Wednesday, May 19, 2021

টুকরো কথা : মতিঝিল

আজ দুপুরে প্রায় পাঁচ বছর পর মতিঝিল চত্ত্বরে গেলাম। গিয়ে মনে হলো পাঁচ বছর বেশ লম্বা সময়, কারন অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা ফাঁকা থাকার কারনেও মনে হতে পারে অবশ‍্য। ছোট বেলায় মতিঝিলের শাপলাটার পাশ দিয়ে যখন যেতাম দুচোখে অদ্ভুত বিষ্ময় মিশে থাকতো আমাদের... এত্তো বড় শাপলা! এত্তো সুন্দর! আমরা কেনো ঠিকঠাক আঁকতে পারিনা, ভেবে একটু মনও খারাপ করতাম। ছোটবেলার সেই চোখ সেই মন হারিয়ে গেছে কিংবা হয়তো মরেই গেছে কবে।


বাসার সামনে থেকে একটা রিক্সা নিলাম। এই কোভিড মহামারিতে রিক্সা করে ঢাকায় ঘোরা বেশ শান্তির আর তাছাড়া দুপুরের ঠাঠা রোদে মগজটাও তাঁতিয়ে নিলাম একটু বহুদিন পর। তবে যতোটা ভেবেছিলাম ততোটা শান্তির ভ্রমণ হতে হতেও হলো না। ফাঁকা রাস্তা পেয়ে লোকাল বাসগুলো তো বেপরোয়া ছুটছেই আর তারচেয়েও বেপরোয়া রিক্সাগুলো। ট্রাফিক পুলিশদেরও যেন একটু গা ছাড়া বন্ধু বন্ধু ভাব। রমনার পাশ দিয়ে যেতে যেতে মনটা হুহু করে উঠছিল... আহা... প্রিয়তম রমনা... কতো ভোরের অবারিত প্রশ্রয়। রমনায় এখনো একটু পর পর ইট, শুড়কি আর বালুর স্তুপ, কাজ চলছে কয়েক বছর হয়ে গেল, এই মারিতে কাজটাজ সব শেষ হয়ে গেলে বাঁচোয়া। যতদুর পারলাম দেখে নিলাম রমনা পথ চলতে চলতেই... এতো ফুল ফুটে আছে গাছে গাছে আর মরার কোকিলের উচ্চ তারঙ্গিক ডাক এখনো চলছে। হাইকোর্টের উল্টো দিকে এতো বড় বড় সোনাইল  আছে আগে খেয়ালই করিনি কোনদিন। সবে ফুল ফুটছে কিছু ঝুমকো থোকায়। আর কিছুদিন পর সম্পুর্ণ ফুটন্ত গাছগুলোকে দেখতে যেতে হবে। কৃষ্ণচুড়াগুলোতে এখনো আগুন ধরে আছে। দুজন কম‍্যুনিটি পুলিশকে দেখলাম আঁকশি দিয়ে কাঁচা আম পাড়ছে, আমি ওদের দিকে মনোযোগ দিতেই একজন যেন একটু লজ্জ্বাও পেলো। আইল‍্যান্ডের বাগান বিলাসগুলো এতোদিনে ভালোই ঝাঁকড়া হয়ে উঠেছে। সত‍্যি বলতে পুরো শহর জুড়েই নানা রঙের নানা পরতের বাগান বিলাস। ওদের দেখলে মনে মনে বলি 'জানো তো, তোমাদের নাম রেখেছে স্বয়ং রবিন্দ্রনাথ!' মানুষ ছাড়া সবাই নিজেদের সম্মিলিত নাম পরিচয় নিয়ে জন্মায়, বাঁচে, মরেও যায়। আমরা মানুষেরা নিজেদের আমিত্বের তাগাড় খেয়ে খেয়ে সহজ সরল বেঁচে থাকার সৌকর্য যেন হারিয়েই ফেলি। হাইকোর্ট পেরিয়ে বাঁয়ে মোড় নিয়ে কিছু যেতেই রাস্তা এবড়ো থেবড়ো আর সরু হওয়া শুরু। মেট্রো রেলের কাজ চলছে। তা চলুক। মেট্রোটা চালু হলে যদি শহরটা একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। এদিকটায় গাছপালা তেমন আর চোখে পড়ে না। পাল্লা দেয়া উঁচু উঁচু নতুন পুরাতন সব দালান, কর্মব‍্যস্ত যুদ্ধংদেহী  মানুষজন (যদিও এখন সংখ‍্যায় অনেক কম), এই মানুষদের মুখগুলো, চোখগুলো আজও আগের মতোই তেড়ে তেড়ে আসতে থাকলো টিকে থাকার রুঢ় বাস্তবতায় ভর করে। দিলকুশায় তপ্ত দুপুরে  ঠান্ডা ফোয়ারা আর উর্ধ্বমূখী বকেদের ঘনিষ্ঠতা আছে ঠিক আগেরই মতোন। এই ব‍্যস্ততম অফিস পাড়ায় ডানে বাঁয়ে এদিক সেদিক চিপা চাপা গলি। ওখানে রকমারি চা খেতে থাকা আর সিগারেট ফুঁকতে থাকা আপাত সুখে অলস কিন্তু বাস্তব রসবোধ সম্পন্ন লোকেদের কথায় কান পাতলে রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক হাল হকিকত, ব‍্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতি আর তাদের মধ‍্যে সম্পর্কই বা কি, তার একরকম উচ্চমার্গীয় ধারনা ওদের প্রচলিত চিন্তাশীলতার ভাষায় পাওয়া সম্ভব। 


আরও একটু এগিয়েই শাপলা চত্ত্বর, বহু বছর পর সেই উন্মুক্ত চত্ত্বরে এসে পড়লাম আবার। এর ডানে বাঁয়ে বড়রাস্তার দুধারে বেশ কিছু নতুন নতুন ভবন, খাবার দোকান আর হালের চাইনিজ মার্কেটও চালু হয়ে গেছে। পুরোনো ভবন, পুরোনো খাবার দোকান, পুরোনো মার্কেট, পুরোনো সিনেমা হলগুলোও আছে বেশ কয়েক যুগের সাক্ষী হয়ে। হকাররা অবশ‍্য পুরো শহরের মতোই এখানেও কম। এই রাস্তা ধরে যেতে যেতে হঠাৎ দেখি একটা নির্দিষ্ট আকাশের নিচে শহুরে সোয়ালো পাখিদের এলোমেলো চঞ্চল ওড়াউড়ি। নতুন, আধুনিক, পরিবেশ বান্ধব অট্টালিকাগুলো দেখে উচ্ছসিত ছিলাম কিন্তু মুহুর্তেই মন খারাপ হয়ে গেলো। ভাবলাম সব পুরোনো ভবনগুলো যখন ভেঙ্গে ফেলা হবে, এই পাখিগুলোর কি হবে? ওরা কি করে ঘর বাঁধবে কাঁচের মসৃণ দেয়ালে? সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে অভিযোজন করতে করতে ওরা রুক্ষ কর্কশ শহরেও মানিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এখন? থাক। আর ভাবতে চাইনা। যা হবার তা হবে। প্রতি বর্গফুট সোনার দামে বিকোয় এখানে, পাখিদের কথা কবে কোথায় কোন বাণিজ্যনীতি ভেবেছে মানুষের পৃথিবীতে? তারচেয়ে গায়ে গা ঘেঁষে থাকা ভবনগুলো পেরিয়ে বহুকাল পর এখোনো যে গাঢ় সবুজ বর্ষীয়ান মেঘশিরিষগুলোর ফাঁকে ফাঁকে পরিস্কার রৌদ্রজ্জ্বল হালকা নীল আকাশটা দেখতে দেখতে ফিরছি বরং এই ছবিটাই ভর করে থাকুক মাথায়।


মেঘশিরিষরা মাথায় ভর করে আছে ঠিকই কিন্তু ওই সোয়ালোদের ওড়াউড়িটা কিছুতেই চোখের সামনে থেকে যাচ্ছে না।

আশ্চাইয‍্য!!!



আবোলতাবোল : তেরো

ওম শান্তি! ওম শান্তি! ওম শান্তি!!!

শান্তি ড্রামা হোক

ভ‍্যাপসা গরম, শরম ভুলে গলায় ঢালো কোক

কোক বলেছি, কক নয়, ডার্টি তোমার মাথা

তাও ভালো, তুমি তো নও হৃৎপিণ্ডের ব‍্যাথা

মাস্ক পরে নাও

টাস্ক সেরে নাও

স্মার্ট ম‍্যানেজমেন্ট

এই আকালে 

ডাক পড়লে

ভেজার জোগাড় প‍্যান্ট

বাচ্চালোক তালিয়া বাজাও, চাইলে হ‍্যাজাও, ব‍্যাজায় গন্ডগোলে

বাস বন্ধ, ট্রেন বন্ধ, পা দুটো তো চলে

কারা তোরা? কোথায় যাস? তোরা এতো সুখী?

তোদের দেখে হিংসে হয়, জানিস তো? 

গাঁঞ্জা খেয়ে মাঞ্জা মারলেও শেষমেষ মরনমূখী

আকাশ দেখলে কান্না পায়

বাতাস বইলে কান্না পায়

কি মুশকিল! বলতো?

এতো ত‍্যাল কোথায় পাস? 

এতো পিরিত কোথায় পাস?

