Monday, January 11, 2021

স্কেচ : এগারো

শীতটা বুঝি শেষই হয়ে গেল। তোমার নিশ্চই মন খারাপ করছে?


"নাহ। মন খারাপ করার কি আছে?"


না। শীতকাল তোমার প্রিয় তাই মনে হল। আর এবার তো একটা ভাপা পিঠেও জুটলো না কপালে।


"আরও তো কতো কিছুই প্রিয় কিন্তু কপালে জোটে না বা জুটলেও ফুরিয়েই যায়। তাতে কি এসে গেল।"


তুমি বড্ড কড়া কড়া কথা বল।


"আচ্ছা আর বলবো না। এই দেখ একটা রুপকথার প্লট।"


রুপকথা দিয়ে কি হবে। ওসব পুরোনো হয়ে গেছে সব। নতুন কিছু ভাবতে পারনা?


"হোক পুরোনো। এবার ঝটপট তৈরী হয়ে নাওতো কিছু স্টাডি করতে যেতে হবে।"


কি বলছো কি তুমি যাবে বাইরে!?


"হুম। যেখানে সূর্যের আলো ঢোকেনা কোনদিন সেখানে যাব। আর কত অন্ধ হতে পারে অস্তিত্ব তাও জানতে হবে।"


https://soundcloud.app.goo.gl/sUuZ




Sunday, January 10, 2021

ইউফোরিয়া (এক)

"আপা, ওই বাইয়া এটা আপনেকে দিসে" বলে রিক্সাওয়ালাটা দাঁত বের করে একটা খাম এগিয়ে দিয়েছিল। আমি হাই তুলতে তুলতে বলেছিলাম "আপনার কাছেই রাখেন। আর প্লিজ তাড়াতাড়ি চলেন"। আমার বয়স তখন প্রায় চোদ্দ, এক দেড় মাস পরেই এস এস সি পরীক্ষা। ভোর সাড়ে ছটার বেশি বাজে, কোচিং ক্লাসে যাচ্ছি, ঠিক জানি ওপরে জানলা দিয়ে কেউ না কেউ নজর রাখছে আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এতো চিকন চিকন হাত পা ওয়ালা, থ্রি কোয়ার্টার প‍্যান্ট পরা বয়ফ্র‍্যান্ড আমার চাইনা চাইনা চাইনা। টেস্টে ফেল মারলেও শেষ পর্যন্ত আমাকে পরীক্ষা দিতে এ‍্যালাও করা হয়েছিল। ঘরের সবার চিন্তার শেষ ছিল না আমাকে নিয়ে, তারচেয়েও হয়তো নিজেদের মানসম্মান নিয়ে। এরই মধ‍্যে আজ পর্যন্ত আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে সুদর্শন ছেলেটা ভাব করতে এলো একদিন রাস্তায়, ও সায়েন্সে পড়লেও ইংরেজী ক্লাসে দেখতাম, ঠিক আমার মাথার পেছনে এসে বসতো আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দিলে অযথাই হাততালি দিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করতো। পড়াশুনায় ভাল ছিল নিশ্চিত কারন কলেজিয়েটে পড়তো। কিন্তু কি যে দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় চাপলো যখন ভাব করতে এলো চিৎকার করে করে বলতে লাগলাম "কি বল? কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছিনা। এ‍্যাঁ? কি বলো??? ধুৎ! কিচ্ছু শুনিনা!" মনের দুঃখে নাকি রেগে গিয়ে না কে জানে কেন সেদিনের পর আর ওর চেহারা দেখিনি। তা পরীক্ষা দিলাম মোটামুটি কিন্তু খুব ভাল রেজাল্ট করে বসলাম, পুরো নিরানব্বইটা নৈবৃত্তিক উত্তর ভুল দিয়েও অল্প কিছু নম্বরের জন‍্য স্ট‍্যান্ড পজিশান মিস হয়ে গিয়েছিল। তা যাই হোক কোচিং ঠিক চলছিল কলেজে ভর্তির জন‍্য। এবারে দেখলাম দুটো ছেলে জগিং করছে পাশে পাশে রোজরোজ আর ভাব জমানোর চেষ্টায় আছে। বললো ওরা মেডিকেলে পড়ে। হোস্টেলে থাকে। বললাম, আমি বিশ্বাস করছিনা কারন মেডিকেল হোস্টেলের ছেলেরা কেন শুধু শুধু এতদূরে এসে জগিং করবে। আর যদি করেও এমন আজাইরাদের ব‍্যাপারে আমি নট ইন্টারেস্টেড। 

প্রথম যে একেবারে আয়োজন করে প্রস্তাব দিয়েছিল তার মাথার ঘাম পায়ে পড়েছিল ভ‍্যালেন্টাইনস ডে তে আমার পেছন পেছন ছুটতে ছুটতে। পরে এক মেলার ভীড়ে লালদিঘির মাঠে সে কিভাবে জানি পাকড়াও করে ফেলেছিল। তারপর আমাকে একটা কাব‍্যিক নামে (যেটা শুনে আমি কিছুটা তব্দা খেয়ে গিয়েছিলাম) ডেকে ডেকে অনেক্ষণ ধরে যা বললো তার সারমর্ম হল, তার সামনে পরীক্ষা, আমার জন‍্য পরীক্ষায় ফেল করলে সে মরে যেতে বাধ‍্য হবে আর একমাত্র ছেলে মরে গেলে ওর বাবা মাও মরে যাবে। নিজেকে একটা ভয়ংকর ভিলেন চিন্তা করে এমন দম ফাটানো হাসি পেল আচমকা যে নিজেই প্রচণ্ড অসহায় বোধ করতে লাগলাম, হা হা করে আকাশ বাতাস ফাটিয়ে হাসতে হাসতে প্রথমে পেটে হাত চেপে বসে পড়লাম পরে অবস্থা বেগতিক দেখে ছুটে পালিয়েছিলাম। সেদিন বাসায় ফিরে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এমন নিষ্ঠুরতা আর কোনদিন দেখাবো না। আমাদের কলেজে দিন ভাল কাটছিল। মমতাজউদ্দিনের নাটক করেছিলাম, গান করতাম, কবিতা পড়তাম, ডিবেট করতাম, টুকটাক ছবি আঁকতাম, লিখতাম আর নানান দুষ্টুমিতে মেতে থাকতাম। কলেজের এন‍্যুয়াল প্রোগ্রামে পুরোনো একটা আধুনিক গান গাইবার পর খেয়াল করলাম মাঝেমধ‍্যে কে জানি আশপাশ থেকে সেই গানটাই গাইছে। একজন বললো ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের কেউ একজন ভাবছে এভাবে সে নাকি ইমপ্রেস করতে পারবে। একদিন দুদিন তিনদিনও গেল। চতুর্থ দিন আর মাথা ঠিক থাকলো না "ধর ধর" বলে এমন তাড়া করলাম বেচারা ছুটে পালিয়ে গেল সাথে দুজন বন্ধুও কেন পালিয়েছিল কে জানে। ওরা আসলে ভাবতেই পারেনি যারা রবীন্দ্র নজরুলের এবং হারানো দিনের গান করে তারা এমন ধাওয়াও করতে পারে। পরের বছর ভ‍্যালেন্টাইন্স ডে টা অন‍্যরকম ছিল কারন সব বন্ধুদের দোকা জুটে গেছে শুধুমাত্র আমি আর আমার এক উচ্চিংড়ে বন্ধু (দোস্ত কোনদিন যদি পড়িস লেখাটা, মাফ করে দিস) গালে হাত দিয়ে প‍্যারেডের দেয়ালে পা ঝুলিয়ে বসে রইলাম। পরে সে বন্ধুই প্রস্তাব দিল আমরা প্রেম করতে পারি কি না? ভেবে দেখলাম এই বন্ধুটা এতোদিন ধরে সহ‍্য করে যাচ্ছে, আর এতো প্রতিভাবান হওয়া সত্বেও এখনো যখন আমার পাশেই বসে আছে তবে একবার চেষ্টা করেই দেখা যাক। আমরা ঠিক করলাম একেবারে ক্লাসিক স্টাইলে ডেটে যাব। হুমায়ুন আহমেদের নতুন ফিল্ম দেখতে যাব আলমাসে। পরদিন দুজনই সেজেগুজে গেলামও। কিন্তু অর্ধেক ফিল্ম দেখে এমন মাথা ধরলো, এতো ন‍্যাকামি... এতো ন‍্যাকামি... বাংলাদেশের মানুষ এগুলোরই ফ‍্যান !!! সব রাগ গিয়ে পড়লো বন্ধুটার ওপর, মনটা আবার নিষ্ঠুর হয়ে গেল। দাঁত মুখ শক্ত করে বললাম "আমি বাসায় যাব। এখন বাসায় যাব"। হকচকিয়ে বন্ধুটা আমাকে নিয়ে বেরিয়ে একটা রিক্সা নিল। কিছুদুর যাবার পর ওকে রিক্সা থেকে নেমে যেতে বাধ‍্য করলাম আর বল্লাম আমি একলা একলা বাসায় যেতে চাই। এই হল আমার প্রথম আচমকা ডেট। ওই বন্ধুটা তারপরও আমার সাথেই ছিল সবসময়। সহ‍্য করেছিল সবকিছু। আজও যদি এখানে থাকতো, পাশেই থাকতো জানি। কিছু অভিমান হয়তো ছিল, আছে, থাকবেও কোন এক কুচুটের কারনে, তাও। ও একদিন ছিল বলে আজও মনে হয় আমার কিছু মূল‍্য সত‍্যি সত‍্যি আছে যে অবস্থাতেই থাকি না কেন। 


প্রথম যেদিন একক আবৃত্তি করেছিলাম একদম বড়দের মত শিল্পকলায় আমার এক বন্ধু ও তার প্রেমিককেও নিমন্ত্রণ করেছিলাম। পাজিগুলো নিজেরা ডেট করতে চলে গেল কোথাও আর পাঠিয়ে দিল ওই প্রেমিকের এক বন্ধুকে। অন্ধকার অডিটোরিয়ামের কোনায় স্পট লাইটের আলোয় জামদানি পরে, খোঁপা বেঁধে আর বড় একটা টিপ কপালে দিয়ে যেকোন সদ‍্য ষোড়শী যদি রবিঠাকুরের 'সাধারন মেয়ে' পড়ে যায় তবে হয়তো খুব কম বাঙালি যুবকই আছে যাদের মনে প্রেম জাগবেনা। ওই সরল সিধা বেচারা সেই আলোআঁধারি আর রবিঠাকুরের ফাঁদে পড়ে ঠিক করলো এই সাধারন মেয়েটাকেই বিয়ে করবে। এমন পাগলামি করেছিল যে ওর মা ওর আর ওর বন্ধুদেরও কান ছিঁড়ে নিতে চেয়েছিল। তারপর সে নাকি অনেক মুখ গোমড়া করে ঘুরেছিল আর পরে হারিয়েও গিয়েছিল। সেই বেচারার বন্ধুরা নাকি সকাল সন্ধ‍্যা আমার বাড়ির নিচ দিয়ে যাবার সময় অহংকারি, ডাইনি, দেখবো কেমন বর পায় ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি বলে শাপশাপান্ত করে করে যেত। শাড়ি পরার ভীষন পাগল ছিলাম আর যেন খুব তাড়াতাড়িই বড় হয়ে গিয়েছিলাম। যখন সতের বছর বয়স তখনও এক ফ্রান্স প্রবাসী শিল্পী ভুল করে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেছিল। আমার এই ব্লগে প্রথম ভিউটা প্রায় সবসময় ফ্রান্স থেকে হয়, তখন ওই লোকটার কথা মনে পড়ে যায়। আরেকজন ছিল সে এক দূর প্রবাস থেকে আধঘন্টা পরপর ফোন করতো বাড়িতে। এমন তার নিষ্ঠা ছিল বাবা আর বড় ভাইকে পর্যন্ত পটিয়ে ফেলেছিল! বাড়ি ফিরতে দেরি করলে কি বকাবকিটাই না করতো সে এক অভিভাবকের মতোই। বোনের বিয়ের পরপর ওর বরের গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম বেড়াতে। ওখানেই একদিন একটা দাওয়াতে যাচ্ছি তখন ওর দেওরের মোবাইলে ফোন করে বসলো ওই প্রবাসী ছেলেটা। না, ঘর থেকে বা আমার পরিচিত কারো কাছ থেকে পায়নি নম্বরটা। কি করে পেয়েছিল তা এখনও রহস‍্যে ঢাকা। আমি কেন যেন খুব ভয় পেতাম ছেলেটাকে। মনে হত এ সারাক্ষণ নজর রাখছে আর ঠিক আমাকে একদিন বিয়ে করে নিয়ে যাবেই। দুঃস্বপ্নও দেখতাম, দেখতাম একটা অন্ধকার ঘরে ও আমাকে আঁটকে রেখেছে। একবার নিউইয়ারে এতো সুন্দর সব গোলাপ পাঠিয়েছিল! ওগুলো ছিল গাঢ় রক্তের মতো লাল, মোটা মখমলের মতো পাপড়ি, এই এত্তো বড় বড়, হালকা নেশা ধরানো সুগন্ধের, ঠান্ডা দেশের রুপকথার গোলাপ। আমি যেন এক মুহূর্তে ভেবেছিলাম জীবনটা একটা রুপকথার গল্পই। আমি ভাবলাম যদি এই যুবকটাই হয় সেই একমাত্র একজন, তবে এই গোলাপগুলো আজীবন তরতাজা থাকবে। কিন্তু না, কদিন পরই গোলাপগুলো সব মরে শুকিয়ে গেল আর আমার ভয়টাও আবার ফিরে এল।


এমনটা নয় যে আমার কোন ক্রাশ ছিলনা। হুম। কোন কিছুই কখনো লুকিয়ে করতে পারিনি জীবনে আজ পর্যন্ত। যদি একবার কারো ওপর ক্রাশ খেতাম তবে বন্ধুরা ভাবতো এ সত‍্যি সত‍্যি কোন এক হীরের টুকরো রাজপুত্তুর আর ওরাও ক্রাশ খেতো। আর ওই ছেলেটার ওপর কয়েকজন মিলে একসাথে হামলে পড়ে এমন কাগাবগা পরিস্থিতি পাকাতো যে ঝোলে অম্বলে মিশে ওই বেচারা একদম ত্রাহিত্রাহি করতে করতে একেবারে আকাশে উঠে যেত, মাটিতে আর পা ই পড়তো না। এই কপালটা মাঝে মাঝে সত‍্যিই ইচ্ছে হতো পিটিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গেই ফেলি।


উচ্চ মাধ‍্যমিকের পর একে একে সব বন্ধুরা কেউ ছাড়লো শহর আর কেউ ছাড়লো দেশ। আমি প্রায় একলা পড়ে রইলাম জীবনের একটা নতুন অধ‍্যায়ে ঢুকে পড়বার জন‍্য। ওই ছন্নছাড়া সময়ে একজন কবির সাথে দেখা হল। সে জানালো সে তার বাকি জীবনটা কাটাতে চায় আমার সাথে। আমার বয়স তখন আঠার। একবছর পুরো তিনশ পঁয়ষট্টি দিন প্রতিদিন আমাদের শহরের প্রতিটি ধুলিকণা, প্রতিটি গাছের পাতারা, সমুদ্রের প্রতিটি ঢেউ আর পাহাড়ের প্রতি বিন্দু নির্জনতা জানতো আমাদের দমকা প্রেমের কথা। বাসায় একটা ষড়যন্ত্র টের পেলাম, আমাকে নাকি ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেবে। তড়িঘড়ি আমরা বিয়ে করে নিলাম তাই। না পালিয়ে নয়, বাবাকে বুঝিয়ে পারিবারিকভাবেই।

চলবে...

https://soundcloud.app.goo.gl/hEhHL


টুকরো কথা : আমারে তুমি অশেষ করেছো দান

প্রায় বিশ বছর পর আবার যখন কিছু কিছু লিখবো বলে ব্লগটায় একটু মন দিয়েছি সরস্বতী মা তুষ্ট হচ্ছেন কি না জানিনা কিন্তু মা লক্ষ্মী, কে জানে কেন, সদয় হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। ফাটা কপালটা এবার হয়তো সত‍্যি সত‍্যি জোড়া লাগলেও লাগতে পারে বোধ হয় কারন বহু বহু পুরোনো দেনাদাররা কেউ কেউ ইদানিং একেবারে বাড়ি বয়ে এসে হাতে টাকাটা, চেকটা গুঁজে দিয়ে যাচ্ছেন। ভাবা যায়! পাঠক বাড়ার কিংবা জনপ্রিয়তা পাবার চেয়ে এ ঢের বেশি নয় কি? 


আজকে একটু খুলে বলতে চাই। এই ব্লগটা কোন প্রাইভেট উইকিলিক্স নয় বরং একটা ব‍্যক্তিগত ভার্চুয়াল খেরো খাতাই মাত্র। যখন যা মাথায় আসে লিখছি কিংবা আনমনে আঁকিবুঁকি কাটছি, ওই পর্যন্তই। আর কোটি কোটি ব্লগের ভীড়ে কেউ খুঁজে খুঁজে আমার ব্লগে আসবে আর লেখাও পড়বে এমন অদ্ভুত অবাস্তব স্বপ্ন আমি নেশার ঘোরেও ভাবার সাহস করবো না। তবু গত ক'মাস হল লিখতে ভাল লাগছে তাই লিখছি। সাথে আছে তিন তিনটা যুগ আর অসংখ্য মানুষ, অসংখ‍্য স্মৃতি, অসংখ‍্য অভিজ্ঞতা  আর বিবস অলস চিন্তার অন্তহীন যাত্রা। হয়তো সব মিলে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত আর কাকতালীয় ব‍্যাবচ্ছেদও ঘটাচ্ছে কখনো কখনো। এ আমারই এক বাজে সীমাবদ্ধতাই মাত্র। কাউকে দূঃখ দিতে চাইনা আর, এমনিতেই অজান্তে না জানি কতজনকে কতভাবে দুঃখ দিয়ে ফেলেছি জীবনে। কিন্তু আজ একটা সত‍্যি কথা বলে যাই, আমার এই জীবনের যত মানুষের সাথে দেখা হয়েছে তাদের সকলকে আমি ভালবাসি আর ধন‍্যবাদ জানাই সবকিছুর জন‍্য কারন ওদের সাথে দেখা না হলে কিংবা ঘটনাগুলো না ঘটলে আমি তো আর এই 'আমি' হতামই না। সত‍্যি বলতে কি প্রায় প্রতিরাতের দুঃস্বপ্নগুলোকেও আমি ভীষন ভালবাসি, ওরা আমাকে জানায় বোঝায় আমি অন্ধ নই, বধির নই কিংবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধি নই।


যদি কষ্ট হয়, মন থেকে ইচ্ছে না করে, সংকোচ হয়, আত্মাভিমানে লাগে কিংবা বিনা কারনেই নিতান্তই প্রয়োজন বোধ না করেন, কোন দুঃখ প্রকাশ করবার প্রয়োজন নেই। টাকা কিংবা অন‍্য কোনকিছুও ফেরত দেবার প্রয়োজন নেই। আমি ভাল আছি। ভাল চলে যাচ্ছে দিনকাল, আশা রাখি সামনেও ভাল যাবে। ভাল থাকার মন্ত্রটা আমি শিখে নিয়েছি এতোদিনে। আপনাদের কাছ থেকেই, তা হয়তো আপনারাই জানেন না। তাই প্রতিদিন মন থেকে বলি, 

ধন‍্যবাদ! সবকিছুর জন‍্য।


https://youtu.be/JPJjwHAIny4




Saturday, January 9, 2021

MAN Can U Give Me a Philosophy?

My life is hard know it MAN

Its hard as rocks in worst mines

what I need need need?

What I need need need?

Its not Ur love 

Ur love won't rise me up

what I need need need?

What I need need need?

Its not Ur hate

Already had it can't push me down

What I need need need

What I need need need


A philosophy, can U give ma MAN?

A philosophy, can U give ma MAN?

To dance like a girl (like a real girl)

To kiss like a lover (like a real lover)

To cry like a broken (like a real broken)

To hook like a pro (like a real pro)


My life is hard U know Babe

Its hard as bargs underneath ever cold

what I need need need?

What I need need need?

Its not Ur touch

Ur touch won't melt my heart

what I need need need?

What I need need need?

Its not Ur dick (Babe)

It wont give resurrection any more

What I need need need

What I need need need


A philosophy, can U give ma MAN?

A philosophy, can U give ma MAN?

To dance like a girl (like a real girl)

To kiss like a lover (like a real lover)

To cry like a broken (like a real broken)

To hook like a pro (like a real pro)


I wanna sleep like a mountain

(Just) watch watch watch

(Just) watch watch watch

I wanna sleep like a desert 

(Just) watch watch watch

(Just) watch watch watch

People hunt sing dance n sleep

(Just) watch watch watch

(Just) watch watch watch

Babies cry eat grow n run

(Just) watch watch watch

(Just) watch watch watch


(MAN) have a round n lose control (yeah)

(MAN) have a round n lose ur volt (yeah)

(MAN) have a round n lose ur hate (yeah)

(MAN) have a round n lose ur pride (yeah)


A philosophy, can U give ma MAN?

A philosophy, can U give ma MAN?

(To just) dance dance dance

(To just) dance dance dance

(Make life) good yeah yeah yeah

(Make life) good yeah yeah yeah


(MAN) have a round n lose control (yeah)

(MAN) have a round n lose ur volt (yeah)

(MAN) have a round n lose ur hate (yeah)

(MAN) have a round n lose ur pride (yeah)


https://youtu.be/-PZsSWwc9xA





টুকরো কথা : শব্দ

এই শহরটা কখনোই নিস্তব্ধ হয়ে যায় না। মাথার ভেতরের স্বরগুলোর মতো সারাক্ষণই জানান দিতে থাকে ক্ষয় হতে থাকা অস্থির প্রাণের উপস্থিতি। গাড়ির হর্ণগুলোর একনাগাড় এলোপাথাড়ি নানানমূখী নানান দূরত্বের শব্দে মাথার ভেতরে লেজারের সুক্ষ সুক্ষ সুড়ঙ্গ পথে একটু খেয়াল করলে টের পাওয়া যায় কেমন শীতল জল গড়িয়ে চলেছে। এ‍্যাম্বুলেন্সের শব্দ এখন আর বিচলিত করেনা, হয়তো কাউকেই আর করেনা। ফেরিওয়ালার হাঁক শোনা যায় মাঝেমাঝে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। এই এতো উঁচুতে যারা থাকে তাদের জন‍্য এটা একটা বিচলিত হবারই বিষয় শুধু কারন ফেরিওয়ালাকে খুঁজে পাওয়াও যায়না আর বোঝাও যায়না ঠিক কোত্থেকে অমন হেঁকে যাচ্ছে কিন্তু ওরা ঠিক মনে করায় ঘরে কি কি বাড়ন্ত। ভিখিরির আবেদনও ভেসে আসে মাঝেমাঝে। কখনও ঘোর আয়েসি সন্ধ‍্যায়  কোন একটা ভিখিরি করুন আর্তনাদ করে ওঠে আর চিরচির করে দেয় রাস্তার এমাথা ওমাথা থেকে আকাশ পর্যন্ত। আজকাল আমরা ওদের আগের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করি আর ছোট ছোট নিঃশ্বাসগুলো হয়তো নিজেদের কাছেই গোপন করতে চাই। সারাদিন সারাসন্ধ‍্যা মেরামতি ঠুকঠুক ঠাকঠাক ঠ‍্যাকঠ‍্যাক খ‍্যাঁচখ‍্যাঁচ ঘ‍্যাসেরঘ‍্যাসের শোঁশোঁশাঁশাঁ ধামধাম লেগেই থাকে কোথাও না কোথাও। আর গভীর রাতে দড়াম দাড়াম গরররগরররর চালু থাকে গড়তে থাকা প্লটগুলোতে। প্রতি বেলায় প্রায় আধঘন্টা ধরে শুনতে হয় সুরে বেসুরে তারস্বরে বিভিন্ন ডেসিমালের আযানও। মাঝে মাঝে একরোখা আজবমাথার রাজনৈতিক মিছিল দেখতে ছুটে যাই আর গলা মেলাতেও মজা পাই, ওরা বলে "এ‍্যাকশান! এ‍্যাকশান! ডাইরেক্ট এ‍্যাকশান!!!" কিসের এ‍্যাকশান, কোথায় এ‍্যাকশান, কেন এ‍্যাকশান, ভাবি, ছাই ওরাও কি জানে? তবুও এ‍্যাকশান হোক। ঠিকঠাক এ‍্যাকশান হলে মারতে না পারি ভিড় থেকে আমিও চ‍্যাঁচাবো "মার মার" বলে হয়তো। আশেপাশে, কিংবা দূরেও হতে পারে, যারা নাচ গানের আসর বসায় ছাদে কিংবা গলির মুখে ওরা এই পৃথিবীরই, আমিই একটা এলিয়েন নিশ্চিত, আমারই হয়তো একটা ফেক্টরি রিসেট করে ঠিকঠাক সফটঅয়‍্যার ইন্সটল করা জরুরী। কিন্তু যারা অন্তঃসারশূণ‍্য  বক্তৃতা দিয়ে কিংবা ওয়াজ করে আকাশ বাতাস ফাটায় চরম নির্লজ্জের মতো ওদের শাস্তি অপরিহার্য, মানুষ হলে ওয়ান্ডার উমেন হব আগামী জন্মে সত‍্যি বলছি। পাখিরা আছে, থাকে, এখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি তাই শুধু। ওদের ভাল থাকার কোন প্রশ্নই নেই, ওরা যখন কথা বলে, কাঁদে কিংবা আর্তনাদও করে গানের মতোই শোনায়। ওরা এই তল্লাটে কাউকেই বিশ্বাস করেনা আর ওদের বুকের ভেতরে আছে ধারালো হীরের টুকরো। আগের জন্মে ওরা কিছু না বুঝেই শিল্পী হতে চেয়েছিল আর উড়তেও চেয়েছিল।


এতো শব্দ... এতো শব্দ... একটু শান্তি মতো ঘুমোতে পারিনা যেন। মাথার ভেতরেও শব্দের তাড়া খেয়ে খেয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে থাকি। বহু বছর আগে একটা দাদু ছিল, সান্তার মতো কিংবা একটু রবি ঠাকুরের মত সাদা চুলদাড়ি, ধুসর পাঞ্জাবি পরতো, তার পকেটে সবসময় থাকতো একমুঠো রঙিন লজেন্স। ভীড়ের ভেতর গলে গিয়ে একদিন দেখেছিলাম দাদুটা একটা খাটে নতুন সাদা কাপড় জড়িয়ে কি ঘুমটাই না ঘুমুচ্ছে। কবছর আগে বাবাও ঘুমিয়ে পড়লো প্রায় একই রকমই। ওরা আর কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছিল না। ওদের মুখের শান্তির হাসিটা বড় লোভ দেখায়।


হায় শব্দ !!! তোমাকেই ভালবাসি আর তোমার কাছ থেকেই মুক্তি চাই!


https://youtu.be/UIyRXvHmXxo




স্কেচ : দশ

তুমি কে? আজ সত‍্যি করে বলো।


"বন্দী।"


পাগল না কি তুমি?


"না। বন্দী।"


নিশ্চই কোনো অপরাধ করেছিলে?


"হুম। বন্দী।"


কি অপরাধ করেছিলে?


"বন্দী।"


মজা কোরো না। সত‍্যি কথা বল।


"বলছি। বন্দী।"


বুঝলাম। তোমার মাথায় কিছু একটা গন্ডগোল পেকে গেছে, শর্ট সার্কিট টার্কিট...হুম...

আচ্ছা এবার বলোতো আমি কে?


"বন্দী।"


এ বাবা! আমি আবার কি করলাম?


"খুন।"


https://youtu.be/8LEPfMLP1vU






Friday, January 8, 2021

For Home

U know 

Sometimes I feel for home too

When I feel hungry a lot or

Need to sleep deeply

Sometime I want to walk like before

On the scapin walk ways of my childhood too

Or lazily sit for a whole day in some remote of those greens n hills

Or on some rock on the shore waitin for the sunset n stars to fall

Sometimes I feel like watchin from that window hour after hour without involvin a head

Or let the rain come n wet my face n my bed too

People r losin their homes for wars n many more, I know.

They all migrate n find a new home may be

When my old friends call me to home I just pass on now a days

I became homeless long time ago they never knew

I feel strange n sad of though

I cant say them the whats n the whys

Its just a matter of time, I know

Someday U will learn from a melody in the air 

Tellin the story of some homeless who appeared not like ever



স্কেচ : নয়

হায় হায় ! এ কি শুনছি?


"উফ! কানের কাছে হঠাৎ  চিৎকার করতে না তোমাকে নিষেধ করেছি! জানোই তো কতো ভাবনার মধ‍্যে থাকি। দিলে তো একদম নতুন গল্পের প্লটটা শেষ করে!"


ওহ! Sorry Sorry ! মনেই থাকে না মাঝেমাঝে। উত্তেজিত হয়ে গেলে এসব মনে থাকে?


"উত্তেজিত!!! WTF !!! তোমার আবার কি হল???"


ধ‍্যাৎ! শুনলাম তুমি নাকি ন‍্যাড়া করছো আবার মাথা?


"হুম"


আশ্চর্য তো ! কেন? বয়স কতো হলো খেয়াল আছে?


"আছে। খেয়াল আছে। ও নিয়ে তোমার না ভাবলেও চলবে।"


তা ঠিকই বলেছো। তাও। এখনই কষ্ট লাগছে শুনে। অতো সুন্দর চুলগুলো। তোমাকে কতো মানায় বলো? আর সেদিনই তো বললে এখন থেকে যত্ন করবে। 


"হ‍্যাঁ বলেছিলাম। কিন্তু ভেবে দেখলাম এই চুলগুলোতে অশরীরি আত্মারা ভর করেছে আবার। উচ্ছেদ করতে হবে তাড়াতাড়ি।"


সব তোমার মনের ভুল। আত্মারা আবার চুলে ভর করে না কি? আর যদি করেও, সে তোমার চুল ফিরে এলে আত্মারাও আবার ফিরে আসবে।


"হা হা হা!!! আর ফিরতে পারবে না। এবারে পাকাপোক্ত ব‍্যাবস্থা করবো। আর মনের ভুলের কথা বলছো? তা সে মনেরই তো ভুল! নিজেরই তো মন!"




গল্প : সাত : খেলা

কেউ কেউ প্রশ্ন করেন আমি কি গল্প বলি না গালগল্প করি? না, আমি গালগল্প করিনা কারন একা একা গালগল্প করা যায় না। আমি আমার মাথার ভেতর গল্প বানাই এবং সেটাই বলি। এই যেমন এখন আমি আছি একটা জন্মদিনের পার্টিতে, না ভয় পাবার কিছু নেই, আসলে আমি আমার ঘরেই আছি, একজন কাকতলীয় NeoResponsible মানুষ হিসেবে এই মহামারীর দিনে আমি পারতপক্ষে ঘর থেকে বেরই হইনা এবং পার্টিতেও যাইনা। না, আমি কোন নাকউঁচু বা Statemental Celebrity ও নই, সত‍্যি কথা বলতে কি আমাকে আসলে কেউ পার্টিতে ডাকেই না। তবে এতে আপাতত শাপে বর হয়েছে কারন আমার এখন গল্প বানানোর অফুরন্ত অবসর। তা যা বলছিলাম, আমি এখন আছি একটা জন্মদিনের পার্টিতে, একে আসলে পার্টি বলা হয়তো ঠিক হচ্ছে না, বরং বলা যায় জনা বিশেক প্রায় সমবয়সী বন্ধুরা আজ এখানে আলিয়ার অষ্টাদশ জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছে কোন পূর্বপরিকল্পনা বা নিমন্ত্রণ ছাড়াই। আপাত দৃষ্টিতে এ বাড়ির অন‍্য সদস‍্যদের এমনটাই মনে হলেও, এখানে উপস্থিত বন্ধুরা এবং আলিয়া নিজেও জানে যে এখানে সবাই কিছু আলাদা আলাদা রকম মূখ‍্য উদ্দেশ‍্য নিয়ে এসেছে। আলিয়া তেমন কোন জনপ্রিয় মেয়ে নয় যে এতগুলো সমবয়সী গুনগ্রাহী এবং শুভাকাঙ্খী ওর জন্মদিন মনে রাখবে এবং স্বশরীরে উপহার হাতে উপস্থিত হবে। ওই যে দেখুন বাঁ দিকে কোনার সোফাতে সপ্রতিভ চোখওয়ালা কিন্তু একটু গম্ভীর নায়ক নায়ক দেখতে যে ছেলেটা বসে আছে ওকে সবাই ঠাট্টা করে ডাকে কুমার, ওর একটা উদ্দেশ‍্য আছে এবং সে আজ প্রথম এবং শেষবারের মতো এই বাড়িতে এসেছে। আগে থেকেই জানি আমি কারন গল্পটার প্লট আগে থেকেই কিছুটা তৈরী আছে। তা আমাদের এই কুমার এখানে এসে খুব চিন্তায় পড়ে গেছে কারন প্রথমত সে জানতো না এতো লোকজনের  ভীড় থাকবে কারন সে ভেবেছিল আজ আলিয়ার সাথে একান্তে কিছু কথা বলবে আর দ্বিতীয় কারনটি হল শিখা, যে মেয়েটি, ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা কেন, ওকে দেখার পর থেকে এতো উচ্ছসিত হয়ে পড়েছে এবং যে কেউ বুঝবে যে সে খুবই লাফালাফি করছে এবং কুমারের গা ঘেঁষে থাকার চেষ্টায় আছে সারাক্ষণ। কুমার তার কৌমার্যের বিমূর্ত ইমেজের ব‍্যাপারে অন্তত আজ এই মূহুর্তে বেশ রক্ষণশীল একটি মানসিক অবস্থানে আছে আর সে বুঝতে পারছে এখানে অন‍্য আর সবাই যতই দেখাক যে তারা খানের গানে এবং নানান বিচিত্র গল্পে মশগুল হয়ে আছে, আসলে এরা সবাই তাকে সারাক্ষণই নজরে নজরে রাখছে। এই খান ছেলেটা হঠাৎ কোন আকাশ থেকে উদয় হলো তা এখানে অনেকেই বুঝতে পারছে না কারন এরা বেশিরভাগই আগ থেকে খানকে চেনেনা আর যারা চেনে তারাও খুবই সামান‍্যই চেনে, পূর্বালাপ তেমন একটা নেই বললেই চলে। আলিয়ার এতো প্রতিভাবান একটি বন্ধু আছে যার কথা ওরা জানতোই না এটা ভেবে অনেকেরই ভীষণ মেজাজ খারাপ হচ্ছে এখানে। এই আলিয়া মেয়েটা আসলে কি করে, কোথায় যায়, কি ভাবে আর কার কার সাথেই বা মেশে কখন সেটা ওরা কেউই জানতে পারে না। তা খান দেখতে পুরোই এক বছর বিশেকের ঝকঝকে যুবক, সে যে প্রতিমূহুর্তেই টগবগ করে ফুটছে তা একজন অন্ধও ওর আশেপাশে থাকলে টের পাবে। ওর যৌণ আবেদনময় কন্ঠস্বর এবং গায়কীতে ইতিমধ‍্যেই কয়েকজন ধরাশায়ী হয়ে পড়েছে, তার ওপর সে গীটারটাও দারুণ বাজায়। তবে এখানে ভক্তের পাশাপাশি দুজন শত্রুও তৈরী হয়েছে, দুজন সমবয়সী ছেলে, মেয়েদের মনোযোগ পাওয়াটাই যাদের এখন এই বয়সের একমাত্র উদ্দেশ্য এবং সাধনা। ওরা নিষেধ সত্বেও পুরো দৃশ‍্যটা সহ‍্য করতে না পেরে বারান্দায় গিয়ে সিগারেট ফুঁকছে আর একজন বলেই বসলো "কোত্থেইকা জুটসে এই বালের পোলাটা বল তো? হ‍্যায় তো মনে হয় নিজেরে Finneas ভাবতেসে। Motherfucker টারে মন চাইতেসে তুইলা নিচে ফালায়া দিই। আর পুরা নাম কি হ‍্যার? এইটা কি আমরিকা? last name এ কে কারে ডাকে এখানে? আর দ‍্যাখসোস, মাইয়াগুলা কেমন খান খান কইরা crush খাইতেসে!!!"


তবে ওইদিকে খান একটু চিন্তায় আছে কারন আলীয়া অত‍্যন্ত নির্লিপ্ত চেহারা নিয়ে বসে আছে যেন কোন কিছুই ওকে স্পর্শ করছে না। আলীয়ার এই শীতল চেহারাটা বাকি পুরো জীবনটা খানকে যে বয়ে বেড়াতে হবে না এবং বিষাদগ্রস্ত করে তুলবেনা তা কে বলতে পারে?

খানের নব‍্য গুণগ্রাহীদের প্রায় সবাই হল আলিয়ার বয়সী মেয়েরা যারা প্রায় প্রত‍্যেকেই শুধুমাত্র আনন্দ করবে বলেই এসেছে এবং কেউ কেউ নির্দোষ প্রেমেও পড়ে গেছে ইতিমধ‍্যে, দুএকজন আছে যারা এসেছে অন‍্য সব দিনের মতোই মতো আলীয়ার এবং অন‍্যদেরও ব‍্যাপার স‍্যাপার বুঝতে কারন আড্ডা ও হুল্লোড় নয়, ওদের জীবনের প্রধাণ বিনোদন হল পরচর্চা করা এবং খুবই শৈল্পীকতার সাথে গুজব ছড়ানো। তবে ওই যে জানালায় হেলান দিয়ে এইদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে যে মেয়েটা একটু ফর্সা মতোন এবং বেশ কটু রঙের একটা কামিজ পরে আছে এবং আপাতদৃষ্টিতে অন‍্যদের চেয়ে যেন একটু backdated দেখতে, পারতপক্ষে সে আসলে একজন সুক্ষ্ম বিশ্লেষক। প্রথম কিছু মিনিটেই সে মোটামুটি বুঝে নিয়েছে এখানে কোন ছেলেটা বা মেয়েটার পরিবারের মাসিক আয় কতো এবং সামাজিক অবস্থানই বা কোথায়। এমন চরিত্ররা সাধারনত কোন নির্দিষ্ট কারন ছাড়া কোথাও যায়না বা কিছু করেও না। ওর নাম হল সারা আর গত বছর চারেক হলো সে আলীয়ার সাথে আঠার মতো লেগে আছে কিংবা প্রতিনিয়ত ছায়ার মতো অনুসরণ করে চলেছে একটা Stalker এর মতো। না ব‍্যাপারটা ঠিক এমন নয় যে আলীয়া কোন ধনী পরিবারের মেয়ে বা কোন অপরুপ সুন্দরী কিংবা এই বয়সেই কোন অসাধারণ সফলতা পেয়ে গেছে। বরং আলীয়া একটি মধ‍্যবিত্ত পরিবারের, সাধারন মেধার এবং অত‍্যন্ত সাধারন চেহারার একটি মেয়ে। আলীয়াও জানে এই সারা তার কোন বন্ধু নয় বরং একটা বাস্তব দুনিয়ার Stalker, যা যেকোন রোমহর্ষক ও ভীতিকর চলচ্চিত্রের চরিত্রের চাইতেও বহু বহুগুণ ভয়ংকর একটি ব‍্যাপার। আর ইতিমধ‍্যেই এই অত‍্যন্ত বুদ্ধিমান মেয়েটা ওর পরিবার, কিছু প্রতিবেশী, কিছু বন্ধুবান্ধব এমন কি কিছু আত্মীয়স্বজনের সাথেও সুসম্পর্ক তৈরী করে তুলেছে এবং কিছু জটিল পরিস্থিতি এবং সমীকরন তৈরী করে ফেলেছে। বাকি তিন চারজন এসেছে এখানে যারা আলীয়ারই শুধু নয়, হয়তো সবারই নির্দোষ শুভাকাঙ্খী এবং মন থেকেই উপহার হাতে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে এবং একটা ভাল সময় কাটাতে এসেছে। আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি এখানে কি করছি? হুম। দেখুন আমাকে তো থাকতেই হবে এখানে কারন গল্পটা আর এর চরিত্রগুলোতো আমিই বানাচ্ছি। তবে জেনে রাখুন আমিও আলিয়ার একজন সাধারন বন্ধুই যার একজন গল্পবলিয়ের চোখ, কান ও কল্পনা সজাগ থাকে প্রতিনিয়ত চারদিকে। আমারও একটি মূখ‍্য উদ্দেশ‍্য আছে এখানে আসবার তা হল গল্পের উপকরন পাবার সম্ভাবনা থাকলে আমি আবার লোভ সামলাতে পারি না। আর উপহার? তা ভাবছি এই গল্পটাই নাহয় উপহার দেব আলীয়াকে ওর এই অষ্টাদশ জন্মদিনে আর আশা করছি এই গল্পটা ওর বাকি জীবনটা মনেও থাকবে আর সময় সময় কাজেও আসবে।


যাই হোক এই জন্মদিনের পার্টিটা পরিকল্পিত কিংবা নির্দোষ বন্ধুত্বপূর্ণ না হলেও পুরোপুরি জমে উঠেছে। খাওয়াদাওয়াও চলছে কিছু না কিছু। ওরা এতোজন হঠাৎ এসে পড়ায় সব খাবার অনলাইনেই অর্ডার করেই আনা হয়েছে। আর দুএকজন সাথে করে একদুটা জয়েন্টও নিয়ে এসেছে কিন্তু ঠিক সুযোগ করে উঠতে পারছে না। শেষে আলীয়াই সকলকে নিয়ে ছাদে চলে গেল। ওর দাদার বানানো  এই পুরোনো বাড়িটায় আধুনিক সুযোগ সুবিধাগুলো ঠাকঠাক না পাওয়া গেলেও এই ছাদটা যেন সব আবদারই মিটিয়ে দিতে পারে। আশেপাশে এখন সব উঁচুউঁচু বাড়িগুলোর ছায়ায় এই দোতলা বিড়িটা অন্ধকার হয়েই গেছে বলা যায় কিন্তু তারপরও ছাদে এসে একটু প্রাণ খুলে শ্বাস নেয়া যায় যেন। আর তাছাড়া বাড়ির দক্ষিণে ছোট্ট একটা বাগান আছে সেখানকার কিছু গাছ এতোদিনে এই ছাদটাকে পেরিয়ে গেছে তাই দারুন সব ছবি তোলার জন্য এই ছাদটা আদর্শ। আমরা সবাই যখন ছবি তুলতে এবং জয়েন্টে টান দিতে ব‍্যস্ত আছি সেই মূহুর্তে শিখা চেষ্টা করছে কুমারের সাথে কিছু একান্ত অনুভুতি ভাগ করে নিতে। কুমার তেমন একটা আগ্রহ বোধ না করলেও অনুরোধ শুনে শিখার বেশ কিছু ছবিও তুলে দিয়েছে এরমধ‍্যে। আমাদের আলীয়া এতক্ষণে মনে হচ্ছে একটু খোশমেজাজে আছে আর আজকের দিনের ঘটনাগুলো একের পর এক যা ঘটছে তা ওর ভালই লাগছে। শুধু তাই না আলীয়া আর খান খালি গলায় একটা  ব‍্যাতিক্রমি প্রেমের গানও গাইতে শুরু করলো দুজনে 


"I'm off the deep end, watch as I dive in

I'll never meet the ground

Crash through the surface, where they can't hurt us

We're far from the shallow now


In the shallow, shallow

In the shallow, shallow

In the shallow, shallow

We're far from the shallow now"


কিন্তু হঠাৎই সবার মনোযোগ কেড়ে নিল শিখা কারন কে জানে কেন কুমার হঠাৎ ওকে একটা চড় মেরে বসেছে। চড়টা মেরে সে নিজেই ভীষণ ভ‍্যাবাচ‍্যাকা খেয়ে কি করবে বুঝতে পারছে না যেন। শিখা বাঁগালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর কুমার দুহাতে মুখ ঢেকে জোরে জোরে মাথা নাড়ছে, যেন বলতে চাইছে এটা একটা দুঃস্বপ্ন, কিছুই ওর হাতে নেই আর সে বিশ্বাসই করতে পারছেনা এতো খারাপ একটা দিন ওর জীবনে কি করে আসলো। কিছুক্ষণ পর কোনরকমে শুধু শিখাকে অনুনয় করে বললো "I m sorry. Please...I m sorry... আমি..."। আলীয়া গিয়ে শিখার কাঁধে হাত রাখতেই শিখা ছুটে নিচে নেমে গেল। কুমার কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু ওকে থামিয়ে দিয়ে আলীয়া বললো "Please don't let her go alone. মেয়েটা আস্ত একটা পাগল। ওকে বাড়ি পৌঁছে দিন Please." কুমার একমূহুর্তে যেন আলীয়ার চোখের গভীরে কিছু পড়ে নিতে চাইলো তারপর শিখার পেছন পেছন ছুটে গেল।


সারা কখন যে আলীয়ার ঘাড়ের ঠিক পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে আলীয়া টেরই পায়নি। সারা ওর কানের কাছে একরকম মজা পাওয়ার সুরেই যেন বললো "বলেছিলাম ! এসব থার্ডক্লাস মেয়েদের এতো মাথায় তুলো না। সারাদিন তো ওর কান্ড দেখলাম। আর এই কুমার, ওরও কোন ক্লাস নেই। কাদের সাথে মেশো!" আলীয়া একটা ক্ষেপে যাওয়া দৃষ্টি নিয়ে সারার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়েই সবাইকে উদ্দেশ‍্য করে বললো "Guyz! নিচে যাই এবার। চা-টা কিছু একটা খাই গিয়ে।" 


নিচে আলীয়াদের বসবার ঘরে ফিরে এসে কারো যেন তেমন আর কোন উৎসাহ দেখা যাচ্ছিল না। আমাদের আজকের তারকা অতিথি খান রীতিমত ভ‍্যাবাচ‍্যাকা খেয়ে গুম মেরে কি যেন একমনে ভাবছে। সারাও ওকে কি সব যেন অল্প কথায় বোঝালো। বেচারা তাতে মনে হল আরো চিন্তায় পড়ে গেছে। দুটো ছেলে যারা মেয়ে পটাতে এসেছে তারা তাদের Gym Workout, Athleticism এবং প্রতিদিনকার Diet নিয়ে গল্প করছে আর কথার ইঙ্গিতেই অনেকটা নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে ফেলেছে। এতক্ষণে ওরা আসলেই বেশ মনোযোগ পাচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। gossip কুইনদের এখানে সত‍্যি বলতে কি আর এক মুহূর্তও ভাল লাগছে না ওরা বুঝে নিয়েছে আজকের মত এখানকার নাটক সব শেষ। ভালমানুষ গোছের WellWisher বন্ধুগুলো যেন আলীয়াকে আরো ভালবাসে ফেলেছে আজ আর ওর ভবিষ‍্যৎ নিয়ে একটু চিন্তিত হয়ে পড়েছে। আসলে তা চিন্তারই বিষয় কারন বছর খানেক আগে আলীয়ার বাবা মারা যাবার সময় অনেক ধার দেনা রেখে গিয়েছিলেন। সেগুলো ফেরত দিতে পরিবারটা প্রায় সর্বশান্তই হয়ে পড়েছে। থাকার মধ‍্যে এই বাড়িটা আছে বলেই বাঁচোয়া। বড় ভাইটা মাত্র পাশ করে বেরিয়েছে, ঠিকঠাক নিজের পায়ে দাঁড়াতে বেশ অনেকটাই সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে। বাকি ভাইবোনেরা এখনো সব স্কুল কলেজে পড়ছে। মায়ের স্কুলের চাকরিটা থেকে আর বাড়ির নিচতলার ভাড়া থেকে যা পাওয়া যায় তাই দিয়ে কোনরকমে চলছে ওদের। অর্থকষ্টে যারা অভ‍্যস্ত তারা অনেক প্রতিকূলতায় সহজে মানিয়ে নিতে পারে কিন্তু যারা মোটামুটি স্বচ্ছলতার মধ‍্যে বড় হয় তাদের হঠাৎ অর্থকষ্টে পড়াটা অনেকটা মহাবিপদের মতোই। এই রকম সাতপাঁচ ভাবনা ভাবতে ভাবতে আর আবারো শুভকামনা জানাতে জানাতে আমরা সবাই যখন বিদায় নিচ্ছি তখনই হঠাৎ আলীয়া আমাকে পুরোপুরি অবাক করে দিয়ে আমার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস করে বললো "Thanks a LOT !!! আমার জন‍্য ভেবো না। আমি অতোটাও বোকা নই Dude! Everything will fall in places... Today... Tomorrow... or Someday ever after. এটা আমার খেলা। I will PLAY it all by MYSELF."

https://youtu.be/UprcpdwuwCg





Thursday, January 7, 2021

In a City of Mirrors

In a city of mirrors

Time is trapped forever

And so do U n I

In a mirage of reflactions

Eyes r trapped forever

And so do U n I


Baby I'll wait with my wings

Keep my eyes too open n wide

Callin the skies to fall

Thunders to burn my soul

Love will show up in the mirrors

Love will reach U through

Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo...

Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo...


Baby I'll hold my cry

Keep my fears in a cage

Callin the seas to roll

Winds to break every pole

Love will show up in the mirrors

Love will reach U through

Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo...

Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo...



In a room of walls

Dreams r trapped forever

And so do U n I

In a scape of hauntin lies

Desires r trapped forever

And so do U n I


Baby I'll wait with my wings

Keep my eyes too open n wide

Callin the skies to fall

Thunders to burn my soul

Love will show up in the mirrors

Love will reach U through

Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo...

Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo...


Baby I'll hold my cry

Keep my fears in a cage

Callin the seas to roll

Winds to break every pole

Love will show up in the mirrors

Love will reach U through

Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo...

Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo Ooo...


https://youtu.be/sxaq2Hn3U_k




আবোলতাবোল : নয়


জ‍্যান্ত মানে লাইভে থাকা?

জ‍্যান্ত থাকায় কিন্তু কি?

শান্ত হয়ে শান্তি পেলে

পাওয়া যাবে অন্ত কি?

দ্বন্দ্ব আছে মনে মনে

দ্বন্দ্ব থাকুক অন্ত্রে

প্রণয়কাল বিষাক্ত হোক

রাজনৈতিক যন্ত্রে

কোন একদিন চোখ ফুটলে

কুকুর ছানার মুখে ভাত

তোমার আমার কুচক্রে

ভগবানের নগ্ন রাত

ভগবান ভুত হলে

রাজার পোলায় গু মুত খায়

রানীর হয় হাপুস নয়ন

রাজার মাথা চুলকায়

খুশকি হলে ভাঙ্গ কুরো

একশ ডজন নারকোল

তেল চুপচুপে বনের হালুম

ল‍্যাজ নাড়ে গাঙের শোল

কি ভাই কত নিবা

লইট্টা মাছের শুঁটকি?

এঁচোড়ে পাকার সর্দি নাকে

ডেলিকেটের ভেটকি

ডেলিকেসি চাইনা সোনা

ভ‍্যাকসিন চাই তুরন্ত

টুইট করে কুইট হলে

সূর্যিমামা পড়ন্ত

রাত নামলে প্রেম করবো

নাগর কোথা পাই?

মনের দূঃখে ছাদের পাড়ে

চা বিস্কুট খাই

অতি কার্বে ভুড়ি হল

মুখে হল ব্রণ

বাচ্চালোক তালিয়া থামাও

মনটা দিয়ে শোন

চ‍্যাংমারী কানী হলে

চ‍্যাংমারাও কানা

সমস‍্যার সমাধান চাই

নয় পুলিশ থানা



MAN MOM TIME N MONEY

We had SEX 

Remember?

We had SEX 

Yeah Yeah

Then I gave U MONEY

Remermber?

U took MONEY

Yeah Yeah

"TIME is MONEY" U said MAN

Remember?

Then Ur MOM told ME that

I didn't have a CHARACTER

I Remember


TIME is MONEY MAN

Yeah Yeah

TIME is a WHORE MAN

Yeah Yeah

Wah Wah OW Wah Wah

Wah Wah OW Wah Wah


MAN MOM TIME N MONEY

Yeah Yeah

MAN MOM TIME N MONEY

Yeah Yeah

Wah Wah OW Wah Wah

Wah Wah OW Wah Wah


U Screwed  a WHORE

Yeah Yeah

Do U Remember? 

Yeah Yeah

Wah Wah OW Wah Wah

Wah Wah OW Wah Wah


MAN MOM TIME N MONEY

Yeah Yeah

MAN MOM TIME N MONEY

Yeah Yeah

Wah Wah OW Wah Wah

Wah Wah OW Wah Wah





ভাবনা (Extended)

জানা নেই তবু হেঁটে যাই পথে

হেঁটে যাই আর যেতে চাই দূরে

জানা নেই 

কোথায়

জানা নেই 

কোথায়

জানা নেই তবু হেঁটে যাই পথে

হাতে হাত রাখি যেতে চাই দূরে 

জানা নেই

কোথায়

জানা নেই

কোথায়

(ঢাকা, ২০১১)


আমার এই ভাবনারা তোমার মগজে ঢুকে যায়

হাতড়ায় সাঁতরায়

সাঁতরায় হাতড়ায়

প্রতিদিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরো যখন

ভেবে দেখো কি এ শহরে তুমি কত একলা...

একলা একলা একলা...

ঠিক ভাবনারই মতোন

তুমিও কি ভেসে যাও মিশে যাও

বাতাসের সীসাতে

রাস্তার আলোতে

হাতড়াও সাঁতরাও

সাঁতরাও হাতড়াও

ভাবনার হাত ধরে 

সরে সরে সরে যাও

দূরে দূরে দূরে যাও

সীমানা পেরিয়ে যাও

অগস্তে হারিয়ে যাও

হাতড়াও সাঁতরাও

সাঁতরাও হাতড়াও

(কি মজা!!!)


(Extended, ঢাকা, ২০২১)


জানা নেই তবু হেঁটে যাই পথে

হেঁটে যাই আর যেতে চাই দূরে

জানা নেই 

কোথায়

জানা নেই 

কোথায়

জানা নেই তবু হেঁটে যাই পথে

হাতে হাত রাখি যেতে চাই দূরে 

জানা নেই

কোথায়

জানা নেই

কোথায়





স্নানঘরের নিঃসঙ্গতা

স্নানঘরে আবেশের বাষ্পরা গান গায়

তুমি নেই

তুমি নেই

নীল জল উড়ে যায় 

ঘোলা হয়ে যায় চারদিক আর আয়নাও

এ উষ্ণতা জমিয়ে রাখা নিঃসঙ্গতারই হয়তো

হায়

তুমি নেই 

তুমি নেই

বাষ্পরা গান গেয়ে যায় আবেশে

আর কেঁদে যায় দুচোখের মণিতে

হায়

তুমি নেই 

তুমি নেই


https://youtu.be/rhlM0rhl7Mk






Wednesday, January 6, 2021

গল্প : ছয় : মরা পূর্ণিমা

শান্তা এই রাতেই মরে গেল যখন ভর পূর্ণিমা আর সেই সাথে আবহাওয়াও চমৎকার। আকাশ এতো পরিষ্কার যেন সে কারনেই বাগানের কামিনী ফুলগুলো আরও বেশি সৌরভ ছড়াচ্ছে। মল্লিকার আগর বাতির গন্ধ আর এতোগুলো  মেয়ের তীক্ষ্ম গলায় একসাথে এলোমেলো সুরা আর দোয়াদুরুদ পড়ার হট্টোগোল একদম ভালো লাগছে  না। ওর মাথাটায় একটা ফাঁকা ফাঁকা অনুভুতি ভর করে আছে আর শরীরটাও হালকা লাগছে কেমন। অসহ‍্য লাগলেও উঠে যেতে পারছে না যদি পড়ে যায় এই ভয়ে। অনুসূয়া, ছোট করে সবাই ডাকে অনু, শান্তার আট বছরের মেয়েটাও ফ্রকের সাথে পাজামা আর মাথায় কোত্থেকে একটা ছোট ফুলেল হিজাব পরে কোরান পড়ছে। কতোটুকু কি পড়ছে কে জানে, দেখে মনে হচ্ছে ওর বসে থাকার শক্তিটুকু নেই আর শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। আর এতো কাঁদার পর চোখেও ভালো দেখতে পাবার কথা নয়। কিন্তু সবার কথা শুনে ওর বিশ্বাস হয়েছে যে ও যদি দোয়া করে, সুরা পড়ে ওর মা ভালো থাকবে, ওর মায়ের গুনা আল্লা মাফ করে দেবে। যদিও ও জানেনা ওর মা আসলে আদৌ কোনো গুনা করেছে কিনা। ওকে যে মাঝেমাঝে বকতো আর একদিন রাগ করে ওর একটা বারবি জানলা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল, বাবার সাথে যে প্রায়ই রাগারাগি করতো আর কথা বলাও বন্ধ করে দিত, কখনো কখনো দাদুকে না বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতো, মাঝেমধ‍্যে আনমনা হয়ে পড়তো, ঘর অগোছালো করে রাখতো, অনেক ইংরেজী ফিল্ম দেখতো কিংবা মাঝে মাঝে খারাপ রান্না করতো সেগুলোকেই গুনা বলে কিনা, এইসব ভাবার মতো অবস্থাও ওর আছে কি না কে জানে। মল্লিকার পুরো পরিবেশটা নারকীয় মনে হচ্ছিল অন্তত শান্তার ছোট্ট মেয়েটার জন‍্য তো বটেই। এই গরমে এতো মানুষের ভীড়ে আর এতো পোষাকের  চাপে বেচারি পুরো ঘেমে নেয়ে উঠেছে। মল্লিকার এক মুহুর্তে মনে হয় কে তৈরী করেছে এই পৈশাচিক রীতিগুলো? আর মানুষ ই বা কিভাবে গ্রহন করেছে এসব নিষ্ঠুরতা? ওর সদ‍্য অনাথ বাচ্চা মেয়েটার জন‍্য বুকে খুব ব‍্যাথা হতে থাকে, আজকাল প্রায়ই বুক ব‍্যাথা করে সাথে শ্বাসকষ্টও হয় মল্লিকার। ওর শুধু মনে হয় এইসব লোকজনগুলোকে যদি বের করে দিতে পারতো এই ঘর থেকে, তারপর বাচ্চা মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে বসে থাকতো ঘর অন্ধকার করে আর একটা ঘুম পাড়ানি গান যদি গাইতে পারতো ওর কানে। বাচ্চাটার একটু ঘুমোনো দরকার। গত এতোগুলো মাস একটুও নিশ্চই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেনি। আইসিইউতে শেষ যখন ওকে নেয়া হয়েছিল, ওর মা তখনো শ্বাস নিচ্ছিল হয়তো। ও শুধু মায়ের চুলে একটু আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল, মায়ের চোখের পাতা একটু নড়ে উঠেছিল কি না ঠিক খেয়াল করে উঠতে পারেনি। এর আগেও শান্তাকে বেশ ক'বার হাসপাতালে রাখতে হয়েছিল তখন ও বাসাতেই থাকতো। আজ সন্ধ‍্যায় হঠাৎ যখন ওর বাবা শান্ত গলায় বললো 'মা চলো তোমার আম্মুকে দেখবে' ও জানতো আর অপেক্ষায় থাকার কিছু নেই। হাসপাতালের রাসায়নিক গন্ধ, উজ্জ্বল সাদা আলো, চকচকে মেঝে, এতো ধাতব যন্ত্রপাতি, চেনা অচেনা লোকজন, বিবস মুখের ডাক্তার, মাথায় স্কার্ফ পরা ব‍্যস্ত নার্সরা, নীল পোষাকের কর্মচারিরা, দেয়ালের ফুলের আর সূর্যাস্তের ছবি, দেয়াল ঘেঁসে সুন্দর ফার্ণের বাগান, প্রচন্ড এসির ঠান্ডা, ধীরে চলা লিফ্ট, সব ওর একটা মিউট করে রাখা চলচ্চিত্রের মতো লাগছিল। ও শুধু নিজের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দই যেন শুনতে পাচ্ছিল আর বাবার হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিল তাড়াতাড়ি।


মল্লিকা মাথার ভেতরের বিরক্তি আর ক্ষোভটা আর যেন চেপে রাখতে পারছিল না। বুকের ব‍্যাথাটা বেড়েই চলেছে যেন ক্রমাগত। তাই আচমকাই উঠে পড়লো আর ঘরটা থেকে বেরিয়ে গেল। বসে থাকতে থাকতে পায়ে ঝিঝি ধরে গেছে তাও কোনো রকমে পা টেনে টেনে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো। নিচের বসার ঘরটায় কয়েকজন হাফেজ হুজুর তারস্বরে কোরান পড়ে যাচ্ছে। লোকজনে ভর্তি নিচতলাটা, সবাই পুরুষ, বিভিন্ন বয়সের, প্রায় সবাই সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরে আছে, কারো কারো মাথায় একরঙা সাদা কিংবা নকশাতোলা টুপি। আগর আর আতরের গন্ধের সাথে সাথে বিরিয়ানির গন্ধও ভেসে আসছে পাশের ডাইনিং স্পেস থেকে। কারো যদি খিদে টিদে পেয়ে যায়, তাই এই ব‍্যবস্থা করেছে কোন শুভাকাঙ্খী হয়তো। মল্লিকা ভেবে পেলো না এতো রাতে কি করে এতো আয়োজন করে ফেললো এরা। আর যাই হোক শোকের মাতন তো এ নয়, মানুষগোলো যেন প্রচণ্ড ভয়ে আছে আর সেই ভয়কে তুষ্ট করতেই এতো আয়োজন। শান্তার বরটাকেও দেখতে পেল, একটা সাদা পাঞ্জাবি পরে গাড়ি বারান্দায় কজন সমবয়সী লোকের সাথে একটা বেঞ্চিতে বসে আছে। বন্ধুবান্ধবই হয়তো এরা। দেখে খুব ক্লান্তই লাগছে শুধু, অনেকটা রোগা হয়ে গেছেন, কম ধকল তো যায়নি এ ক'মাস। সামনে একটা ঠান্ডা লাশের গাড়ি ওটাতে শান্তার দেহটা কাফনে আপাদমস্তক পেঁচিয়ে বেঁধে রাখা আছে। শেষ গোসল হয়ে গেছে এখন রক্তের সম্পর্কের নিকটাত্মীয় ছাড়া অন‍্য আর কোনো পুরুষ দেহটা দেখতে পারবে না, ছুঁতেতো পারবেই না। স্বামীও পারবে না, মরে যাবার পর নাকি স্বামী বেগানা পুরুষ হয়ে যায়। কিছু নতুন নতুন জিনিস শিখছে মল্লিকা এখানে আসার পর থেকে। 


গাড়ি বারান্দা থেকে ডানদিকে এক চিলতে বাগানটার দিকে মোড় নেয় মল্লিকা। বাগানের মুখের বাতিটাই জ্বলছে খালি। ভেতরের বাতিগুলো সব নেভানো বা হয়তো নষ্টই। ভালোই হলো। হয়তো এ কারনেই এখানে লোকজন নেই বল্লেই চলে। মল্লিকা কামিনী গাছটার নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। এই গাছটার নিচে শান্তার সাথে মল্লিকার খুব সুন্দর একটা ছবি আছে। ওইদিনই প্রথম আর এর আগে ওই একবারই এই বাড়িতে এসেছিল মল্লিকা। ওর মেয়ে লারার স্কুলে অনুও পড়ে, শান্তার সাথে ওখানেই আলাপ। সেদিন অনুর জন্মদিনে ওর কজন বন্ধুদের সাথে ওদের মায়েদেরও নিমন্ত্রণ ছিল। শান্তা বলেছিল সবাইকে শাড়ি পরে আসত আর পারলে একটু আগে আগে বিকেল করে যদি আসতে পারে। মল্লিকাই তাড়াতাড়ি বিকেল পাঁচটার মধ‍্যে এসেছিল। আর এসেতো এই আলিশান বাগান সহ দোতলা বাড়িটা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। শান্তার সাথে আলাপ করে কখনোই বুঝতে পারেনি ওরা এতো ধনী। মল্লিকার এতো অস্বস্তি হচ্ছিল, আগে জানলে আসতোই না। লারাকে মল্লিকার এক বান্ধুবী একটা পার্টি ফ্রক উপহার দিয়েছিল কিছুদিন আগে। একবারও পরেনি বলে ওটাই সুন্দর করে র‍্যাপ করে উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছিল। কি আর করবে এতো হিসেবের সংসার, একটা বাড়তি উপহার কেনার টাকা ওর আসলেই ছিল না। কিন্তু এতো সাবধানি হিসেবী জীবনের মধ‍্যেও মল্লিকা একমাত্র খুশি কারন হল লারা, মেয়েটা সত‍্যি বড় লক্ষ্মী হয়েছে। রাজ‍্যের দুষ্টুমি আর গোঁয়ারতুমীটা করে ঠিকই কিন্তু ওর আশা হয়তো একদিন সত‍্যি সত‍্যি মানুষ হবে। যখন ওকে জিজ্ঞেস করেছিল ওর নতুন উপহার পাওয়া জামাটা অনুকে দিয়ে দেবে কি না, প্রথমে যেন একটু থতমত খেয়ে গিয়েছিল লারা তারপর বেশ কিছুক্ষণ যেন গভীর কিছু চিন্তা করলো, তারপর হাসি মুখেই বললো "ঠিক আছে মা। খালি হাতে যাওয়া তো ঠিক নয়। তাই না?" মল্লিকার মনে হয়েছিল মেয়েটা বড় হয়ে যাচ্ছে বড্ডো তাড়াতাড়ি। তেমন কিছু আবদারও করে না।  অভাবের সাথে মানিয়ে নিতে বাধ‍্য করে করে  ও নিজেই যেন মেয়েটাকে জোর করে বড় বানিয়ে তুলছে। মল্লিকার একটু কান্না পাচ্ছিল, এমন একটা লাল টুকটুকে জামার খুব শখ ছিল লারার অনেকদিন। বাড়ির ফ‍্যান্সি শপিংগুলো ওর শ্বাশুড়ি দিলারাকে ছাড়া কেউ ভাবতেই পারে না। ওনার পছন্দের ওপর সবার অগাধ আস্থা। লারার জন‍্য কখনোই উনি লাল জামা কিনতে দেন না, বলেন, "অমন ময়লা গায়ের রঙে লাল জামা পরলে ওকে আরও কালো দেখাবে"। মল্লিকার খুব কষ্ট লাগে এমন ভাষা শুনে ওর এতো মিষ্টি মেয়েটাকে ওদের ময়লা মনে হয় আর ওর ঘন বাদামি রংটা ওদের কাছে কালো মনে হয়। দিলারা নিজের শারিরীক সৌন্দর্য নিয়ে সবসময় একটা অসুস্থ ঘোরের মধ‍্যে থাকেন বলে মল্লিকার ধারনা। একসময়কার ডাকসাইটে সুন্দরী দিলারা হয়তো ক্রমআগ্রাসী বার্ধক‍্যকে মেনে নিতে একদমই পারছেন না তাই সারাক্ষণই প্রচন্ড মেজাজ খারাপ করে থাকেন আর যখন তখন নিজের সৌন্দর্য এবং প্রবল বিশ্বাসের নীল রক্তের অহংকার জাহির করতে থাকেন। ছোট্ট লারাটাকেও তাঁর দম্ভের আঁচড় কামড় থেকে বাঁচাতে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হয়। প্রতিদিন অন্তত একবার দিলারা মল্লিকাকে একটা কালো কন‍্যা সন্তান জন্ম দেবার জন‍্য খোঁটা দিয়ে যান। মল্লিকার যখন বিয়ে হয়েছিল দিলারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরখ করে নিয়েছিলেন ওর উজ্জ্বল ফর্সা গায়ের রং, নিখুত চোখ মুখের অনুপাত, গড়ের চেয়ে বেশি উচ্চতায় আকর্ষনীয় শারিরীক গঠন, ঘন মেঘের মত কোঁকড়ানো চুল, সুন্দর কন্ঠস্বর ও বাচন এবং চলনসই শিক্ষাগত যোগ‍্যতা, মল্লিকার এবং সেই সাথে ওর পরিবারের অন‍্যান‍্য সদস‍্যদেরও। এতো সাবধানতার পরও যখন লারা জন্মালো মল্লিকার বর তারেকের চেহারা ও গায়ের রঙ নিয়ে নিজের অজান্তেই দিলারার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়লো ওদের মা-মেয়ের ওপরেই। প্রয়োজনের বাইরে লারাকে একটা খেলনাও কখনো মল্লিকা কিনে দেয়নি কিংবা কিনে দিতে পারেনি কোনদিন, ওদের ভাষায় বিলাসিতা বলতে শুধুমাত্র নিজে একা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সবার অমতের বিরুদ্ধে গিয়ে মেয়েটাকে শহরের সবচেয়ে নামকরা বেসরকারি বাংলামাধ‍্যম স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। বাসায় লারাকে এখনও ও  নিজেই পড়ায় তবু অন‍্য স্কুলের তুলনায় এখানে খরচটা একটু বেশি, সে কারনেই মল্লিকা নিজের এবং লারারও প্রায় সমস্ত শখ আহ্লাদ একরকম বিসর্জন দিয়েছে। এমন কি লারা একটু বড় হবার পর থেকে যেহেতু স্কুল তেমন একটা দূরে নয় তাই স্কুলে আসা যাওয়াটা পর্যন্ত ওরা পায়ে হেঁটেই করে।তারপরও দিলারার মনে হয় সে তার মেয়েকে নিয়ে বড় বেশি ন‍্যাকামি করে আর এতো লাই দিতে থাকলে ভবিষ‍্যতে ওকে সামলানো দুষ্কর হয়ে পড়বে। 


আজ যখন সন্ধ‍্যায় অনুদের বাসায় ফোন করেছিল রাত প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ, শান্তার শ্বশুরই জানিয়েছিল যে সকালে শান্তাকে আবার হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর সন্ধ‍্যা সাড়ে সাতটায় ডাক্তাররা ওকে ক্লিনিকেলি মৃত ঘোষণা করে দিয়েছে। মল্লিকা হাসপাতালে ছুটে গেছে বাড়ির সবার আপত্তি সত্ত্বেও, সবাই বলছিল গিয়ে কি হবে, ভীড় বাড়িয়ে কি লাভ, অনেক রাতও হয়ে গেছে, সে তো আর খুব কাছের কেউ নয়, অতো বড়লোক লোকজন  আগ বাড়িয়ে এতো দরদ দেখালে লোকে কি বলবে, কে যাবে সাথে বা পরে ফিরবে কি করে ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি। আসল কথাটাই ওরা হয়তো এমন খারাপ খবরের সময়ে বলতে পারেনি যে এখন মল্লিকা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে ভাতটা কে রান্না করবে, টেবিলে রাতের খাবার, শ্বাশুড়ির ইনসুলিন, ওষুধ এগুলো কে সাজিয়ে দেবে কিংবা রাতের ধোয়াপালাগুলোই বা কে করবে? মল্লিকার কানে তেমন কিছুই ঢুকছিল না কিন্তু তারপরও যেন একটু কৃতজ্ঞ বোধ করছিল। আর ওর শুধু মনে পড়ছিল শান্তার ভীষণ বিষাদে ভরা বড় বড় চোখ দুটো, এতো অর্থনৈতিক বিভেদ,  যোগাযোগহীনতা কিংবা সামাজিক দূরত্বের পরও যে চোখদুটো বলতো যে ওরা দুজন একই রকম, বড় বেশি একই রকম। 


কামিনী গাছটার নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এইসবই ভেবে যাচ্ছিল মল্লিকা। হঠাৎ মনে হলো লোকজন ওকে খেয়াল করছে তাই গাড়ি বারান্দার দিকে এগোতেই দেখলো তারেক দাঁড়িয়ে আছে লাশের গাড়িটার কাছে। ওকে দেখতে পেতেই হড়বড় করে বলতে লাগলো, "এসবের মানে কি মলি? রাত দুইটা বাজে। কতক্ষণ এসেছি এখানে। এরাতো কেউ তোমার নামও জানেনা আর চিনতেও পারছে না। বলেছিলাম আগেই এইসব বড়লোকদের ব‍্যাপার। তাও এলে যখন এতোক্ষণ কি? আর কোনো লাভ কি হলো? ফোনটা পর্যন্ত সাথে আনোনি। এতো ইরেসপনসিবল হলে কিভাবে কি? কোনো ভদ্রঘরের মেয়ে এতো রাতে বাসার বাইরে থাকে? আম্মা খুব ক্ষেপে গেছে। এতোক্ষণেও ঘুমিয়েছে কি না কে জানে। তুমি তো জানো আম্মা এসব আদিখ‍্যেতা, উড়নচন্ডিপণা একদম পছন্দ করে না। ক্ষেপে গিয়ে কি করবে আল্লাই জানে।" মল্লিকা নির্লিপ্ত গলায় বললো " হুম। এখন বাসায় যাবো।" তারেক যেন একটু হকচকিয়ে গেল ওর গলাটা শুনে। অনেক্ষন হাঁটার পর একটা রিক্সা পেল। রিক্সায় হঠাৎ নিরবতা ভেঙে তারেক বললো "ও হ‍্যাঁ! তোমাকে তো বলাই হয় নি। প্রজেক্ট বানাতে গিয়ে লারা এন্টিকাটারে অনেকখানি হাত কেটে ফেলেছে তুমি বেরিয়ে যাবার পর। কি রক্তারক্তি, কান্নাকাটি, মহাগন্ডগোলের মধ‍্যে পড়লাম, তুমি একটা বাসায় নাই। পরে রাতেও খেলো না কিছু।" মল্লিকা কিছু বললো না, শুধু ল‍্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো দেখে যেতে লাগলো।


পরদিন সকালে লারার মুখটা দেখে মল্লিকার একটু বিরক্তই লাগতে লাগলো। এতো ছোটখাটো কারনে এতো মন খারাপ করলে পুরো জীবনটা কেমন করে কাটাবে। প্রজেক্টটা শেষ করতে পারেনি বলে ভীষণ মন খারাপ করে আছে আর মাঝে মাঝেই বাঁ হাতের ব‍্যান্ডেজ করা তর্জনীটা চোখের সামনে এনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে। মল্লিকা জানে এইসব প্রজেক্ট বানাতে আর ছবি আঁকতেই লারার সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে। খুব আগ্রহ নিয়ে কাজগুলো নিজেই করে, মল্লিকা নিতান্তই দরকার হলে একটু সাহায‍্য করে দেয়। তারপরও এতো বিমর্ষ হয়ে পড়াটা ওর একটু বেশি বেশিই মনে হল। স্কুলে যেতে যেতে লারাকে বললো "দেখো লারা, একদিন প্রজেক্ট রেডি না হলে এতো মন খারাপ করার কিছু নেই। সবসময় সবকিছু একদম তোমার মন মতো হবে না। চেষ্টা করলেও না। আর হাতের দিকে তাকিয়ে থাকলে হাত তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে না।" লারা কিছু একটা বলতে গিয়েও চুপ করে গেল। ওর শুধু মনে হলো মা খুব রেগে আছে। মায়ের অনুর মায়ের জন‍্য মন খারাপ এটা ও জানতো, কিন্তু এতো রেগে কেন আছে তা বুঝতে পারছে না। লারা এটাও ভেবে পাচ্ছে না যে অনু এখন কি করছে। গতকাল তো মা একলাই গেল। আর ফেরার পর এই প্রসঙ্গে কোন কথাই হয়নি। আচ্ছা অনুর মা কি তাহলে আর কোথাও নেই? এটা ভাবতেই লারা ভীষণ চমকে উঠলো আর হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো। ভীষন একটা ভয় যেন লারাকে চেপে ধরলো চারপাশ থেকে। মা আছে পাশেই তারপরও ওর খুব ভয় করতে লাগলো। দাদু গতকাল বলছিল অনুর মা ভাল না তাই এতো কষ্ট পেলো আর অনুও নাকি ত‍্যাঁদড় একটা মেয়ে, অনুর মা অনুকে কোন আদব কায়দাই নাকি শেখায়নি। অনুরা একদিনই এসেছিল ওদের বাসায় গত বছর। ইন্ডিয়া থেকে ফিরে কিছু ক্লাসের পড়া তুলে নিতে। দাদু খুব বিরক্ত হয়েছিল সেদিন। আর বলছিল ওরা এতো বড়লোক শুধু কটা চকলেটই আনলো ইন্ডিয়া থেকে! হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ায় মল্লিকার জীজ্ঞাসু চোখের দিকে তাকিয়ে লারা প্রশ্ন করলো "আচ্ছা মা, অনু খুব দুষ্ট তাই বলেই কি ওর মা ওকে ছেড়ে চলে গেছে?" মল্লিকা একটু ঘাবড়ে গেল লারার এমন প্রশ্ন শুনে। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বললো "না লারা, অনুর মা অনুকে ছেড়ে কোথাও যায় নি আর কোনদিন যাবেও না।" মল্লিকা একটা রিক্সা ডেকে নিল। লারাটার হয়তো শরীরটা তেমন ভাল নেই আর তাছাড়া ওর নিজেরও ভীষণ ক্লান্ত লাগছে।


লারাকে স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে মল্লিকা বাইরে শেডের নিচে বেঞ্চিগুলোর একটাতে বসলো। অন‍্য আরো কিছু মায়েরাও আছে আর থাকেনও সবসময়ই। সংসারের এতো ব‍্যস্ততার মধ‍্যে অনেকেই একটু দম ফেলে গল্পগুজবে মেতে ওঠেন কিছুক্ষণ। মল্লিকার তেমন সময় থাকেনা বেশির ভাগ সময়ই, সে লারাকে ছেড়েই হন্তদন্ত হয়ে বাসায় ছুটে যায়। কারন ঘরের আসবাবগুলো ঠিকসময়ে ঝাঁট দিয়ে পুরো ঘর গুছিয়ে না রাখতে পারলে পরে ঝামেলায় পড়তে হয়। বেলা এগারোটা নাগাদ খাদিজা বুয়া আসে আর  হুড়মুড় করে দশ পনেরো মিনিটের মধ‍্যে ঘরটা কোনরকমে ঝাড়ু দিয়ে মুছে চলে যায়। সপ্তাহে একদিন ধোয় দুটো টয়লেট, সেদিন আর ঘর মোছে না। এই এতটুকু কাজ করেনা বলে মল্লিকাকে প্রতিনিয়ত বাঁকা মন্তব‍্য শুনতে হয় দিলারার কাছ থেকে। তা যাক, ওসব এখন ওর গা সওয়া হয়ে গেছে কিন্তু আবার ভাবে আসলেই কি তাই? আজ মল্লিকা বাসায় ফেরার তাড়া অনুভব করছে না একদম। চুপচাপ বসে থাকবে ঠিক করে অনেকক্ষণ। কিছুক্ষণের মধ‍্যেই বুঝতে পারে শান্তার মৃত‍্যুর খবরটা এর মধ‍্যেই চাউর হয়ে গেছে। এই ছোট শহরটায় অমন সুন্দরী অমন বড়লোক বাড়ির কম বয়সী বউ মরে গেলে চাউর হবারই কথা। মল্লিকা একটু আনমনা হয়েই বসে থাকে কিন্তু চারদিকের জমে ওঠা আলাপচারিতাগুলো ওর কানে এসে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে যায়। 

"আহারে... এখনও মেনে নিতে পারছিনা আপা। বাচ্চাটার কি হবে?" 

"কি কষ্টটাই না পেল বেচারি। বরটাও নাকি পরে অনেক করেছে।"

"দেশের বাইরে নিল না, এতো টাকা ওদের। বুঝিনা বাবা।"

"আরে টাকা থাকলে হয়? মনও লাগে। বিয়ের পর থেকে একদিনও নাকি শান্তি দেয়নি শ্বশুরবাড়ির লোক। আমার বরের এক ভাগ্নির তো ওর এক মামাতো দেওরের সাথে বিয়ে হল সেদিন।"

"বাদ দিন ভাই, বাচ্চাটার কথা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে। আপনারা কেউ গিয়েছিলেন? শুনেছি  নটায় জানাজা ছিল, এতোক্ষণে হয়তো মাটি দিচ্ছে।"

"বাদ দেব কেন? অমন পরীর মতো হাসিখুশি মেয়েটা যে ওদের চোখের সামনে ক্ষয়ে যাচ্ছিল প্রতিদিন ওরা টেরও পেল না? শেষে নাকি শুধু হাড় আর চামড়া ছিল শরীরে।"

"আরে সেও কিছু কম ছিল না, শুনেছি বেশ চোপা করতো। আর ওই বিয়ের আগের একটা সম্পর্ক ছিল, ওটা নিয়ে তো সারাক্ষণ অশান্তি লেগেই থাকতো।"

"আরে রাখুন তো আপা, বিয়ের আগে কতো কিছুই তো থাকে কতজনের, তা এতো সমস‍্যা থাকলে ওরা ওই মেয়ে ঘরে তুললো কেন? বেচারি একটু ফেসবুকও ইউজ করতো না, ফোনও নাকি প্রায়ই বন্ধ থাকতো। আর বরকে ছাড়া কোথাও যেতোও না। একলা স্কুলে আসতো মেয়েকে নিতে শুধু, তাও গাড়ি নিয়ে। পুরোনো বন্ধুবান্ধবদের সাথে পর্যন্ত নাকি যোগাযোগ ছিল না।"

"লোভ আপা, লোভ। শুনেছি ওর বাপের বাড়িরও কিছু কম নেই। বিয়ের সময় অনেক কিছু পেয়েছিল। ভাইরা একমাত্র বোনকে সব প্রাপ‍্য একদম মিটিয়ে দিয়েছিল।"

"বরটা তো সারাদিন ইয়ার দোস্ত নিয়ে ক্লাবেই পড়ে থাকতো। শেষ কিছুদিন করেছে। তাতে কি? কিছুদিন পরেই ভুলে যাবে। দেখবেন হয়তো আরো বড় দাও মারবে কদিন পর। মাঝখান থেকে বাচ্চাটা..."


মল্লিকার মাথা ধরে যায় আবার ভীষণ। একটু টলতে টলতেই ও বাড়ির দিকে পা বাড়ায়। মনে হয় এক্ষুনি পড়ে যাবে মাটিতে। গতকাল বিকেলের পর থেকে কিছুই মুখে তোলেনি। রোদের তেজটাও বেড়ে গেছে অনেক। ও হাত তুলে একটা রিক্সা ডাকে, গলা দিয়ে কিছুক্ষণ কোন স্বরই বেরোতে চায় না, তারপর অনেক কষ্টে বলতে পারে কোথায় যাবে।




লারার পরীক্ষা শেষ হয়েছে গতকাল। ওর ফুপুর সাথে তাই একটু বেড়াতে গেছে বাইরে। এমনিতে মল্লিকা ওকে একলা ছাড়ে না। তাও ভাবলো ও তো আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, একটু একটু করে সবার সাথে মিশুক আলাদা করে। আর ওর নিজের জগৎটাও তৈরী করে নিক। সারাক্ষণ মায়ের পায়ে পায়ে ঘুরলে পরে পৃথিবীটা ওর খুব অচেনা মনে হতে পারে। সোমা ওর ননদ, ঢাকায় হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করছে। এখন কিছুদিন ক্লাস নেই তাই বাড়ি এলো। এখনই বেশ স্বাবলম্বি হয়ে উঠেছে, নিজের খরচ নিজেই চালাচ্ছে পার্টটাইমে টিউশনি আর এটা ওটা করে। মল্লিকার বেশ লাগে ওর উচ্ছল আর একরকম স্বাধীন জীবনযাপনের গল্প শুনে। তারেকও খুশি কারন বোনকে ওর তেমন কিছু দিতে হয়না। কিন্তু দিলারা খুব বিরক্ত পুরো ব‍্যাপারটা নিয়ে। ওর ঢাকায় চলে যাওয়া, হোস্টেলে থাকা পুরো বিষয়টার তিনি ঘোর বিরোধী। হোস্টেল কোন ভদ্র মেয়েদের জায়গা নয়। বিরুদ্ধাচরণ করেও তেমন কিছু আর করতে পারেন নি শেষ পর্যন্ত কারন স্বামী মারা যাবার পর তাঁর অবস্থান নিয়ে তিনি এখন খুব শংকিত থাকেন। ছেলের কথার ওপর আর তেমন একটা কথা বলেন না আজকাল। আর এই থম মেরে থাকা, বেশি বোঝা বউটাই তো আরো আগুনে ঘি ঢেলেছিল ননদটাকে শহরের বাইরে পাঠাতে। তবে এবার তিনি বদ্ধপরিকর, সোমার বিয়ে দিয়েই তবে ছাড়বেন। সোমা ঠিক মায়ের মতো না হলেও একেবারে ফ‍্যালনা নয়, একটু চেষ্টা করলে একটা বড়লোক বাড়িতে ঠিক সম্বন্ধ করতে পারবেন। আর তারেকের বড় চাচী বলছিল যে তার হাতে কয়েকটা বেশ ভাল পাত্র আছে। আল্লা চাইলে এবার দায়িত্বটা সেরে ফেলে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন এমনটা ভাবতে ভাবতে দিলারা তার বিকেলের চাটাতে চুমুক দিলেন আর সাথে সাথেই থুথু করে চিