙ্গীটা বাজছে

যে বুড়িটা থাকতো পাহাড়ের একদম চুড়ায় পুরোনো সেই কাঠের বাড়িটায়, তার সত‍্যি বলতে কি বয়সের কোনো গাছ পাথর ছিল না। তার চুলগুলো ছিল শনের মতো রুক্ষ আর শরতের মেঘের মতো সাদা ও হালকা। হালের সান্তাদের মতোই ওর মুখে কোনো বলিরেখা ছিল না। রুপকথার ডাইনিদের মতো ওর কোন ঝাড়ু তো ছিলনা কিন্তু ওর ছিল বেশ বড়সড় একটা ড্রোন। বুড়িটা ছোটখাটো ছিল তাই সহজেই ড্রোনটার পিঠে বেশ আয়েস করেই বসতে পারতো আর ওর হাতে থাকতো রিমোট কন্ট্রোল আর একটা মনিটর যেটা ওর কোলে নয় বরং বাতাসেই ঝুলে থাকতো। ড্রোনটার মতো মনিটরটাও ওর সব কথা বুঝতে পারতো আর শুনতে বাধ‍্য ছিল। ওদের দুজনকেই সে একেবারে জাপান থেকে স্পেশাল কাস্টোমাইজড অর্ডার করে আনিয়েছিল। ওরা সব কথা বুঝলেও বুড়িটা রিমোট কন্ট্রোলটা ব‍্যাবহার করতেই বেশি পছন্দ করতো, কারন সে চাইতো ড্রোনটা এবং মনিটরটা সবসময় নিজেদের শুধুমাত্র যন্ত্র ভেবেই একটা নচ্ছার হীণমন্যতায় ভুগুক। বুড়িটা বলার অপেক্ষা রাখে না একদমই যে একটা আস্ত হাড় বজ্জাত ছিল। 


বুড়ি ঘুম থেকে উঠতো বেলা বারোটার পর তারপর দরজা খুলে বেরিয়ে দীর্ঘ‍্যদিন না মাজা দাঁতগুলো বের করে দগদগে সূর্যটার দিকে তাকিয়ে হাসতো আর দুহাতে কাঁচকলা দেখিয়ে বলতো 


"আজকেও পারিসনি

তোকে ভালোবাসিনি

থাকবো আমি কাঠের ঘর

পশ্চিমে তুই ডুবে মর"


ডুমুর গাছের ছটফটে কিন্তু নীরিহ ধুসর আর কমলা রঙের কাঠবিড়ালিগুলো ভীষন ভয় পেয়ে যেতো বুড়ির অমন ফ‍্যাসফ‍্যাসে ঠান্ডা মেজাজের  গলায় ছড়া কাটা শুনে। আর ছুপুত ঝুপুত করে পাতার নিচে লুকিয়ে পড়তো। টের পেয়ে বুড়ি গম্ভীর গলায় বলতো


"হ‍্যাঁরে বলি ছটফটেরা

লুকাস ক‍েনো হতচ্ছাড়া?

দেখলি হলো কত্তো বেলা?

খেয়ে নিলি সব একলা?

গোটা কয় পাকনা বেছে

নিয়ে আয়তো আমার কাছে"


কাঠবিড়ালিদের নেতা বৃহৎকেশ, সবাই ওকে শ্রদ্ধা করে ডাকতো বিগঅ‍্যাস (BIGASS), যার ছিল সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মোটা, কালো আর কমলা রঙের ডোরাকাটা লেজ, কাচুমাচু করে পাতার আড়াল থেকে বেরিয়ে নিচের দিকের একটা ন‍্যাড়া ডালে দুইপায়ে ভর দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়াতো আর সামনের দুটো পা কচলাতে কচলাতে বলতো "আসলে ম‍্যাডাম, হয়েছে কি রাত বিরেতে চামচিকেদের বড্ডো উৎপাত বেড়েছে আজকাল, ব‍্যাটারা চোখে তো দেখতে পায়না কিন্তু এলোপাথাড়ি এমন তান্ডব চালায় যে খাওয়ার চেয়ে নষ্ট করে বেশী। কোয়ালিটি কন্ট্রোলের একেবারে যাচ্ছে তাই অবস্থা। আর..."


এতোটুকু শুনেই বুড়ি বিরক্ত হয়ে পড়তো আর ঝাড়ি মেরে বলে উঠতো


"স্টপ ইন্ট্রোডাকশান পাজির পা ঝাড়া

আসল কথা বল ভনিতা ছাড়া"


বিগঅ‍্যাস একটু ভয় পেয়ে যেতো। তারপরও বুকে থুতু দিয়ে ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলে যেতে থাকতো "ইয়ে মানে আর তাছাড়া কাকগুলো তো আছেই, দু একটা ফিনিশড প্রোডাক্ট তারপরও যা বের করি তা ওরা দলবেঁধে এসে আমাদের ঠোকরাতে ঠোকরাতে কেড়ে নেয়। এখন আপনার সাহায‍্য খুব প্রয়োজন ম‍্যাডাম। এই পাহাড়ের জিডিপি ভীষণ হুমকির মুখে আর জনসংখ‍্যা যে হারে বাড়ছে তাতে পার ক‍্যাপিটা... এতটুকু বলে বিগঅ‍্যাস বুঝতে পারতো সে বুড়ির ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে প্রায়। তাই নিজেকে সামলে গড়গড় করে বলতে থাকতো "তবে আজকের জন‍্য কটা পেয়ারা... যদিও তেমন একটা পাকা..."


কথা শেষ করবার আগেই বুড়ি বিকট হুঙ্কার দিয়ে বিগঅ‍্যাস এর দিকে তর্জনী নির্দেশ করে বলতো


"চোর ছ‍্যাঁচ্চড় নিপাত যাক

গুয়ের মাছি হয়ে যাক"


বিগঅ‍্যাস ভয়ে দুচোখ বন্ধ করলেও এতে তার শুধু একটু পেটে শুড়শুড়িই লাগতো মাত্র আর ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও হেহে হেহে করে হেসে উঠতো। বুড়ি রাগে গজগজ করতে করতে ঘরে ঢুকে পড়তো। মনটা ভীষন খারাপ হয়ে যেতো তার। সবকটা একেকটা চোর বদমাস। যে ব‍্যাটাকেই দায়িত্ব দেয় দুদিন পরই ডাকাত হয়ে যায়! সে কি জানে না যে এই পাহাড়ের যতো খাসাখাসা ডাঁসাডাঁসা সবকিছু শহরের বরফ ঠান্ডা সুপার শপগোলোতে পাচার হয়ে যাচ্ছে আর কি চড়া দামেই না বিকোচ্ছে। নিমকহারামগুলো কি এক ভ‍্যাকসিন নিয়েছিল যে বুড়ির পুরোনো মন্ত্রগুলো আর কোনো কাজই করছিল না এদের ওপর। হতাশ হয়ে বুড়ি বিড়বিড় করে বলছিল


"ভেবেছিলাম আজ থেকে করবো শুরু ডায়েট

মিনিমালিস্ট ভেজিটেরিয়ান লো কার্ব নো ফ‍্যাট"


বুড়ি ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে ছাদের দিকে উদাস হয়ে তাকিয়ে থেকেই বললো


"যা তো ড্রোন ছুটে যা

আন বিফ পিৎজা

যাবি আর আসবি

নয় এখনি মরবি"


ড্রোন বলে উঠলো "ইয়ে...হোম ডেলিভারি নিলে হয় না? সময় বাঁচে। অফার থাকে। তাছাড়া প‍্যানডেমিকের সময়। বোঝেনই তো আমার স্টীল বডি। অতো গোসল করলে কলকবজা... আই মিন শরীরে জং পড়ে যাবে না?" বুড়ি চোখদুটো ছোট করে আর ঠোঁটদুটো ছুঁচলো করে ড্রোনের দিকে এক মুহুর্ত তাকিয়ে থাকলো তারপর তাচ্ছিল‍্যভরে রিমোটে 'ওকে' বাটন প্রেস করলো। 


দশ মিনিটের মধ‍্যে পিৎজা এসে হাজির হলো। ডেলিভারি ড্রোন গার্লটা অত‍্যন্ত নিপুনভাবে সোশাল ডিসটেন্সিং এবং হাইজিন ম‍্যানটেইন করে টেবিলে তা পরিবেশনও করে দিল। তারপর ওর গোলাপি এন্টেনা দুটো বাঁকিয়ে সৌজন‍্য দেখিয়ে বেরিয়েও গেল। বুড়ি খেতে বসতেই বুড়ির ড্রোন ছুটে এলো আর হড়বড় করে বললো  "বাইরে কাক চিলের এতো উৎপাত! ম‍্যাডাম,  আমি ওনাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসি। কি বলেন?" বুড়ি এমন ভাব দেখালো যেন কিছু শুনতেই পাচ্ছে না। ড্রোন তড়িঘড়ি বেরিয়ে যেতেই মনিটরটা বুড়ির কানের কাছে এসে কুচুটে গলায় বললো "দেখলেন ম‍্যাডাম ড্রোনটা কত্তো বড় একটা লুইচ্চা লাফাঙ্গা। সব ওর আগে থেকে প্ল‍্যান করা..."। বুড়ি রিমোটকে ইশারা করলো মনিটরটা মিউট করে দিতে। খাওয়া দাওয়ার সময় কানের কাছে আজাইরা কুটনামি ধাঁচের বকবক তার একদম পছন্দ না। আর তাছাড়া নানান ঝামেলায় প্রায় দুপুর একটা বাজতে চললো।


খাবার দাবার খেয়ে ফ্রি কোলাটা গলায় ঢালতে ঢালতে কিছুক্ষণ নেটফ্লিক্সে চোখ রাখলো বুড়ি। কিন্তু এতো এতো সিরিয়ালের ভীড়ে কোনটা দেখবে ঠিক করতে না পেরে শেষে বেচারা ড্রোনকেই ডেকে পাঠালো। সে হন্তদন্ত ছুটে আসতেই ধমক দিয়ে উঠলো 


"কোথায় থাকিস নচ্ছার?

হাওয়া খাবো সাগর পাড়"


বলেই কিছু চিপসের প‍্যাকেট আর বাদামের কৌটো নিয়ে ধপাস করে বসে পড়লো ড্রোনের পিঠে আর রিমোটটা দিয়ে ইন্সট্রাকশান দিতে থাকলো। অন্তত একশো ফুট ওপর দিয়ে ওরা চলতে থকলো শহরের দক্ষিণ দিকে। বুড়ির মেজাজটা ততোক্ষণে বেশ ফুরফুরে হয়ে উঠেছিল। ওর সাদা চুলগুলো পাখির ডানার মতো উড়তে থাকলো, আবেশে যেনো চোখ বন্ধ হয়ে যেতে চাইলো। মনিটরে ড্রোনের হাই ডেফিনেশন ক‍্যামেরায় তোলা নিচের সব ছবি আসতে লাগলো আর কোনোটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেই মনিটর তার বিস্তারিত জানাতে থাকলো। দুপুর দেড়টা নাগাদ ওরা পৌঁছে গেল একেবারে সমুদ্রের পাড়ে কনক্রিটের ব্লকের ওপরে।


বুড়ি একটা ব্লকের ওপর বসতো। রিমোটটা পাশে রেখে দিত। ড্রোন আর মনিটরও আশেপাশেই থাকতো। ওরা জানতো বুড়ি তখন একদম অন‍্যরকম হয়ে যাবে আর এক মনে বিড়বিড় করতে থাকবে। দিনের এই সময়টাতেই শুধু ড্রোন আর মনিটরকে এমন কি রিমোটকেও একটু মানুষ হিসেবে গণ‍্য করতো বুড়ি। তবে ওরা বুঝতো না এই দুপুর দেড়টার ঠা ঠা রোদ্রে আর কোন পাগল সমূদ্রের হাওয়া খেতে চাইতে  পারে। ড্রোন বেচারা এতো গরম হয়ে উঠতো যে সে সারাক্ষণ তার কলকবজা নিয়ে ভয়ে থাকতো আর মনিটরের এমন চোখ ধাঁধিয়ে যেতো যে মনে হতো এই বুঝি চিরতরে অন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু ওদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর বুড়ির বিড়বিড় শোনা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকতো না। আর এভাবেই চলতে থাকতো বেলা তিনটে নাগাদ। তারপর বুড়ি আবার বাড়ি ফেরার জন‍্য তড়িঘড়ি শুরু করতো। কেন যে এমন করতো কে জানে? শুধু একদিন জিজ্ঞেস করতেই খেজুর গাছের বুড়ো তক্ষকটা বলেছিল "জানিস কি? তোর ঠ‍্যাং, তোর বাপের ঠ‍্যাং? যাচ্ছে তাই জেনারেশান! বুড়ির যে সূর্যাস্ত দেখতে নেই তাই জানিস না?" ওরা আরও কিছু জানতে চাইলে বুড়োটা খ‍্যাঁক করে উঠেছিল "থুতু মেরে একদম জ্বালিয়ে দেব চকচকের দল আর যদি ত‍্যাক্ত করিস। নিজে নিজে খুঁজে বের কর। সব রেডিমেইড পেয়ে গেলে হয়? একটু ঘাঁট, একটু পড়াশুনা কর ভাই বেরেদার।" নচ্ছার হিংসুটে মারমুখী বুড়ো তক্ষকটাকে ওরা আর কোনোদিন ঘাঁটাতে যায়নি তারপর। কিছু কিছু যা শোনার বুড়ির মুখেই শুনে নিয়েছিল ওরা কোনো প্রশ্ন না করে।


কিছুক্ষণ বসে থাকবার পর বুড়ি বিড়বিড় করতে শুরু করতো


"বুঝলি পাখি? বুঝলি ছায়া?"

(এই সময়টা বুড়ি ড্রোনকে পাখি আর মনিটরকে ছায়া বলে ডাকতো)

"জীবন হলো আজব মায়া

একদিন এত্তোটুকুন ছিলাম

বাবার সাথে সাগর পাড়ে

কত বিকেল ভর খেলতাম

ঝিনুক মালা ঝিনুক দুল

কিনে নিতাম ঝিনুক ফুল

কুশি পেড়ে নকশা কাটা

ফ্রকটা পরে কতো ছুটতাম

তখন কতো পাখি আসতো 

কাঁকড়া কাছিম ছুটে যেতো

আকাশ এতো নীল ছিল

নীল জলে পা ভেজাতাম

যখন আমি বড় হলাম 

এই সাগরে নাইতে এলাম

সাগর পাড়ে হঠাৎ এক 

রাজপুত্তুর দেখতে পেলাম

ভর সন্ধ‍্যায় বালির ওপর 

হাঁটু মুড়ে বসতো সে

বাজিয়ে যেতো সারেঙ্গী

অন্তরীন এক দৃষ্টিতে

এতো করুন সুর বাজাতো

সমূদ্রটা কাঁদতো শুনে

ঢেউগুলো সব আছাড় খেতো

তারাদেরও কান্না গুনে

আমিও তার চারিদিকে

হাওয়ায় ভেসে নাচ করতাম

সুরগুলোকে গায়ে মেখে 

কান্নাগুলো উগড়ে দিতাম

হাতে থাকতো রক্ত গোলাপ

হাতে থাকতো কামিনী

তার কথাই ভেবে ভেবে 

কাটতো দিবস যামিনী

একদিন এতো রাগ হলো

মেহগনির ডাল দিয়ে

দিলাম ক ঘা মাথায় তার 

রক্ত পড়লো গড়িয়ে

সারেঙ্গীটা থেমে গেল

ভিজে গেল রক্ততে

রাজপুত্তুর লুটিয়ে গেল

সূর্যাস্তের সৈকতে

ছুটলাম আমি চারিদিকে

হয়েছিলাম দিশাহারা

সাগর আমায় শাপ দিল

শাপ দিল তারারা

'একলা বেঁচে থাকবি তুই

মরতে কভু চাইবি না

চুলগুলো তোর সাদা হবে

কিন্তু বয়স বাড়বে না

ভালবাসিস যদি নিষ্কাম

দূরের নরম সূর্যকে

মুক্তি পাবি সেদিন তুই

দেখতে পাবি মৃত‍্যুকে'

বুঝলি পাখি? বুঝলি ছায়া?

জীবন হলো আজব মায়া

তারপরে তো কেটে গেছে

দুশো কিংবা তিনশো সন

কাউকে ভালোবাসবো নারে

কাঁদুক আমার সবুজ মন"


এই বলে বুড়ি একদম চুপ করে যেত। বুড়ির কথাগুলো  ড্রোন আর মনিটরের কাছে দূর্বোধ‍্য ধাঁধার মতো মনে হতো। কি আর করবে, ওরা তো আর সত‍্যি সত‍্যি মানুষ নয়। তবে ওরা সত‍্যিই চাইতো বুড়ির গায়ের কাছে ঘেঁষে জড়িয়ে বসে থাকতে কিন্তু ঠিক সাহস করে উঠতে পারতো না।


পরদিন সকাল দশটায় সরকারি ম‍্যাজিস্ট্রেটদের হাঁকডাকে ঘর থেকে বেরুতে হলো বুড়িকে। ওরা খুব ভদ্রভাবেই বুড়ির হাতে সরকারি সমনটা দিল আর মুখেও জানালো যে এই কাঠের বাড়িটাকে সরকার বাসের অযোগ‍্য বলে ঘোষণা করেছে তাই বুড়ি ওখানে আর থাকতে পারবে না। আর তাছাড়া সরকার ঠিক করেছে ওই পাহাড়ে একটা আধুনিক ফাইভস্টার রিসোর্ট বানাবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি খালি করতে হবে। বুড়ি সব শুনে বাড়িটার দিকে তাকালো কিছুক্ষণ। দেখলো আরে সত‍্যিই তো বাড়িটাতো আসলেই ভীষণ ঝুরঝুরে হয়ে পড়েছে, জায়গায় জায়গায় তক্তা নেই, একটু যেন বাঁকাও, কোন এক ভুমিকম্পে হয়তো খুঁটি নড়ে গিয়েছিল। বুড়ি ময়লা দাঁতগুলো বের করে হেসে সরকারি ম‍্যাজিস্ট্রেটকে দুহাত জোড় করে ধন‍্যবাদ জানালো। বুড়ির হাসি দেখে ম‍‍্যাজিস্ট্রেটের এমন পিলে চমকে উঠলো সে পড়ি কি মরি করে তাড়াতাড়ি পালিয়ে বাঁচলো। বুড়ি হাঁক দিয়ে উঠলো


"গোলাম আমার কোথায় তোরা

করলে দেরী খাবি গাঁট্টা

গোছগাছ সব নে করে

ছাড়তে হবে শহরটা"


তারপর মাত্র দশ মিনিটের মধ‍্যেই ওরা অন‍্য শহরে রওনা করলো। যেতে যেতে মাঝপথে বুড়ি শুধু একবার মাথার ওপরে তেজী সূর্যটাকে জিভ বের করে কাঁচকলা দেখিয়েছিল।

https://youtu.be/scUSUD-SDvI









আবোলতাবোল : চার

পন্ডিতে কয় পানিভাত

বন্ধুরা কয় দুধভাত

জ‍্যোতিষীরে হাতখান

দেখাইতে চাই


মায় কইছে কালী

দুলাভাইয়ে শালী

আনন্দেতে রাতদিন

কোমর নাচাই


মাইয়ালোক মূর্খ

বুদ্ধি নাই সূক্ষ

যুবকরা ভালোবাসে

গোপনে সানাই


মেট্রো লাইফে

কথা কও মাইপে

কমেন্টের আগে করো

যাচাই বাছাই


কার বাপ ধনী?

কার বাপ ফকিন্নি?

কার পোড়া মুখে

কয় মণ ছাই?


কে গেল ভেগে

কে এলো হেগে

ফেবুতে রাতদিন

ধানাই পানাই


বিড়ি ফোঁকা বিটলা

আজ রুই কাতলা

কাঁচা নোট পাকা নোট

বিনুদোন পাই


মসজিদ মন্দীর

মার্কেটে ধুম ভীড়

কোভিড নাইনটিন

কেয়ার থোড়াই


শক্তের ভক্ত

তেঁতুলের রক্ত

টগবগ ফুটলে

চান্দে পাঠাই


দাড়িওলা শয়তান

গুরুজী আব্বাজান

চোদা দেয় রাতদিন

রাজা বাদশাই


ইস্কাবনের বিবি

মরার আগে ছবি

নিমকহারামের

নিস্তার নাই


শিল্প সংস্কৃতি 

মিনার প্রতিকৃতি 

যাদের ঈমানে লাগে

ধরে লাইত্থাই


শহীদের চেতনা

যারা ধার ধারেনা

তাদের পেছনে চল

আগুন লাগাই


এই দেশ এই মা

হাত দিয়ে দেখনা

ঝাঁটার বাড়িতে কেমন

বীষটা নামাই






Tuesday, December 29, 2020

আবোলতাবোল : তিন

আম পাতা জোড়া জোড়া

বেল গাছ তলে যায় না ন‍্যাড়া

বেল পাকলে কাকের কি?

মসলা কুটে বউ আর ঝি


রান্ধেন বাড়েন খান না কেন?

কোলা ব‍্যাঙের ঘ‍্যাঙর ঘ‍্যাঙ

ষড়যন্ত্রে স্বরযন্ত্র

আবার হবে বিগ ব‍্যাং


বাচ্চালোক তালিয়া বাজাও

ভ‍্যাক্সিন আসছে আসর সাজাও

ব্রেক্সিট ফিক্সিট ব‍্যাংক ডেপোজিট

সামলে রেখো শেয়ারটাও


গড়গড়িয়ে আসছে আশা

একুশ হবে আয়ুষ্মান

সুইসাইড নোট জালি ভোট

ভুগতে হবে কর্মখান


কৃষক শ্রমিক এক হয়না

সাম‍্য গেছে গড়ের মাঠ

নারী থাকবে গোনার বাইরে

কুশিক্ষার সহজ পাঠ


পাট ফলবে পার্টও পাবে

রাজনীতির জয়গান

বঙ্গবন্ধু গুমরে কাঁদে 

আরামে নয় সাবধান


মাথার ভেতর উল্টো পা

মাথার ভেতর গু ভরা

খাচ্ছো দাচ্ছো আর কি চাই

বিলুপ্ত প্রায় শিরদাঁড়া


আবার ওদের হাঙ্কিপাঙ্কি

দেখেও কি ভাই দেখছো না

তোমার ঘরেই কাটবে সিঁদ

বোবা হয়েও বাঁচছোনা


মারছে গুঁতো দিচ্ছে কিল

কালকে আবার ফেলবে লাশ

তোমার আমার পাপেই হবে

বীর বাঙালির সর্বনাশ 


Listen to আবোলতাবোল by Tahmina Aspired on #SoundCloud

https://soundcloud.app.goo.gl/hxsW1




আরেকবার ফিরে এসো (Elaborated)

অনেক রাত তারারাও ঘুমিয়েছে

মেঘেরাও হয়েছে পথহারা

স্তব্ধতা আমাকে ভাবিয়েছে

নির্ঘুম দুচোখ দিশাহারা


আরেকবার ফিরে এসো

আরেকবার ফিরে এসো


(ঢাকা, ২০১৭)



They never told U 

They never knew

M such a mess

A mess beyond explanations n perceptions

I live a hell without demonstration n execution

Stickin in a damn wheel of death n punishment 

From ma first cry in a hate n resentment

When I donnow even what's wrong I did

(Babe) I donnow what did I drag down n what's the sin?

Tired of fightin ma own thoughts n persistence 

Tired of pushin the time n save ma existence

M loosing a hope (babe)

Donnow how to cope (babe)

Ma own words n notes hurt me like hounds from hell

Ma past is followin me like a barg only knows to kill

Can't breath in full (babe)

Can't wake up full (babe)

M in a black hole 

Drowned me in darkness

There's no life here 

Trapped in somethin truly endless

Don't know babe how to live back

Don't see any light to thrive back

M bout to give up 

Give up on me myself (babe)

Gettin closer to the closure

Can't hold all of it by myself (babe)

If U could show up again (babe)

We could call them up (may be)

The angels who bring love to (the earth)

Could help us to live n get old together 

Could breath again with Ur heart beats

Could tell U the wishes I kept alive still

Could hold U with ma true skin (right)

Could make it beautiful in the darkness (of night)

True flashes to flashes

True soul n true ashes

U gonna love me this time (Babe)

M gonna give U ma deepest vibe (babe)

We could make it right (babe)

We could reach on some high (babe)

Just come back 

With all Ur sweats n woe

Just come back

There's still some waitin more

Just come back

with all ur sweats n woe

Just come back

There's still some waitin more


(Elaborated, Dhaka, 2020)


অনেক রাত তারারাও ঘুমিয়েছে

মেঘেরাও হয়েছে পথহারা

স্তব্ধতা আমাকে ভাবিয়েছে

নির্ঘুম দুচোখ দিশাহারা


আরেকবার ফিরে এসো

আরেকবার ফিরে এসো


আরেকবার ফিরে এসো

আরেকবার ফিরে এসো


আরেকবার ফিরে এসো

আরেকবার ফিরে এসো






বারান্দায় ক‍্যান্সার

গাছেরা মন খারাপ করে, কখনো কখনো আত্মহত‍্যাও করে। আজকাল বড় ক্লান্ত লাগে, সারাদিন শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, শুয়ে থাকিও। ওরা চায় আমি ওদের সকাল সন্ধ‍্যা গান শোনাই, কথা দিয়েছিলাম, রাখতে পারিনি। রাতে ঘুমের মধ‍্যে মাঝে মাঝে যেন নিঃশ্বাস আঁটকে যায়। শুনতে পাই গাছগুলো ঘুমের মধ‍্যেই কেঁদে উঠছে। ওরা ভয়ে ভয়ে থাকে আমাকে নিয়ে। ওরা খাওয়াদাওয়াও বন্ধ করে দেয় মাঝেমাঝে। আমি ওদের কতো বোঝাই, ঠিক যেমন বাবা বোঝাতো বহুদিন আগে। খুব রাগ হয় আজকাল। কিছু করার নেই। যদি ছেড়ে যেতে চায় ওরা, যদি কোনোদিন আমার না হতে চায়, তবে তাই হোক। হাতের বাইরে চলে যাবার আগে জসীমকে বলি কোন একটা উদ‍্যানে কিংবা অন্তত নিচে মাটিতে ওদের নতুন ঘর গড়ে দিতে। ওরা চলে যায় আমি ধীরে ধীরে একদিন ওদের চেহারা গন্ধ সব ভুলে যাই। গাছগুলো ভয়ে ভয়ে দিন কাটায়। বকাঝকা শুনলে ভীষণ অসহায় হয়ে পড়ে। আর এতো অভিমান করে। সেদিন টব বদলে দেবার সময় একটাকে দেখিয়ে বলেছিলাম "এটাকে অন‍্য একটা সাধারন টবে দেব, সুন্দর টবটার জন‍্য ভাল একটা দামী গাছ কিনে আনবো।" জসীমও সায় দিল "ঠিক বলছেন ম‍্যাডাম। তাইলে বালো অইবো।" এইসব শুনে এতো রাগ করলো গাছটা, এতো খাবার দিলাম, পানি দিলাম, এতো রকম করে বোঝালাম, তবু মরে গেল। চার বছর আমার কাছেই ছিল গাছটা, সবুজ, সতেজ, মাঝে মাঝে পানি দিতে ভুলে গেলেও ক্ষমা করে দিতো। 

আজকাল বুকে ব‍্যাথা করে, ওদেরও বুকে ব‍্যাথা করে আমি জানি। শত ভাবলেও শুধু কষ্টের গানগুলোই মনে পড়ে আর কষ্টের গানগুলো শুনতেই ইচ্ছে করে। তেমন রোদ ওঠেনা অনেকদিন। টানা মেঘ আর কুয়াশায় ওরা বিমর্ষ হয়ে পড়তে থাকে আরও। ফুল ফুটিয়ে যায় কিন্তু তবু কি এক গাঢ় বিমর্ষতাই ছেয়ে থাকে বারান্দায়। একটা গোলাপ গাছে ক‍্যান্সার। বেশ কয়েকবার ছেটে দিয়েছিলাম কিন্তু লাভ হচ্ছেনা। কিছুদিন ভাল থাকে, নতুন পাতাও গজায় তারপর আবার ক‍্যান্সারটা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আজকাল আর ছাটিনা। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি আর হিসেব করতে চেষ্টা করি পুরোপুরি মরে যেতে আর কতোদিন লাগতে পারে। বুঝি এতোদিনে আমিও  নিষ্ঠুর হতে শিখে গেছি।

আবোলতাবোল : দুই

লড়ে চড়ে গাছের পাতা

কেমন আছো ক‍্যায়া পাতা?

নেই তোমার ঠিকানা

হারিয়েছি নাম্বারটা


ভাল আছি ভাল থেকো

ফেসবুক একটিভ রেখো

রিসেন্ট ছবি আপলোড দিও

মনের কথাও খুলে লিখো


আমরা নই আপনজন

তার আর কি বলো প্রয়োজন?

এই দেহ এই মন

কতক্ষণ আর কতক্ষণ?


ইয়ার তু নে ক‍্যায়া কিয়া?

প‍্যায়ার নেহি ডারনা কিয়া!

আতি পাতি শুধু শুধু

মুন্নিকো বদনাম হুয়া


তা যাক কি আর করা 

ডোবেনা জলে প্রেমে মরা

জলেরও হায় অশুচি

একলা ঘরে সর্বহারা


তখন আমার বয়স কম

নীল শাড়ি নীল টিপ

জীবন মৃত‍্যুর মাঝখানে

এখন আমার ছেঁড়া দ্বীপ 


তোমার আমার ঠিকানা

নয় পদ্মা মেঘনা যমুনা

ওইপারে দেখা হলে

হাত আমার ছেড়োনা


বুকের মাঝে রেখো আমায়

তুমিই হইও সুজন

এই পৃথিবীর দাম মেটাবো

তুমি আমি দুজন





Monday, December 28, 2020

আবোলতাবোল : এক

তুমি এসেছিলে পরশু

সে এসেছিল গতকাল

তুমি আলালের ঘরের দুলাল

সে দালালের ঘরের উলাল


কেটেছিলাম খাল

তাই ঢুকেছিল কুমির

কোনোটা ফকিন্নীর পো

আর কোনোটা আমীর 


জাগো বাহে কুন্ঠে সবাই

শুনেছিলাম হাঁক 

ঘুঘুর ফাঁদে দেখলাম এ কি!

বাসা বাঁধে দাঁড়কাক


সবাই নাচো কুঁদো

কন্ঠ ছাড়ো জোরে

(ও হে বাচ্চালোক, I say REPEAT)

সবাই নাচো কুঁদো

কন্ঠ ছাড়ো জোরে

ধর্মের কল ঠিক একদিন

বাতাসেতে লড়ে



গল্প : চার : তুবা

নগ্নতাকে যদি কোন Passion হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় তবে হয়তো সবচেয়ে খুশি হতো আমাদের একসময়ের টমবয় তুবা। কলেজে যখন তুবা ছিল অন‍্য সব ছেলে কিংবা মেয়েদের ধরাছোঁয়ার একদম বাইরে আর একই সাথে উত্তোরাধুনিক ও পৌরানিক সকল অবজ্ঞাময় ও ব‍্যাঙ্গাত্মক জীবনযাপন এবং শব্দভান্ডারের কেন্দ্রবিন্দুতে তখন কোন এক আহত যুবক তুবার ক্ষীনদেহ, সমতলপ্রায় বক্ষসৌষ্টব আর ছোটছোট করে কাটা চুলগুলোকে ইঙ্গিত করে বলেছিল "She is only a spoiled chic TomBoy. ওরে নিয়ে ভাবার কি আছে?" সবাই নামটা পছন্দ করেছিল আর কেন যেন আরো ভালবেসেছিল তুবাকে। ওরা সবাই মিলে আগলে রাখতো তুবার মুক্ত ও দ্রোহপূর্ণ অবস্থানটাকে, কেন তা হয়তো ওরা নিজেরাই জানতো না।


তুবার বাবাই ওর নাম রেখেছিল "তুবা", একটি কোরানিক নাম যার অর্থ হলো আনন্দ কিংবা উচ্ছাস। ধারনা করা হয় তুবা একটি গাছ যা শুধু স্বর্গেই জন্মে, যার ডালে বসে গান গায়, বাসা বাঁধে রহস‍্যময় ফিনিক্স পাখি। স্বর্গবাসীরা তুবার সৌরভে মাতোয়ারা হয়, তার ফুলের দর্শনে তাদের হৃদয়ের অহংকার দূর হয় আর আশির্বাদী ফলে তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। আমাদের তুবা একটি উচ্ছসিত গাছের মতোই ছিল কিন্তু ভুল করে পৃথিবীতে জন্মেছিল বলে ও ভীষন ছুটতে পারতো, পাহাড়ে ও গাছে চড়তে পারতো, উদ্দাম নাচতে পারতো, যখন ইচ্ছে কাছে আসতে পারতো আবার দূরে দূরে সরে যেতে পারতো। শহরের সবচেয়ে বড় অভাগা ছিল যে বা যারা তুবার প্রেমে পড়েছিল সে সময়। ওরা মাথায় সুন্দরতম শব্দগুচ্ছ আর হাতে দূর্মূল‍্য উপহার নিয়ে যখনই আত্মপ্রকাশ করতো তখন তুবা, কি জানি বুঝে নাকি না বুঝে, তাদের শহরময় এমন দৌড় করাতো যে শরীরের সমস্ত ঘাম এবং ইচ্ছেশক্তি নিঃশেষ হবার পর ওরা শব্দগুচ্ছ এবং উপহার দুইই ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিত এবং মনে মনে প্রতীজ্ঞা করতো আজীবন দূর থেকে ওর ওপর নজর রেখে যাবে। 


তুবার সাথে কারো সত‍্যিকারের শত্রুতা কোনোদিন ছিলনা। সে গলা ছেড়ে গাইতো সুখ, দুঃখ কিংবা জাগরণী গান, আওড়াতো অমোঘ কবিতার লাইন আর এমন সব বাক‍্য বলে উঠতো যে লোকেরা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রশ্নটির মুখোমুখি থমকে দাঁড়াতো। খুব সাধারন মানুষটিও ওর গান, কবিতা কিংবা বাক‍্যগুলোর সহজ স্বাভাবিক মানে করতো না কেন সে প্রশ্ন হয়তো তুবাই নিজেকে সবচেয়ে বেশি করেছে আজীবন। কলেজে সেদিন সবাই রীতিমতো আঁতকে উঠেছিল যেদিন তুবা ভর দুপুরে কলেজের মাঝখানে এক এলোমেলো ভীড়ের মধ‍্যে তেমন একটা না চেনাজানা মেয়েকে বললো "You have beautiful lips. Can I kiss you?" মেয়েটা কেন যে খুশি হয়ে উঠেছিল আর আন্তরিকতার সাথে বলেওছিল "Yes"। তারপর ওই অত্তো বৈচিত্রপূর্ণ ভীড়ের মধ‍্যেই ওরা দুজনই দুজনের ঠোঁটে একটা আবেগপূর্ণ ভেজাভেজা চুমু খেয়েছিল অল্প সময় তারপর দুজন দুজনকে "Thanks" বলে উল্টোদিকে হেঁটে চলে গিয়েছিল। ঘটনাটা এতোটাই আকস্মিক ও সততাপূর্ণ ছিল যে ওই তরুনদের মিছিলটা মোহমুগ্ধ হয়ে উঠেছিল কিছুক্ষণের জন‍্য হলেও। পরে ওরা এ নিয়ে কি আলোচনা করেছিল কিংবা বিচার সভা বসাবার কথাও ভেবেছিল কি না তার খবর তুবা কখনো রাখেনি কিংবা ভীড়ের সেই মেয়েটার খবরও আর কোনোদিন রাখেনি। ওর শুধু ঠোঁট দুটো মনে পড়ে আর মনে পড়ে জীবনের প্রথম সেই চুম্বনের কথা আজো। 


না, আমাদের তুবা কোনোদিনই সমকামী ছিল না। সমকামী নারীদের সে চিরকাল ফিরিয়ে দিয়েছে একরকম সীমাবদ্ধতার অপরাধবোধ নিয়েই। চিরকাল অপেক্ষা করেছে তার সেই একমাত্র প্রিয়তম পুরুষের বিশ্বাসী আলিঙ্গন, কামনাগ্রস্ত উত্তাপ, মোহময় গন্ধ আর অপ্রতিরোধ‍্য মিলনের জন‍্য। কিন্তু ওর ভালবাসার পুরুষ ছিল হয়তো ওর কল্পনাতেই বন্দী, ছিল একান্তই নিজের জগতের এক অধরা ভুত, বাস্তবতায় যার অস্তিত্বই থাকবার নয়।  চোখে বিষাদ, হৃদয়ে শুণ‍্যতা, মাথায় বিমূর্ত চেতনা আর ঘাড়ে এক অনিবৃত্ত ক্ষুধা নিয়ে তাই সে ভুতের সাথেই কথা বলে বলে ওর রাতদিন কাটতে থাকে। সময়ের এবং আদর্শের বিবর্তনে কখন যে তুবা হয়ে উঠেছিল সবার বিদ্বেষ  প্রকাশের এবং চর্চাসুখের আধার তা সে জানতোই না। শুধু তাদের চোখে ঘৃণা পড়ে নিত প্রতিদিন আর একলা একলা হেঁটে যেত কোনো ব‍্যস্ত ফুটপাত, ওভার পাস কিংবা কোনো পাইকারি বাজারের ভীড়ের মধ‍্য দিয়েই হয়তো। খেটে খাওয়া সদাব‍্যস্ত ধেয়ে চলা শ্রমিকদের চোখের ক্রোধ, ধিক্কার কিংবা কোনো অপরাধ প্রবনতাকেও এড়িয়ে সে খুঁজতে শুরু করেছিল তার মানবজন্মের সত‍্যিকার মানে। আলোর নিচে অন্ধকার নয় সৌরজগতের গৌরব বেঁচে থাকে প্রতিটি সংগ্রামে এই বিশ্বাসের আঁকুতি নিয়ে ওদের মুখের দিকে চেয়ে থাকতো তুবা। 


বলছিলাম নগ্নতা আর তুবার নগ্নতাপ্রেমের কথা। পরিবারের মেয়েদের মধ‍্যে সবচেয়ে গাঢ় রঙের চামড়া নিয়ে জন্মেছিল তুবা। সকলের সমস্ত উপেক্ষা, দুঃশ্চিন্তা এমন কি ঘৃণাকেও বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তুবা একটা দিনবদলের বাতাসে ওর পালকের মতো হালকা মন ও দেহটাকে ভাসিয়ে দিয়েছিল যেন। নিজের সাথে তার এতো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল যে আয়নার সামনে নিজের নগ্ন চেহারাটা দেখতে থাকতো প্রতিদিন আর দুহাত ওপরে তুলে এমনভাবে দাঁড়াতো যে ওকে সত‍্যিই স্বর্গের একটা দিনে দিনে বাড়তে থাকা গাছ বলেই মনে হতো। বাতাসে যখন ওর চুলগুলো উড়তো যেন মনে হতো ফিনিক্স পাখি ডানা মেলে গান গাইছে কোনো যার প্রতি স্বরে আছে পৃথিবী আর স্বর্গের চরম কোনো সত‍্য। ছোটবেলায় তুবার চোখদুটো নীল ছিল কিন্তু বড় হতে হতে তা পৌঁছে গিয়েছিল কালোর কাছাকাছি। তবে ওর টলটলে চোখে আকাশ ঠিক তার একাগ্রতার নীল ছায়া ফেলে গেছে চিরকাল, যেমন ছায়া ফেলে যায় পবিত্র নদী কিংবা সমুদ্রের বুকেও, সেই নীল চোখ শুধু প্রেমার্থীরাই দেখতে পায়। প্রেমে পড়লে মানুষ যে ভীষন হাঁদা হয়ে যায় তা তুবা খুব ভালোই জানতো। ও প্রায়শই মন দিয়ে ওদের নানান দূঃখের কথা শুনতো আর কি করে তা থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করতো। একজন সহমর্মী বিশ্লেষক এবং আন্তরিক মুশকিল আসানকারী হিসেবে ওর বেশ জনপ্রিয়তা ছিল পরিমন্ডলে। কিন্তু ওই প্রেমার্থীদের কেউ কখনো কখনো যদি ভুলেও ওকে স্পর্শ করতে চাইতো কিংবা কখনো আবেগে দেবী ভিনাসের সাথে তুলনা করে বসতো, ওর ইন্দ্রীয়গুলো সতর্ক হয়ে উঠতো আর মাথার ভেতর "Danger Danger" এলার্ম বাজাতে থাকতো। বহুবার 'বন্ধুদের ভাষায়' অতল খাদের প্রান্ত থেকে ফিরে এসেছিল তুবা। বন্ধুদের বোকা বোকা উৎকন্ঠা দেখে শুনে আকাশ বাতাস ফাটিয়ে হাসতে থাকতো তুবা তারপর আবার কি এক চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে পড়তো। বন্ধুরা বুঝতো না বিরক্ত হবে কি না আর ভাবতো কি এমন আছে তুবার ভেতর যার সন্ধানে থাকে এতো লোক? তুবাকে কেউ চটাতো না কারন ওর চোখে কি যেন এক গভীর বোধ ছিল যাতে সবার বুক কেঁপে উঠতো, ওরা যেন দেখতে পেত সেখানে কোন দূর্বাশার সাধনার আগুন আর জলের সহাবস্থান আর তারচেয়েও বড় কথা তুবার ছিল প্রবল ষড়যন্ত্রের দক্ষতা এবং হাত পায়ের ক্ষিপ্রতা। 


আমাদের প্রিয় তুবা কখন যে শান্ত হয়ে গিয়েছিল আর অন্ধকার একটা ঘরে থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা আমরা কেউ জানতাম না। আমরা তখন  নিজেদের ইঁদুর দৌড়ে তৈরী করতে ব‍্যস্ত আর নিজেদের যাবতীয় জটিল সমীকরণময় অংকগুলো সমাধান করতে প্রাণপাত করে যাচ্ছি। তুবা দিনরাত অন্ধকার দেয়াল বা ছাদের দিকে তাকিয়েই পার করে দিয়েছিল বছরের পর বছর। কিছু যে আসলে ভেবে যেতো এমনও নয়, ও যেন মাথার ভেতর একটা অন্ধকার গোলকধাঁধায় আঁটকে পড়ে গিয়েছিল। বেশ কিছু বছর এভাবেই একটা বিকল বিন্দুতে পড়ে থাকবার পর হঠাৎ একদিন কি মনে করে ময়লা জামা গায়েই বাইরে বেরিয়ে পড়লো আর হাঁটতে শুরু করলো। হাঁটতে হাঁটতে একেবারে শহরের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেল। সমূদ্র আর নদীর যেখানে মোহনা সেখানে লম্বা দেয়ালের ওপর একলা বসে রইলো একটা ভীনগ্রহের প্রাণীর মতো। রাতও নেমে গিয়েছিল ওভাবে বসে থাকতে থাকতে। রাত যখন বেশ আরো গভীর হলো তখন এক উৎসুক বখাটেকে জিজ্ঞেস করলো "I don't know how did I reach here. Can you take me home?"


তুবা জীবন বদলে নিয়েছিল। সে নতুন করে নগ্নতার প্রেমে পড়েছিল। নিজেকে আবার দেখতে শুরু করেছিল আয়নায়। সে আবারো নিজের জগতে মশগুল হয়ে পড়লো। মাথা থেকে ঝেড়ে ফেললো যত অশুচিতার বিশ্বাস। প্রেমার্থীদের সে ছুঁয়ে দেখতে দিল তার কোমল ত্বক আর শুষে নিতে দিল তার যৌবন সুধা। প্রেমার্থীরা জানালো তুবা সত‍্যিই একটা রহস‍্যময়ী সবুজ গাছ। ওদের কথা কতোটা সত‍্যি তা কেউ আমরা জানিনা কিন্তু ওই প্রেমার্থীদের মনোবাঞ্ছা কিভাবে যেন পূরন হয়েছিল। আঘাতপ্রাপ্ত পেয়েছিল শান্তি, অস্পৃশ‍্য পেয়েছিল মর্যাদা, উচ্চাকাঙ্খী পেয়েছিল আত্মবিশ্বাস, শিল্পী পেয়েছিল কল্পনা, দুষ্কৃতী পেয়েছিল নীলনকশা, হতাশাগ্রস্ত পেয়েছিল নবজীবন।


(ক্রমশ...)





English Translation of Bangla Folk Song: Fakir Lalon Shah; চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি; Forever I Nurtured a Mysterious Bird

 Forever I Nurtured a Mysterious Bird Forever I nurtured a mysterious bird, which never discloses its identity. For this grief, my eyes ...