আমায় নিয়ে চলতো

বইয়ের পাহাড় ছাদ ছুঁয়ে যায়, দেয়াল দিব‍্যগজ

গ্লোবাল প্রেজেন্স প্রেজেন্ট হলে অফট্র‍্যাকে ভজ

যখনকারটা তখন, এখনকারটা এখন,

যুদ্ধ যুদ্ধ ঢ‍্যাঁড়া

ইন্টারন‍্যাশনাল কমার্সে বিলুপ্তপ্রায় পাড়া

স্মার্ট মানে দুরস্ত অ‍্যাপলিকেশনস ইন এ‍্যাকশানস

বাচ্চালোক তালিয়া বাজাও, ডু ফুর্তিজ, নো টেনশানস

মিঠাই আনুক পাঠাও

ভারচুয়াল মন ছোটাও

কসপ্লে ভিড‍্যু ওড়াও

জিফ লুপে মোড়াও

ফুলের তোড়াও

কচি ছোঁড়াও

সব পাওয়া যায়

সব দেয়াও যায়

যখন যেমন খুশি

সাইবারারদের ফাঁদে, চাঁদু, বাঁচিয়ে রেখো টুশি

তোরা সব থোড়াই কেয়ার গুষ্টিসুদ্ধ মৌজে

ছুটির দিনে বেড়ি বাঁধেও দল বেঁধে যাস ফৌজে

এতো ভীড়েও কি খুঁজে পাস একবার কি বলবি?

পাহাড় ভেঙ্গে পড়লে, বালুতট ডুবলে কোথায় গিয়ে ঘুরবি?

এসব প্রশ্ন ভ্রান্ত, চিন্তাও বাহুল‍্য, নদী ভাঙা জাতি

অপুষ্টিতে ভুগে ভুগেও "ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতি"

দস‍্যুরা ছিল আছে থাকবে, ভিটে মাটি চাঁটি

কৃষ্ণভক্ত ধুয়ো তোলে "মাটি টাকা, টাকা মাটি" 

দেহ থাকে অঙ্গারে মন হয়ে যায় ভোলা

মণ দরে চাল বিকোয়, সোনার ওজন তোলা

নৌবিহারে সবাই লখি, সবাই কলির কে‍ষ্টা,

জানিস তো?

হাতির ঝিলের জলে আছে মণ কে মণ বিষ্টা

চোখ বন্ধ, নাক বন্ধ, কান বন্ধ, বন্ধ থাকে চিন্তাও

এটাই এখন ট্রেন্ডি

এ‍্যাপলিকেশানস ফ্রেন্ডলি

বিবর্তনের স্রোতে প‍্যালাশটিকের দেহ, প‍্যালাশটিকের জীবন

মারির দিনে তবু কাঁদে আদিবাসী মন

সব হবে, ঠিক হবে, হতেই হবে, দেখিস, একদিন আমরাও...

কি হবে? কে হবে? কখন হবে? কেনো হবে? কিভাবে হবে? 

তারচেয়েও বড় কথা, কোথায় হবে?

ছোট ছোট বাচ্চাগুলো ভিটে কি আর পাবে?

পেলে পাবে, না পেলে নেই, কিন্তু ভাবিস সময় পেলে

একটা স্বাধীন দেশ পাওয়া যায় কতো জীবন আর স্বপ্ন ভেসে গেলে



আবোলতাবোল : বারো

আজ ধিনচাক কাল ছবি

শেষকালে ঠিক ট্রফি পাবে 

মরনমুখী কবি


আজ পুতু কাল ঢ‍্যামনা

জায়গা মতো বাঁশ খেলে

প্রজাপতির পাখনা


প্রজাপতি উড়ু উড়ু

আকাশ গুড়ু গুড়ু

তালে তাল না মিললে

ক্ষমা কোরো গুরু


কি দাম পেলে?

কি দাম দিলে?

ছরাদ করাই সার?

বানের জলে ভেসে এলে

কেউ হবে না কার


গৃহহীন বাঁধা থাকে

খাটে মাঠে ছাদে

যানজটে সর্দি নাকে

ছিঁচকাঁদুনি কাঁদে


করুনা নয় বরুনা চাই

সোনার মতো রঙ

আকাশ নীলা শাড়ি দেবো

ধরবো যখন ভং


ঢং করো বা ভং ই ধরো

ধরবে যখন চেপে

পালাবার পথ পাবে না 

ইঁচড়ে পাকা পেঁপে


পাখি পাকা পেঁপে খেলো

তারপরে তো ফুড়ুৎ

রেখে গেলো মায়ার আধার

প্রশ্নবানের ভুত


মন যেতে চায় যেখানে তার

কথা শোনে ডানা

মানুষ হয়ে জন্ম নিলে

উড়াল দেয়া মানা


আকাশ থেকে পড়ে যারা

মাটিকে নেয় বুকে

পাখনাগুলো বন্দী থাকে

বোকা গিনিস বুকে


বোকা বোকা প্রেম চাই

বোকা বোকা সুখ

বোকা বোকা গানের তালে

বোকা বোকা ঠুক


ভাষাহীন গল্পহীন

আজব জাতি কুল

টুঁটি চেপে ধরলে সবাই

ছাড়তে রাজী মূল


গল্প হবে সত‍্যি হবে

লিখবো বেঁচে থাকলে

সুর বাজবে পা নাচবে

মরন বাজী রাখলে


আজ নীল কাল কালো

ওজনস্তরে ভ‍্যাজাল হলে

চাইনা ওই আলো


আজ প্রাণ কাল প্রেত

কব্বরেও ঠাঁই না হোক

হবেই লক্ষভেদ






বিমূর্ত বিন‍্যাস

ওইখানে

সারি সারি লাশগুলো রাখা থাকে

আর ধীর পায়ে চলে সারি সারি কাঁধেরা

শেষবার কিংবা একবারই এভাবেই জানায় যদিও

কিছু তো মূল‍্য ছিল 

প্রেতেদের আশ্বাসে শৌর্যবান লোকালয় প্রবল ক্রান্তিতেও

এক কালের সম্মিলিত কাকেরা বিলুপ্তপ্রায়

তবু দেখি মরে পড়ে থাকা কাক

আর বিচলিত কাকের মাতম

কোলাহল কম মড়া বাড়িগুলোতে 

বিদেশী সুগন্ধ মেশানো থাকে পরিশোধকেও আজকাল

কতো দিকে খেয়াল উৎপাদকদের

লাশগুলো সারি বেঁধে চলতে শুরু করে ঠিক

আর ধীর পায়ে চলে সারি সারি কাঁধেরা

গোরস্থানে উথালপাথাল ঘাসমাটি

পৃথিবী অবিনশ্বর... আত্মারা (?????)

দেহ তো নয়... আত্মারা (?????)

এ জীবন মিথ‍্যে ফাঁকা মাধ‍্যাকর্ষণহীন তাই জানান দেয় প্রতিবার

এইসব ভাবা বারন

কতোকিছু চাওয়াও তো বারন

কি হলো তাতে?

বিমূর্ত এক সমাধি পাবো ঠিক হয়তো 

ফলকে থাকবে লেখা

"সে পড়েছিল আকাশ থেকে

এই জল মাটিতে পেলো ঠাঁই"



Monday, May 17, 2021

Rather Believe in Ur Fantasies

Try not to feel down... no no no... 

U gonna regret later on Hunn

U r in a deep throat of a poor gagging time square 

Gonna never understand the way it ws always been

Life is a secret room deserves to get dangerous at once

Stay high above skyline yeah... 

Its always meant to be


Smokes go up n never come back

Lights find a crack to meet Ur eyes

Hopes fall off from peer mountains 

Beliefs shake on hips in Gothem trials

Rather believe in Ur fantasies in core

Fantasies can be awkward but never lie 


Try not to be ripped off... no no no... 

U gonna regret later on Hunn

U r in Ur fav shirt, fav shoes on

brave n a` la mode

U can rock a floor like a Banger U hv always been 

Life is a flare of strangers deserves to get fearless at once

Stay light above skyline yeah... 

Its always meant to be


Smokes go up n never come back

Lights find a crack to meet Ur eyes

Hopes fall off from peer mountains 

Beliefs shake on hips in Gothem trials

Rather believe in Ur fantasies in core

Fantasies can be awkward but never lie





Saturday, May 15, 2021

সুপ্রভাত : তেরো

আজ সকালে ঘুম ভেঙেছে অন‍্য কারো ডাকে

এতো তীক্ষ্ম গলায় ডেকেই চলেছে কে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম

উঠে দেখি আরে এতো একটা টিয়া পাখি!

কত্থেকে এলো?

কেনোই বা এলো?

একটুখানি দানাপানি পেটে পড়ার পর চুপ করে গেল একদম

চোখদুটোতে গভীর দূঃখ নিয়ে উদাস হয়ে মনে হলো কাঁদছে

আহারে!

ও হারিয়ে গেছে হয়তো

কি করি এখন?

আমি যদি ভালোবাসি 

ও কি থাকবে আমার কাছে?






Thursday, May 13, 2021

সুপ্রভাত : বারো

বিপর্যস্ত সময়

বিপর্যস্ত হৃদয় 

বিপর্যস্ত সম্পর্কের টানাপোড়েনে

নতুন গাছেদের ঠাঁই মেলেনা বহুদিন

তবু অবাক হয়ে দেখি 

ভরে ওঠেছে শূণ‍্য টবের সারি

আর সেজেও উঠেছে ফুলে ফুলে

উত্তরা হাওয়া আর পাখিরা নিয়েছে বারান্দা বাগানের ভার

আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে ওরা কাজ শুরু করে ভোর থেকে


Tuesday, May 11, 2021

দৃশ‍্যপট : মায়া : এক

মায়ার ঘুম ভাঙলো একটা গুলির শব্দে। ঘুম ভেঙে পাশ ফিরতেই একরাশ উজ্জ্বল আলো এসে চোখ ধাঁধিয়ে দিল আর ধারালো ছুরির মতো মাথাটা এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল। চোখে আর মাথায়  প্রচন্ড যন্ত্রণা, কিছু একটা ভাবতে চেষ্টা করলো কিছুক্ষণ কিন্তু তাও পারলো না। মাথার যন্ত্রণার সাথে নীল ছাদ দেয়াল আর ফাঁকা আলো... আর কিছু পড়ে নিতে পারলো না আপাতত। কিছু না ভেবে আবার দেয়ালের দিকেই পাশ ফিরলো তারপর দুচোখ বন্ধ করে পড়ে রইলো কিছুক্ষণ আরো। আস্তে আস্তে কিছু শব্দ ভেসে আসতে লাগলো কানে। কয়েকজন লোকের উচ্ছসিত হাসির শব্দ আর কন্ঠস্বর... "Dude! Its gonna be our day! Dig some under u nut! Its a big day afterall"...তারপর আরেকটা কন্ঠস্বর বললো "U r crazy Ron... U r a fuckin demon... m out of all these... rinse on ya"...অন‍্য আরো একটা কন্ঠস্বর মধ‍্যস্ততার গলায় বলে উঠলো "Guyz... guyz... stop these pal... it ain't gonna be da way right... U know what i mean... they r after us... they'll be... ever..." চোখ বন্ধ অবস্থাতেই বাইরের কন্ঠস্বরগুলো শুনতে শুনতে আস্তে আস্তে চোখ মেললো মায়া। একটা নীল দেয়াল চোখের সামনে। দেয়ালটা নীল হলো কি করে? ভাবতে ভাবতেই খেয়াল করলো এই নীল দেয়ালটা ঠিক যেন দেয়াল নয়... কেমন টানটান হয়ে থাকা মোটা পর্দার মতো... চিন্তাশক্তিহীন মাথাটা নিয়ে চকিতেই বুঝতে পারলো সে তার ঘরে নয়, আছে একটা তাঁবুর ভেতর। বুঝতে পেরেই মাথাটা এলোমেলো লাগতে শুরু করলো আর কানে আর কিচ্ছু শুনতে পারছিল না। ভারি মাথা আর জড় শরীরটাকে অনেক সাধ‍্য সাধনা করে দাঁড় করালো তারপর পা টেনে টেনে উজ্জ্বল আলোটার মুখে গিয়ে দাঁড়ালো। প্রখর সূর্যটা ওর দুচোখ যেন অন্ধই করে দিল প্রায়। ধুধু একটা দৃশ‍্যকে সামনে রেখে কিছু বোঝার কোন চেষ্টা না করেই শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে যত জোরে সম্ভব চিৎকার করতে শুরু করলো মায়া। তাঁবুর বাইরের তিনটি কন্ঠস্বরই নিজেদের কথা থামিয়ে চমকে তাকালো তাঁবুর প্রবেশ দ্বারের দিকে আর দেখলো একটা বিপর্যস্ত শিল্পকর্মই, ওপরের উন্মুক্ত রৌদ্রজ্জল আকাশ, পেছনে অপার সবুজনীল পাহাড়ি দৃশ‍্যপটে জ্ঞানশূণ‍্য উন্মাদের মতো তাঁবুর ঠিক বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে মায়া, চোখে সময়হীন দৃষ্টিহীন অস্তিত্বের আদিমতম আতংক নিয়ে গগনবিদারী চিৎকার করে যাচ্ছে সমানে, কোমর পর্যন্ত সোজা নেমে আসা ঈশৎ এলোমেলো কদাচ সোনালি উদ্ভাসিত কালো চুল ও খেদহীন বাদামি ত্বকের আবেদনময়ী নারী শরীরে একটা সাদা বয়েস টিশার্ট মাত্র আর তার নিচে  ডান উরু বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে মাটির দিকে। 

তিনটি কন্ঠস্বরই এমন আকস্মিক ক্ষরণধরানো দৃশ‍্যে ও চিৎকারে হতভম্ব হয়ে গেল প্রথমে তারপর ধুসর টিশার্ট ও গাঢ় জলপাই ব‍েগি প‍্যান্টস পরা আর ঘাড়ে বিপজ্জনক সংকেতের ট‍্যাট‍্যু করা অত‍্যন্ত ছোট করে ছাটা চুলের এক যুবক ঢুকে পড়লো দৃশ‍্যপটে আর ছুটে গিয়ে মায়াকে জাপটে ধরে ওর মুখে হাতচাপা দিল ক্ষিপ্রতার সাথে। মায়া উন্মাদ দৃষ্টিতে ঝাপটাঝাপটি করে কিছুক্ষণ কিন্তু একটু শান্ত হয়ে যেতেও লাগলো কি কারনে যেন, তারপর আরেকটু শান্ত হলে ধুসর টিশার্ট পরা যুবক মায়ার মুখটা নিজের বুকে নিয়ে মাথায় অন্তত বিশ সেকেন্ডের মতো হাত বোলালো মুখে ঠিক বাচ্চাদের শান্ত করার কিছু শব্দ করতে করতে। মায়া তখনো জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে ও ছাড়ছে। তারপর যুবকটা ওকে আচমকাই ছেড়ে দিল আর ঢুকে পড়লো তাঁবুর ভেতর আর ভেতর থেকেই চেঁচিয়ে কি বলছিল মায়ার কানে তার কিছুই ঢুকছিল না। ওর চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা জল নেমে এলো শুধু ততোক্ষণে। আরো কিছুক্ষণ পর তাঁবুর ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ধুসর টিশার্ট পরা যুবক আর মায়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স‍্যানিটারি ন‍্যাপকিনের প‍্যাকটা এগিয়ে দিল ওর দিকে। এতক্ষণে মায়া যেন একটু পরিষ্কার দেখতে পেল কিছু, গাঢ় বাদামি গভীর আশ্বাসভরা চোখ আর খাড়া নাকওয়ালা শক্ত মুখে খোঁচা খাঁচা দুদিনের না কামানো দাড়িগোঁফের মাঝে পাতলা রুক্ষ ফাটা ফাটা ঠোঁটজোড়া একটুও না নড়েই কিছু একটা বললো তারপর নেমে এসে একটা শুষ্ক কিন্তু উষ্ণ চুমু খেল মায়ার ঠোঁটে। গরম ঠান্ডা মেশানো সামনের নীল লেক পেরিয়ে আসা উপত‍্যকার হাওয়াটা বয়ে গেল ওদের কান ও চুল স্পর্শ করে। গরম নিঃশ্বাসে অন্তর্গত পুরুষালি গন্ধটা ভীষন চেনা মনে হল ওর আর  তাই হয়তো চোখ বন্ধ করে অন‍্য আরেকটা দৃশ‍্যপটে ঢুকে পড়লো মায়া।



সুপ্রভাত : এগারো

দুচোখে রাশি রাশি ঘুম

আর কোলবালিশ জড়িয়ে থাকা তৃষ্ণার্ত আত্মা

আকাশে আচমকা বিমানের মহড়া

কাঁপিয়ে দিয়ে গেল দুর্মতি সময়

তাকিয়ে দেখি প্রবল আলো ঢুকে এসেছে ঘরময়

কি চাই? কেন চাই?

সব যৌক্তিকতা অবজ্ঞা করে

নিজেরই অপরুপ অবয়ব চেয়ে দেখি প্রতিদিন 

এক বিন্দু ছঁয়ে দিলেই উবে যাবে মিলিয়ে যাবে সে হাওয়ায়

জানি


https://youtu.be/dcBKEEVna-g


 

Thursday, May 6, 2021

টুকরো কথা : শূণ‍্য দুপুর

নিরুত্তর থেকে যায় প্রতিদিন এই উষ্ণ দুপুর। শব্দবহুল, এলোমেলো, প্রতীক্ষাময় করোনাকালীন দুপুর। রকিং চেয়ারে দোল খেতে খেতে বোকা অকর্মন‍্য দুপুর আর আমি শূণ‍্য শুষ্ক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকি আলোর বিপরীতে। আমাদের দৃষ্টি কেড়ে নেয় কোনের আয়েশি আরাম কেদারা আর ডাকতে চায় বন্ধুদের... তো চলুক আরো তাসের ঘর, গল্প, আড্ডা, কফির ধোঁয়া, হুইস্কির আন্দোলন... আমাদের দিনগুলো বদলানোরই ছিল। বদলে যাওয়া চোখ, মুখ, হাত, পা, কন্ঠস্বরের মতোই। শান্ত হয়ে গেছি কবে এমন বুঝতে পারিনি। কি লাভক্ষতি হয়েছিল? কি লাভক্ষতি হচ্ছে? কি লাভক্ষতিই বা হবে? আর লাভক্ষতির কথা ভেবেই বা কি লাভ, কি ক্ষতি? আমি আর যাবোনা ওদের কাছে ঠিক করেছি। কিন্তু ওরা চেপে বসে থাকে বুকের ওপর, জানেও না হয়তো? কি মুশকিল! তবে বেশিদিন পারবেনা আর। নিশ্চয়। টুকরো টুকরো হাঁপধরানো স্মৃতিগুলো টাঙিয়ে রাখবো দেয়ালে প্রবল শিল্পকর্মের মতো। আর অলস বিবস দুপুরে এমনি রকিং চেয়ারে দোল খেতে খেতে চেয়ে চেয়ে দেখবো পাতলা পুরু বিচ্ছুরিত রঙের ছটফটানি আলোর বিপরীতে। এই পৃথিবীতে সব কিছুই পণ‍্য। শিল্প, ধর্ম, উচ্ছাস, কান্না, শরীর, মন... স...ব। আমার জন্ম বিক্রি হয়েছে নির্যাতনের কাছে আর ভালোবাসা গ্লানির কাছে। প্রতিদিন সৃজনশীলতা বিকিয়ে যাই নগ্নতার বদলে। আলো বিকিয়ে যায় অন্ধকারে। প্রিয়তম অন্ধকার আমার! নাহ! কিছুই আমার নয় আর। একটা শান্ত প্রাণহীন শূণ‍্যর নাম এই 'আমি'। স্তব্ধ দুপুরের মতো বসে আছি, দাঁড়িয়ে আছি, শুয়ে আছি, কিভাবে আছি তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবু আছি। শূণ‍্য মানে নেই এ বললে কি ঠিক বলা হয়? শূণ‍্য ছাড়া কোন কিছুর অস্তিত্বই কি হয়? কোন বস্তু তো নয়, একটা অপার্থিব অনুক্রমিক ভাষাও কেউ লিখে তো দেখাক। 



সংস্রব

অচেনা সময় বলে যায় 

"আমি হারালাম সব চকচকে দিন

আর হারিয়েও গেলাম চিরতরে"

আমি তথৈবচ চিরকালের 

চির অচেনা সময়ে

পরিচয় খুঁজে খুঁজে

নিঃস্ব হয়েছি বহুকাল হলো

হাসির তোড়ে লুটোপুটি খেয়ে নিয়ে

আমিও দম ফেলতে ফেলতে বলি

অচেনা সময়, তুমি থাকো চির অচেনাই

আমি হারাতে রাজি আছি যত কিছু চকচকে

আর হারিয়ে তো গেছি বহু আগেই

অন্ধকার ক্ষমাহীন সত‍্যের অরণ‍্যে



Sunday, May 2, 2021

Linalool May Dreams

Its the time of Jarul

Baby would U like to have a purple walk? 

With me?

Its a sudden hail storm of May

Will not stand for long

Tomorrow n day after tomorrow n after...throughout the May Sun will shine like a circle of fire

Would U like to have a purple walk babe?

With me?

Its the time of CasiaJavanica

We were kids n used to call it MayFlower

What matters in names

The bed under the giant groove turns shaded pink every year

Would U like to take a nap on for a while?

It feels soothing n fragrant like feminine skin

I use to have a dream sometimes 

Walking through a Lavender field

n then sitting in between Violet bushes

Baby would U like to take me there someday?

We will take some lavender kush strains with us

N we will take some mysterious  illusions   too

While the world is having an unknown war in its bones

Would U like to dream on calmly in between the violet strains?

for hours n days n for years?

With me?





Saturday, May 1, 2021

সুপ্রভাত : দশ

মৃত‍্যুময় সময়ে এক এক টুকরো জীবন হয়ে সে ফিরে ফিরে আসে

অপূর্ব কোন আঁকুতিতে ছেদ ঘটিয়ে

ঘুম ভেঙে যায় বারবার

বাস্তব ছেয়ে থাকে 

অস্পষ্ট ও অসামপ্ত আদিম নিষ্পাপ প্রেম

এই দেহ জানে

জানে অবুঝ প্রাণময় নতুন সকাল

গ্রহন করে যে অকপটে নগ্ন প্রতিচ্ছবি

নিষ্কলঙ্ক সে প্রতিটি আলোকরশ্মির মতো 

Friday, April 30, 2021

Bridal Light

She could never forget that afternoon 

It was a bright afternoon like ever

The light became softly warm but still could hurt eyes

Her face was flushing with the bridal light filter of nature like ever

She kept watching the vehicles running in a hurry on the over pass

N the narrow road to the west was empty like most of the time

Grasses n trees were warm n green

Some cotton clouds were in the sky unable to hide the sun

She could smell the winter, leaves, grasses, awaiting branches, dried up soil, the sunlight n even the burning clouds from her window 

like always 

Only the world went upside down in a moment

She wanted to run away but

she felt her feet were tied up with ropes from ceiling

Bloods were flowing down to her head n making it heavy n foggy

She tried to scream but her throat went collapsed at once 

The whole world was upside down

Still it was a lovely afternoon, softly warm n vibrant 

She saw everyone walking around 

The whole world was under their feet, she never thought like this before 

She only took a deep breath n calmly said

"Yes U r right my love. There's nothing wrong in it."




Wednesday, April 28, 2021

Dopamine Dope : Five

>  Ok...tell me what's in trend?

~ Corona

>  What's in trend dat I donno?

~ China 

>  What else?

~ Nationalsm

>  Hmm... Interesting... n?

~ Chinese food

>  Aah... ma favorite... tell more...

~ Chinese LOVE

>  WHAT??? Very FUNNY!!! 

~ Actually on TOP of da list

>  U mean dat kind of immature stupid love?

~ Umm... yes 🙄


https://youtu.be/y1UsBqdZ3Bo




Words : Three

When I will die

Let my imaginations stay alive 

Let my loving ones come close to me

Let me love them n be loved by

Let me wonder at life I wished ever

Let me dream like always I did

May be in an emptiness 

If there is no soil no water no light  no air or nothing

Let me exist in the core of a nothingness

When I will die

Still

Let my imaginations stay alive

Take my words

I'll wear my happiest smile




Monday, April 26, 2021

গল্প : বারো : অকালবোধন

আমাদের ন‍্যাড়া বাগানের ন‍্যাড়া আমগাছের নিচে শ্রীচৈতন‍্য অচেতন হয়ে পড়ে ছিল। আমাদের মালি কেষ্ট (আমরা ডাকি কলির কেষ্টা) দেখতে পেয়েছিল প্রথম। প্রথমে চোর ভেবে আচ্ছা করে গরুর দড়ি, যা ব‍্যবহার করা হয়েছিল গত বছর কোরবানির সময় আর রাখা ছিল বাগানের কোনে একটা ঢাকা দেয়া বালতিতে, দিয়ে বেঁধেছিল বেচারাকে। পরে খবর দিয়েছিল আমার বাবাকে। তা বাবা এসেও প্রথমে চিনতে তো পারেন নি, কিন্তু একজন অচেতন সাধু গোছের লোককে গরুর দড়ি দিয়ে বাঁধা যে ঘোরতর অন‍্যায় হয়েছে তা বুঝতে পেরেছিলেন। কে বলে কলিযুগে ন‍্যায়-অন‍্যায় জ্ঞাণ লোপ পেয়ে যাবে? বলা বাহুল‍্য আমিও ছুটে গেছিলাম চোর দেখতে। কিন্তু দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ এমন সোনার মতোন গায়ের রঙ, সুপারমডেলের মতো নাকমুখের গড়ন আর গেরুয়া ভুসন যার সে চোর এমনটা আমি নিজের চোখে চুরি করতে দেখলেও বিশ্বাস করতে চাইতাম না। সে যাই হোক গরুর দড়ি খুলে শ্রীচৈতন‍্যকে মুক্ত করা হলো এবং পানি ছিটিয়ে হালকা পলকা চড়িয়ে বহু সাধ‍্যসাধনা করে তার জ্ঞানও ফেরানো হলো। জ্ঞাণ ফিরলেও বোঝা গেল কথা বলবার মতো অবস্থায় লোকটা মোটেও নেই, চোখদুটো ইটের ভাটার মতো লাল, নিঃশ্বাস অনিয়মিত, কিছু একটা বলতেও চেষ্টা করেছে বেচারা কয়েকবার কিন্তু গলা দিয়ে ঘড়ঘড় শব্দ ছাড়া আর কিছু বেরোয়নি। বাবা বললেন ইমিডিয়েট হসপিটালে শিফট করবার কথা। কিন্তু কলির কেষ্টা মহাবিজ্ঞের মতো এবং চরম অসহিষ্ণুর মতোও বললো "লেবু পানি স‍্যার...এর ওষুদ হইলো গেলাস গেলাস লেবুপানি... আমি কইতেসি স‍্যার এ হইলো নেশা ভাঙের কেস। চামে বেশি খাইয়া ফালাইসে তাই এই দশা। আমনে আমারে আধঘন্টা টাইম দেন, দেখেন ক‍্যামনে ঠিক করি এইডারে।" কোভিডের সময়, সারা দেশে কড়া লকডাউন, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা আর আমাদের নবাবজাদা ড্রাইভার মোহাম্মদ এই সময়ে অনির্দিষ্টকালের ছুটি নিয়ে গ্রামে বসে তার দু'দুটো বউ নিয়ে মাস্তি করছে, তাই অগত‍্যা আমরা কলির কেষ্টার হাতেই একে ঠিক করবার দায়িত্ব দিলাম আপাতত। 

শ্রীচতন‍্যের ঠিকঠাক জ্ঞান ফিরতে সময় লাগবে। ততক্ষণে এই কলির কেষ্টার সম্পর্কে কিছু ধারনা দেয়া যাক। এই চৈতন‍্যের আগমনের দিন পনেরো আগে আচমকা ঘূর্ণিঝড়ের তোড়ে আমাদের সাধের বাগানটা একেবারে তছনছ হয়ে গিয়েছিল। আমরা ঝড়ের পর বৃষ্টি কমে আসার পরপর বেশ আনন্দ করেই প্রায় মাটিতে নেমে আসা ডালগুলোর নিচ থেকে কাঁচা আম কুড়োনোর সুখ পেয়েছিলাম পুরোপুরি আলো ফুটবার আগেই। কিন্তু আলো ফুটতেই দেখলাম সর্বনাশ। বাগানের বড় গাছগুলো প্রায় সব একেবারে মাঝখান থেকে ভেঙ্গে গেছে আর মোটামুটি পুরো বাগানটাই একটা দোমড়ানো মোচড়ানো যুদ্ধপরবর্তী বদ্ধভুমিতে পরিনত হয়েছে। আমার মা অনেকক্ষণ কাঁদলেনও সখের বাগানটার জন‍্য। আমরা দুবোন বুঝলাম না ঠিক কি করবো কারন হয়তো অধিক শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিলাম। এমনিতেই লকডাউন চলছে তাই ঘরে বন্দি আর ঝড় শুরু হবার আঠারো ঘন্টা আগে থেকে ইলেকট্রিক লাইন বন্ধ। ইলেকট্রিসিটি নেই, ইন্টারনেট নেই, পাওয়ারব‍্যাংকের চার্জও প্রায় শেষ, সারাক্ষণ অনলাইন থাকা আমাদের দুবোনের অবস্থা দাঁড়ালো ঠিক ঠুঁটো জগন্নাথের মতো। আর বাবা গালে হাত দিয়ে বসে এই সব নিয়ে মহা চিন্তায় পড়ে গেলেন। অবস্থা ক্রমশ আরো খারাপ হলো কারন গ‍্যাসের লাইন তো আগের দিন থেকেই বন্ধ আর এখন পানির টাংকিও খালি হবার পথে। সে যাই হোক এই তল্লাটে আমার বাবার শুভাকাঙ্খীর অভাব নেই তাই ইলেকট্রিসিটি পাওয়া না গেলেও কেরোসিনের চুলা, দু'গ‍্যালন কেরোসিন আর পানির ব‍্যাবস্থাও হয়ে গেল খুব তাড়াতাড়ি। আমরা সবাই মিলে কোমর বেঁধে ছাদ উঠোন সহ সারা বাড়ি পরিষ্কার করলাম। কিন্তু ঝড়ে বিদ্ধস্ত বাগানটা মাড়াতে কেউ সাহস করলাম না। দুদিন এভাবেই কাটলো, তৃতীয় দিন একদম ভোরেভোরে কলির কেষ্টার আগমন ঘটলো আমাদের প্রধান ফটকে।  গায়ে চকরাবকরা হাওয়াই শার্ট, রঙচটা জিন্সের প‍্যান্ট, মাঝারি উচ্চতা, বাঁধানো শরীর ও মুখের গড়ন, চকচকে মেহগনি গায়ের রঙ, ব‍্যাকব্রাশ করা পরিপাটি চুল, ধুরন্ধর চোখের দৃষ্টি, কাঁধে জলপাই রঙের একটা গাট্টিমতন ব‍্যাগ আর হাতে একটা আট'ন বছরে ছটফটে রোগাপটকা ছেলে, চেহারায় একেবারেই বামন কেষ্টা। তা কেষ্টা এসে ফরিয়াদ করলো আমার বাবার কাছে যে সে এসেছে গ্রাম থেকে, ঝড়ে তার ফসল সব পুড়ে গেছে, ঘরের চালও উড়ে গেছে, এমনিতেই এই করোনা মহামারিতে তার করুন অবস্থা আর ঝড়ের তান্ডবে এবার মরতেই বসেছে। তাই বহু কষ্টে অনেক বুদ্ধি খাটিয়ে মা মরা একমাত্র ছেলেকে হাতে করে শহরে এসেছে একটা কাজের খোঁজে। বাবা বললেন এমন আচমকা অজানা অচেনা লোককে কি করে কাজ দেবেন। কিন্তু কেষ্টা নাছোড়বান্দা, সে পকেট থেকে তার স্মার্টকার্ডটা বের করে এগিয়ে দিল বাবার দিকে বললো "স‍্যার, এইডা কোন কথা হইলো? আমার লগে তো স্মার্টকার্ড আসে। একটা কাম দ‍্যান স‍্যার। যে কোন কাম। দয়া করেন। আমি কইলাম সিক্স পর্যন্ত পড়সি।" এমন আঁকুতি শুনে বাবার মন গলে গেল। তারপরও ওকে বাইরেই দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে মায়ের সাথে আলাপ করতে গেলেন। পরে ফিরে এসে বললেন "তা, তুমি বাগান করতে জানো? মানে মালির কাজ করতে পারবে?" কেষ্টা প্রবল আত্মবিশ্বাসের সাথে জবাব দিল "গেরামের ব‍্যাডা আমি। পারমু না ক‍্যান? নিশ্চিত পারমু।" এমন দুর্দিনে কাজটা পেয়ে বাপ ব‍্যাটার ধুরন্ধর চোখগুলোও আনন্দে চিকচিক করে উঠলো। ঠিক হলো ওরা বাপব‍্যাটায় আউটহাউসে থাকবে  আর আজ থেকেই বাগানে কাজ করতে শুরু করবে। বেতনের হিসেব কাজ দেখে পরে ঠিক করা হবে। 

কলির কেষ্টার অকাল বোধনে আমাদের রাবেয়া খালা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত এবং সেই সাথে অসন্তুষ্টও হলেন। গত তিন বছর ধরে সে আমাদের বাড়ি কাজ করছে, বহুবার চাইবার পরও তাকে আউটহাউজে একটা ঘর দেয়া হয়নি যাতে করে সে তার ছেলেকে নিয়ে থাকতে পারে। তার অবশ‍্য যৌক্তিক কারন আছে আর তা হলো রাবেয়া খালার ছেলেটি  আস্ত একটা নেশাখোর। আর  তাছাড়া এই বছর মহামারির অযুহাতে খালার বেতনটাও বাড়েনি অথচ বাবা-মা একজন নতুন লোককে কাজে নিয়োগ করলেন। কলির কেষ্টাকে প্রথম দর্শনেই অপছন্দ হওয়ায় আর কেউ না হোক, আমরা দুবোন ঠিক বুঝলাম রাবেয়া খালার কষ্টটা। আমার ছোট বোন সানুতো বলেই বসলো "এটা কি হলো রোমাপু? বাবা-মা কি শেষে পাগল হয়ে গেছে? এই লোকটা একটা মহা চালবাজ দেখে নিও। বিরাট কোন প্ল‍্যান নিয়ে এবাড়িতে এসে ঢুকেছে। বাচ্চাটাকেও দেখেছো? আস্ত একটা বদমাসের মতো চোখ মুখ দেখলেই তো ইচ্ছা করে কষে একটা চড় দিই।" সে যাকগে, সমস‍্যা হলো আমরা কলির কেষ্টাকে যতোটা ধুরন্ধর মনে করেছিলাম সে দেখা গেলো তার চেয়েও ধুরন্ধর। বাগান পরিষ্কারের কাজ পেয়ে সে মোটেও বিচলিত হলোনা, উল্টো বললো "কোন ব‍্যাপার না স‍্যার, আপনে কোন রকম কোন টেনশানই নিবেন না। আমারে কাইলকার দিন পর্যন্ত টাইম দেন। পুরা বাগান সাফ করে দিচ্ছি। অল্প কিছু খরচপাতি লাগে... সেটা তেমন বড় কিছু না। সবার আগে বাগান সাফ হওয়া নিয়া কথা।" এই বলে কেষ্টা বেরিয়ে পড়লো আর আধঘন্টার মধ‍্যে তিনজন গাট্টাগোট্টা দিনমজুর নিয়ে হাজির হলো। কেষ্টা বলতে গেলে কোন কাজেই হাত লাগালোনা। দিনমজুর তিনটে সমানে খেটে গেল। সব বড় ছোট ভাঙ্গা ডালগুলো জড়ো করলো, তারপর পুরো বাগান এমনই পরিষ্কার করলো যে ডালভাঙা প্রায় ন‍্যাড়া কয়েকটা বড় ফল ও ফুলের গাছ, স্টিলের শক্তপোক্ত দোলনাটা আর কিছু ঘাস ছাড়া আর কিছুই পড়ে রইলো না। যে ছোট ছোট গাছ আর লতাগুলো অক্ষত ছিল সেগুলো পর্যন্ত গোড়া থেকে তুলে ফেললো ওরা। মুখে দু'দিন বললেও তিনদিন টানা কাজ শেষে একটা ভ‍্যান এলো আর কেষ্টার তত্বাবধানে সমস্ত ডালপালা লাকড়ি জঙ্গল ভ‍্যানে তুললো মজুর তিনটে। একটা পান খেয়ে খেয়ে দাঁত ও জিভ কালো হয়ে যাওয়া লোকের কাছ থেকে গুনে গুনে পুরো দু'হাজার টাকা নিল বিস্তর আমোদে দাঁত ক‍্যালাতে ক‍্যালাতে। একটা টাকাও তো বাবার হাতে দিলো না বরং একেবারে পাঁচ হাজার টাকার বিল করে বসলো তিনজনের মজুরি বাবদ। এই আকালে সারাক্ষণ বাড়িতে থেকে এমন তছনছ একটা বাগান দেখতে থাকা একটা বাড়তি নির্যাতনের মতো, তাই বাবা একরকম খুশি হয়েই টাকাটা দিয়ে দিলেন। আমরা পুরো ঘটনাটাই চোখে চোখে রাখছিলাম, দেখলাম কে‍ষ্টা মজুর তিনটেকে প্রথমে ছত্রিশশো টাকা দিল, মজুর তিনটে যখন কিছুতেই মানছেনা তখন আরো চারশো টাকা দিয়ে ওদের বিদায় করলো। আর নিজে পুরো এক হাজার টাকা মেরে দিল। আমরা দুবোন মালিগিরির নামে এমন ঠিকাদারি কার্যকলাপ চোখের সামনে দেখে পুরো হাঁ হয়ে গেলাম। রাবেয়া খালা রাগে গজরাতে গজরাতে মায়ের জাপানি কাপ সেটের একটা কাপ আর একটা আটপৌরে গ্লাস ভেঙে ফেললো, এমনকি সেদিনের মতো ছাদ ঝাঁট দিতেও অস্বিকৃতি জানালো। বাগান পরিষ্কারের নামে বাগান ন‍্যাড়া করে ফেলায় মা নির্বাক হয়ে গেলেন প্রথমে তারপর চ‍্যাঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করলেন। কিন্তু বাবা আর কেষ্টা মিলে মাকে বোঝালো যে আরো সুন্দর বাগান তৈরী করা হবে আর এমনিতেও সামনে বর্ষার মৌসুম, নতুন বাগান তরতর করে বেড়ে উঠবে। মা নিরুপায় হয়ে শান্ত হলেন। কিন্তু আমাদের মন কিছুতেই শান্ত হলো না। মনে হলো এই কেষ্টা বাগান টাগানের কিচ্ছুতো পারেই না বরং আমাদের বাগানটাকে ন‍্যাড়া বানিয়ে, পুরো তিন হাজার টাকা মেরে দিয়ে এখন নিশ্চিন্তে অন্ন ধ্বংসের তালে আছে। হলোও তাই সেদিনের পর থেকে কোন ফুল গাছতো দূর এক মুঠো ঘাসও বিছানো হয়নি এই বাগানে। উপরন্তু দিন তিনেক বাদে কি এক অদ্ভুত কারনে রাবেয়া খালার রাগ পড়ে গেলো আর সে সকাল বিকাল কেষ্টাকে চা খেতেও ডাকতে লাগলো। 

শ্রীচৈতন‍্যকে সেই যে রাবেয়া খালা আর কেষ্টা চ‍্যাং দোলা করে আউটহাউজে নিয়ে গেছে তারপর থেকে এখন অব্দি কোন খবর পাওয়া যায়নি। মনে হচ্ছে ওর ঠিক হতে আরো একটু সময় লাগবে। ততোক্ষণে কেষ্টার ছেলের কথা এবার একটু বলে নিই। কেষ্টার ছেলে দেখতে পুরোই কেষ্টার মতো, ভীষণ ছটফটেও কিন্তু দেখা গেল সে মোটেও অলস অকর্মন‍্য ফাঁকিবাজ বা ধাপ্পাবাজ নয়। ওর নাম হলো বাবু, বললো জন্মানোর পর থেকে ওর মা ওকে বাবু বলে ডাকতে ডাকতে ওর নাম 'বাবু'ই হয়ে গেছে। ক্লাস টু পর্যন্ত পড়েছে। থ্রিতেও প্রমোশন পেয়েছিল ভালো রেজাল্ট করে, ক্লাসও করছিল কিন্তু করোনার কারনে একবছরের বেশি সময় ধরে পড়াশুনা বন্ধ। আগের পড়ালেখাও সে প্রায় ভুলেই গেছে গত এক বছরে। এই মারীর সময়টা সে আর গ্রামের অন‍্য ছেলেরা খেলেই কাটিয়ে দিয়েছে। আরও জানালো বছর চারেক আগে ওর মা পালিয়ে গেছে এক শহরে থাকা নাগরের সাথে। কেষ্টা সকলকে বলে যে ওর মা মরে গেছে ভুতে ধরায় গলায় রক্ত উঠে কিন্তু এ ডাহা মিথ‍্যে কথা। আমাদের সব শুনে সত‍্যিই ভীষণ মন খারাপ হলো বেচারার জন‍্য, ভাবলাম ওর মা ওকে ফেলে চলে না গিয়ে মরে গেলেই বরং ভাল ছিল। তা এই বাবু আসার ক'দিন পর থেকেই মায়ের আঁচলে আঁচলে ঘুরঘুর করতে লাগলো আর সমস্ত ফুট ফরমাসও খাটতে লাগলো। 

আমরা দুবোন উদাস হয়ে দোলনায় বসে আছি আর আগডুম বাগডুম ভাবছি তখনই রাবেয়া খালা ছুটতে ছুটতে এলো আর হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে লাগলো "হেই ব‍্যাডার কতা ফুডসে গো আফুরা, তাড়াতাড়ি আসেন। কি কইতাসে কিসসু বুজন যায় না। মনে অয় ইংরাজী কইতাসে।" আমরা এমনিতেই উৎসুক হয়েছিলাম আর এমন খবর শুনে ছুটে গেলাম আউট হাউজে। গিয়ে দেখলাম বাবা মা এমন কি বাবুও পৌঁছে গেছে আমাদের আগে। গিয়ে বুঝলাম আমরা খবরটা বেশ দেরিতেই পেয়েছি। কারন শ্রীচৈতন‍্য তার কথাবার্তা শেষ করে ততোক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে। তবে যা শুনলাম অন‍্যদের কাছে তা হলো এ মোটেও শ্রীচৈতন‍্য নয়, ওর নাম হলো স‍্যান্ডি। এখানে কি করে এলো কিছুতেই বুঝতে পারছেনা এখন পর্যন্ত। গতরাতে সে ঘর থেকে একলা বেরিয়েছিল হাঁটতে, তারপর আর কিছু মনে পড়ছেনা। আমরা দুবোন পুরো ক্লাইমেক্সটা মিস হয়ে যাওয়ায় হতাস হয়ে মুখ ঝুলিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরে এলাম। এই করোনা মহামারিতে আমরা সত‍্যি বলতে কি ভীষণ ভিখিরি মতোন হয়ে গেছি। ক্লাস নেই, হ‍্যাঙ্গআউট নেই, শপিং নেই বা এমনি এমনি ঘুরে বেড়ানোও নেই। কতো আর ভালো লাগে সারাদিন বাবা মায়ের চোখের সামনে থাকতে আর অপার্থিব দুনিয়ায় মুখ গুঁজে থাকতে। সারাক্ষণ ঘরে থাকতে থাকতে আমরা কেমন ত‍্যানা প‍্যাঁচানো বাঙালি হয়ে যাচ্ছি দিনদিন। তবু আমরা শেষ পর্যন্ত ভাবলাম কিছু একটা চমকপ্রদ ব‍্যাপার ঠিক এবার ঘটতে চলেছে।

সন্ধ‍্যে গড়িয়ে রাত নামলো তবু সেই শ্রীচৈতন‍্যর মতো দেখতে স‍্যান্ডির ঘুম ভাঙলো না। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতেই বাবু জানালো গতরাতে দুটোর দিকে স‍্যান্ডির ঘুম ভেঙেছিল এবং তখন তাকে খাবার দাবার খাওয়ানো হয়েছে। খেয়ে দেয়ে সে আবার ঘুমিয়ে পড়েছিল। সকাল ন'টায় ওর ঘুম ভেঙেছে আর চা নাশতা খেয়ে এখন সে বাগানে হাঁটছে। শুনেই ছুটে গেলাম দেখতে কিন্তু আমরা যে খুব উৎসুক  হয়ে আছি এটা যেনো ছোকরাটা বুঝতে না পারে তার জন‍্য পেছনের দরজায় এসে থেমে গেলাম আর দূর থেকে দেখতে লাগলাম। কিন্তু দেখে তো আমরা রীতিমতো তব্দা খেয়ে গেলাম কারন ছোকরা পরে আছে বাবার সাদা পাজামা পাঞ্জাবি, আর যতোটা গতকাল মনে হয়েছিল এ তার চেয়েও সুদর্শন। ছ'ফুটের কাছাকাছি লম্বা,  দৃপ্ত সুঠাম গড়ন, সাদা পোষাকে তার রুপ যেনো ঝরে ঝরে পড়ছে এই তেঁতে উঠতে থাকা সকালের রোদে আর সে তাকিয়ে আছে উদাস হয়ে আকাশেরই দিকে। আমরা দুবোন বেশ কিছুক্ষণ হাঁ হয়ে তাকিয়ে থেকে পরে একে অন‍্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে শেষে ছুটে নিজেদের ঘরেই ফিরে গেলাম।

চলবে...






Saturday, April 24, 2021

বাউল: এক

তোমার জন‍্য স্বর্গ ছাড়তে আমি রাজী

ছিলাম

বাধ সাধলো দ্বিচক্রযান, বললো, এবার

এলাম

আকাশ জোড়া ইন্দ্রজালে মত্ত থাকে

ইন্দ্রিয়

মগজ ধোলাই খুব হলো, মনমদিরাও 

খুব প্রিয়

স্বপ্নে দেখি দূরের পাহাড়, দূরে নয়, একদম

কাছে

বুকভরা শ্বাস, নীল আকাশ, সবুজ আছে, ঝরনা

আছে

মেঘগুলো সব গা ঘেঁসে ভিজিয়ে যায় ত্বক ও

চুল

স্বপ্নতেই, বাস্তবে নয়, মাথার ভেতর চোখের

ভুল

স্বর্গ ছাড়তে রাজী ছিলাম, রাজী আছি 

আজো

কারনটা নয় তুমি এখন, নয় কোন আর

কাজও

বিনা কারনেই, অর্থহীন, মন বললো,

চলো

ভালোবাসলাম সেই পুরোনো পথ এবং পথের

ধুলো





টুকরো কথা : বিরক্তি

আনন্দিত হবার মতো ঘটনা প্রতিদিন না ঘটলেও বিরক্ত হবার মতো অগুনতি ঘটনা বা বিষয় প্রতিদিনই আমাদের পিত্তি জ্বালিয়ে দিতে পারে। এই যেমন ধরুন আজ সকাল থেকে একটি অত‍্যন্ত বিরক্তি উদ্রেককারী বিষয় হলো ঘরে এক ফোটাও নেইলপলিশ রিমুভার নেই। নববর্ষে বহুদিন পর পায়ে ফ্রেঞ্চ মেনিকিওর করেছিলাম নিজেই আমার সবসময়ের প্রিয় নীল ও জলরঙের নেইলপলিশ দিয়ে। এ নিয়ে পুরো নববর্ষের প্রথম কদিন বেশ আনন্দেও ছিলাম কিন্তু এখন এসে ভীষণ বিরক্ত লাগছে। প্রচন্ড গরম পড়েছে, বিরক্ত লাগছে। বিকট শব্দে ফ‍্যান চলছে, বিরক্ত লাগছে। লকডাউন চলছে, বিরক্ত লাগছে। লকডাউন পলিসি কুয়াশাচ্ছন্ন, বিরক্ত লাগছে। কোন কিছুতেই আর নতুন কিছু পাচ্ছিনা, বিরক্ত লাগছে। নিজেকে বাজেরকম একঘেয়ে মনে হচ্ছে, বিরক্ত লাগছে। পরিবার পরিজন বন্ধুবান্ধব পুরোনো কথাই বারবার বলছে, বিরক্ত লাগছে। ঘরের আসবাব দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে গেছি, বিরক্ত লাগছে। মানুষ মরছে, বিরক্ত লাগছে। পৃথিবীতে মানুষের সংখ‍্যা তবুও অযৌক্তিকভাবে বেশি, বিরক্ত লাগছে। আলমারি বোঝাই জিনিসপত্তর, বিরক্ত লাগছে। শপিং এ যেতে পারছি না বহুদিন, বিরক্ত লাগছে। পকেট গড়ের মাঠ, বিরক্ত লাগছে। জলের কল পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, বিরক্ত লাগছে। আশানুরুপ ওজন কমাতে পারছিনা, বিরক্ত লাগছে। মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে, বিরক্ত লাগছে। খালা আসেনি, বিরক্ত লাগছে। খালা ইংলিশ ব্রেকফাস্ট তৈরী করতে পারেনা, বিরক্ত লাগছে। লবন কম, বিরক্ত লাগছে। লবন বেশি,বিরক্ত লাগছে। নিজে গান শুনছি, বিরক্ত লাগছে। গান করতে পারছি না, বিরক্ত লাগছে। বই পড়া হচ্ছেনা, বিরক্ত লাগছে। বই পড়ছি, বিরক্ত লাগছে। ঘুম আসছে না, বিরক্ত লাগছে। বেশি ঘুমোচ্ছি, বিরক্ত লাগছে... বিরক্তির কারন লিখে যাচ্ছি লিখেই যাচ্ছি, এবার সত‍্যি সত‍্যি ভীষণ ভীষণ বিরক্ত লাগছে। কি করি? কি চাই? হয়তো একটা প্রচন্ড ভুমিকম্পই চাই!!!




Friday, April 23, 2021

গল্প : এগারো : দেয়াল

"আচ্ছা, দেয়ালের উল্টোদিকে কি আছে আপনি জানেন?" নিজেকে বারবার করা প্রশ্নটাই করলো রুতমিলা শুভকে। শুভ বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন ছেলে, এইসব খেয়ালি প্রশ্নে সাধারনত ওর বিরক্তিই বোধ করবার কথা। রুতমিলার মতো একটা আধপাগলা হেলুসিনেটিভ মেয়েকে প্রায় বছর তিনেক আগে পাভেলদের এনিভার্সারির পার্টিতে ভালো লেগে গিয়েছিল হঠাৎ। সেদিন অবশ‍্য রুতমিলা খুব সপ্রতিভ ছিল, একটা পার্টিতে আকর্ষণের কেন্দ্র হবার জন‍্য ওর সব গুণই কম বেশি সবার দৃষ্টি কেড়েছিল। পাভেলের স্ত্রী বিভা কোত্থেকে ওকে পেয়েছিল কে জানে, সেদিনই প্রথম উদয় হয়েছিল মেয়েটা। আর যেমনি উদয় হয়েছিল তেমনি হারিয়েও গিয়েছিল। শুভ প্রথমে রুতমিলাকে সোস‍্যাল নেটওয়ার্কগুলোতে খোঁজ করেছিল তারপর না পেয়ে বিভাকেই জিজ্ঞেস করেছিল ওর ব‍্যাপারে। অন্তঃর্মূখী শুভ বিভার কাছে কোন একটা মেয়ের খোঁজ করছে বন্ধুচক্রে মুহূর্তেই চাউর হয়ে গেলো কথাটা বটে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না। কারন বিভা বললো ডিজাইনার্স এ‍্যাসোসিয়েশানের একটা মিটটুগেদার ওর রুতমিলার সাথে ওর আলাপ। কনটেমপোরারি মারকেট'স বিহেবেরিয়াল চেইঞ্জেস এবং ফিউচার ট্রেন্ড ফোরকাস্টিং এ রুতমিলার অত‍্যন্ত পরিষ্কার চিন্তাভাবনা শুনে অন‍্য সবার মতো বিভাও আকর্ষিত হয়েছিল। নিজে থেকেই আরো একটু আলাদা করে আলাপ করে নিয়েছিল তাই আর আন্তরিকভাবে ওকে আমন্ত্রণও জানিয়েছিল ওদের প্রথম ম‍্যারেজ এ‍নিভার্সারির পার্টিতে। রুতমিলা এসেওছিল আর ফিরে গিয়ে একটা আন্তরিক ধন‍্যবাদ টেক্সটও করেছিল। তারপর থেকে আর কোন যোগাযোগ হয়নি ওদের। থাকার মধ‍্যে আছে শুধু একটা বিজনেস কার্ড যাতে ছাপা আছে একটা ইমেইল আইডি, একটা মোবাইল নাম্বার আর কয়েকটা ওয়েব এ‍্যাড্রেস। বিভা সেই বিজনেস কার্ডটাই তুলে দিয়েছিল শুভর হাতে। কার্ডটা হাতে নিয়ে দেখলো শুভ, শেডেড নীল রঙের, গতানুগতিক বিজনেস কার্ডের মতো নয়, কিছু একটা শৈল্পিক ও অপ্রতিম ব‍্যাপার আছে কার্ডটাতে নিশ্চিতভাবেই। ইংরেজিতে লেখা রুতমিলা আহমেদ, ফ্রিলেন্স ডিজাইন কনসালটেন্ট, কয়েকটা ওয়েব এ‍্যাড্রেসের মধ‍্যে একটা হলো লাইফস্টাইল ভ্লগ, একটা সম্ভবত ক্রিয়েটিভ রাইটিং ব্লগ। বিভা দুষ্টু হেসে বলেছিল "এ‍্যাতো বছরে এই প্রথম আপনাকে কোন মেয়ের খোঁজ করতে দেখলাম শুভভাই। বেস্ট অব লাক!" শুভ বিব্রত বোধ করছিল, তারপরও পরদিন দুপুর তিনটের দিকে কল করলো মোবাইল নাম্বারটাতে কিন্তু ওপাশ থেকে গ্রামীণের সুইচড অফ ইন্ডিকেটিং ম‍্যাসেজটাই বেজে উঠেছিল। তারপর বিকেল পাঁচটায়, সন্ধ‍্যে সাতটায়, পরদিন, তার পরদিন, পরপর সাতদিন কল করে গিয়েছিল শুভ নাম্বারটাতে। কিন্তু প্রতিবারই সেই পুরোনো সুইচড অফ রেকর্ডটাই বেজে গিয়েছিল। বিভাকে জিজ্ঞেস করতেই বলেছিল "নাম্বারটা তো ঠিকই আছে। কারন এই নাম্বারেই কথা বলেছি একবার ওর সাথে আর সেদিনের পার্টির পর ও ম‍্যাসেজও করেছিল এই নাম্বারটা থেকেই। চিন্তা করবেন না শুভভাই। দেশের বাইরেও তো গিয়ে থাকতে পারে। আর আপনি যখন খোঁজ করছেন ওকে ঠিক খুঁজে বের করবো। যাবে আর কোথায়? এইতো ছোট্ট একটা কমলালেবুর  মতো পৃথিবী। হাহাহাহা...." শুভ এই পুরো ব‍্যাপারটাতেই আরো বিব্রত হয়ে পড়েছিল। শুভ বরাবরই অহংকারী ও আত্মনিমগ্ন ব‍্যাক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত বন্ধুদের কাছে। পরিবারের ব‍্যাবসা এবং নিজের প্রিয় কাজগুলোতে সময় দিতেই সাধারনত ব‍্যাস্ত থাকে রাতদিন। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে, ঘুরে বেড়াতে বেশ পছন্দ করে অবশ‍্য, বন্ধুরাও ওকে ভালবাসে ওর ক্রিয়েটিভিটি আর সেন্স ওব হিউমারের জন‍্য। কিন্তু সবকিছুর পরও নিজের ব‍্যাক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, আবেগ-অনুভুতিগুলো নিজের মধ‍্যেই রাখতে চায় যতোটা পারে। ঠিক করলো রুতমিলা মেয়েটার নাম আর কখনো মুখেই আনবে না আর কল তো করবেই না কখনো ওই নাম্বারটাতে।

শুভর দিনকাল ব‍্যাস্ততার মধ‍্যেই কাটছিল। মাঝে বছর দেড়েক কেটেও গিয়েছিল। এরমধ‍্যে সিলভিয়ার সাথেও সম্পর্ক গড়ে উঠলো একরকম পারিবারিকভাবেই। বাবার বন্ধু ও প্রাক্তন বিজনেস পার্টনার আজমল চাচার মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে যোগাযোগ ছিল কিন্তু গত পনের বছর ধরে আজমল চাচা তাঁর পরিবার নিয়ে কানাডাবাসী হয়েছেন। মাঝেমধ‍্যে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন কিন্তু শুভর সাথে দেখা হয়নি। তা এইবার তিনি বেশ লম্বা সময় ও পরিকল্পনা নিয়ে দেশে এসেছেন এবং একমাত্র মেয়ে সিলভিয়াকে উপযুক্ত পাত্রস্থ করে তবে ফিরবেন বলে মনস্থির করেছেন। পঞ্চাশ-ষাটোর্ধ আধুনিক বাংলাদেশী বাবারাও কি এক অদ্ভুত কারনে তাঁদের মেয়েদের ব‍্যাপারে হঠাৎই কেন এরকম রক্ষণশীল ও সেকেলে হয়ে ওঠেন তা শুভর বোধগম‍্য নয়। সে যাই হোক, সিলভিয়াকে শুভর ভাল লেগেছে, সত‍্যি বলতে ওকে ভাল না লাগার কোন কারন বের করাই মুশকিল যে কারো জন‍্যই। একরকম সে কারনেই খুব তাড়াতাড়িই ধুমধাম করে ওদের এনগেইজমেন্টটাও হয়ে গেল। ঠিক হলো মাস চারেক পর শীত পড়লে আর মোটামুটিভাবে প্রায় সব প্রবাসী আত্মীয়স্বজনরা নানান দেশ থেকে আসতে পারলে ওদের বিয়ের অনুষ্ঠানটাও জাঁকজমকের সাথে উদযাপন করা হবে।

পারিবারিকভাবে এনগেইজড হলে যা হয় এই দেশে, সিলভিয়া আর শুভ অবাধে ডেট তো করতেই লাগলো আর যাতায়াতও করতে লাগলো একে অপরের বাড়ি। প্রতিনিয়তই চলছে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের নিত‍্যনতুন প্ল‍্যানিং। সিলভিয়া পুরো বিষয়টাতেই খুব উদ্বেলিত। দীর্ঘ‍্যদিন প্রবাসে থাকায় এদেশের প্রতিটি উৎসবই ওর কাছে ভীষণভাবে জড়িত ও মত্ত হয়ে পড়বার উপলক্ষ‍্য মাত্র। কদিন পরপরই সিলভিয়া চলে আসে শুভদের বাড়ি কিংবা হ‍্যাঙ্গআউট করে শুভর বোনদের সাথে। বলা বাহুল্য শুভর ছোট দুই বোনের সাথে ইতিমধ‍্যেই ওর অনেক বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে, তা যতোটা না বাগদত্বা হবার কারনে তার চেয়েও বেশী ওদের ডেস্টিনেশান ওয়েডিং প্ল‍্যানিঙের জন‍্য, অন্তত শুভর তাই ধারনা। যেভাবেই হোক না কেন একটা তাক লাগানো পাঞ্জাবিস্টাইল এবং একই সাথে সফিসটিকেটেড পাঁচদিনব‍্যাপী ওয়েডিং সেরেমনি করতে হবে। এমনি একদিন সিলভিয়া এসেছে ওদের বাড়ি। শুভর ঘরে ওর বুকশেলফ থেকে একটা দুটো বই হাতে নিয়ে দেখছে আর টুকটাক নৈমিত্তিক কথাবার্তা চালাচ্ছে দুজন, এরই মধ‍্যে বোদলেয়ারের কবিতা সংকলনটা হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখবার সময় কিছু একটা পড়ে গেল মেঝেতে। সিলভিয়া উৎসুক হয়ে হাতে তুলে নিয়ে দেখলো বিজনেস কার্ডটা আর ভালো করে দেখে নিয়ে শুভকে জিজ্ঞেস করলো "রুতমিলা আহমেদ, তোমার বন্ধু?" বছর দেড়েকেরও বেশি দিন পর নামটা হঠাৎ শুনে হকচকিয়ে গেল শুভ। ল‍্যাপটপে একটা জরুরী ইমেইল লিখছিল কিন্তু নামটা শুনে চকিতে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো সিলভিয়ার দিকে। ওর হাতে সেই নীল রঙের বিজনেস কার্ডটা, কতোবারই না খুঁজেছিল কার্ডটা বছরখানেক আগেও, কিন্তু কোত্থাও খুঁজে পায়নি। হকচকানো ভাবটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে স্বাভাবিক গলাতেই বললো "না। বন্ধু না। একবার খালি দেখা হয়েছিল একটা পার্টিতে।" সিলভিয়া যেন হতাশ হয়েই বললো "ও! আমি ভাবলাম আপনার বন্ধু। শুনেছি বাংলাদেশেই থাকে এখন বেশ কবছর ধরে।" শুভ অনুসন্ধিৎসু হয়ে জিজ্ঞেস করলো "তুমি চেনো না কি ওকে?" সিলভিয়া হড়বড় করে বলতে লাগলো "আরে চিনি তো বটেই। শি ওয়াজ ইন মাই হাইস্কুল। হোয়াট টু সে... শি গট বুলিড এ লট, বয়েজ এন্ড গার্লজ ইউজড টু কল হার কোকুন হেডেড উইচ। ওর মা ছিল একটা এ‍্যাংলো ইন্ডিয়ান কফি রিডার ওল্ড উমেন, বাবাটা বোহেমিয়ান লুকড, পরে জেনেছি বাংলাদেশী... সাম আহমেদ। থাকতো আমাদের টু ব্লকস পরেই। আমরা যখন নাইনথ গ্রেডে হার মম ওয়াজ মারডারড বাই সাম মাফিয়া। এভরি এ‍্যালেবাই অল এট ওয়ান্স ওয়াজ জাস্ট গট ভ‍্যানিশড। ওর বাবাটা ওকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল তখন। আফটার টেন ইয়ারস ওয়ান ওব মাই ফ্রেন্ড সও হার ইন আ ফ্রেঞ্চ ফ‍্যাশন ডক‍্যুমেনটারি। শি গট আ লট অব অ‍্যাপরেসিয়েশান ফর হার ডিসটিঙ্কটিভ ওয়ার্ক অন... হোয়াট ইটস কলড... আঁ... হাঁ...বাংলাদেশী খাদি কনজারভেশান অ‍্যান্ড সাসটেইনেবল ফ‍্যাশন থটস ইন এ‍্যকশান।" এই পর্যন্ত বলে সিলভিয়া থামলো। শুভ একরকম স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো সিলভিয়ার বড় বড় চোখদুটোর দিকে। তারপর অস্ফুটে শুধু বলে উঠলো "ওহ! আচ্ছা।" সিলভিয়া বেশ আগ্রহী গলায় বললো "ক‍্যান উই ইনভাইট হার ইন আওয়ার ওয়েডিং প্রোগ্রাম? এ‍্যান্ড... ক‍্যান ইউ ডু ইট ফর মি?" শুভ হাত বাড়িয়ে সিলভিয়ার হাত থেকে বিজনেস কার্ডটা নিল আর কার্ডটার ওপর চোখ রেখেই আস্তে আস্তে বললো "শিওর! হোয়াই নট?" শুভর ছোট বোনটা এসে তখনই সিলভিয়াকে ডেকে নিয়ে গেল ওদের ঘরে। 

সেদিন রাত পর্যন্ত শুভ আর কোন কাজেই মন দিতে পারলো না। সিলভিয়ার সাথে ডিনারের প্ল‍্যানটাও ক‍্যানসেল করলো মাথা ব‍্যাথার দোহাই দিয়ে। কি হলো কে জানে সারারাত ঘুমোতেও পারলো না। পরের তিনদিন নিজ থেকেই ডে অফ নিয়ে নিল আর চলে গেল সমুদ্র দেখতে একলা একলাই কাউকে কিচ্ছু না জানিয়ে।

পরের ঘটনাগুলো যেন খুব দ্রুতই ঘটে গেল। শুভ ফিরে এসে সিলভিয়াকে এবং পরিবারের সবাইকে জানালো যে এই বিয়েটা করা ওর পক্ষে সম্ভব নয়। দুই পরিবারের মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়লো যেন। সিলভিয়ার মন ভেঙ্গে হয়তো টুকরো টুকরো হয়ে গেল। আজমল চাচা তাঁর স্ত্রী এবং সিলভিয়াকে নিয়ে যত দ্রুত পারলেন কানাডা ফিরে গেলেন। বাবা তার অপ্রতিম বন্ধুকে চিরকালের জন‍্য হারালেন ভেবে মুষড়ে পড়লেন। মা ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে শোক করলো। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা হতাশ হলো কমবেশি। আর শুভ আবার কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পড়লো কোথাও একটা।

আজ এক সপ্তাহ হলো শুভ রুতমিলাকে খুঁজে পেয়েছে। চাইলে আরো আগেই খুঁজে পেতো কিন্তু রুতমিলাকে খুঁজে পাবার আগে ওর হয়তো নিজেকে খুঁজে পাওয়াটা অনেক বেশি জরুরী ছিল। গতকাল সেই পুরোনো মোবাইল নাম্বারটাতে ফোন করতেই রুতমিলা রিসিভ করেছে। ওরা সারারাত কথা বলেছে দুজন অনেকটা বিকারগ্রস্তের মতোই। আজও বলছে বিকারগ্রস্তের মতোই, আর তারই মাঝে রুতমিলা হঠাৎই শুভকে প্রশ্ন করলো "আচ্ছা, দেয়ালের উল্টোদিকে কি থাকে আপনি জানেন?" শুভ বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন ছেলে, এইসব খেয়ালি প্রশ্নে সাধারনত ওর বিরক্তিই বোধ করবার কথা। কিন্তু শুভ আবেগঘন গলায় উত্তর দিল " আপনার দেয়ালের ঠিক উল্টো দিকে আমার দেয়াল আর আমি। আপনি যদি বলেন আমি এই দুটো দেয়ালই ভাঙতে রাজি আছি।"





English Translation of Bangla Folk Song: Fakir Lalon Shah; চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি; Forever I Nurtured a Mysterious Bird

 Forever I Nurtured a Mysterious Bird Forever I nurtured a mysterious bird, which never discloses its identity. For this grief, my eyes ...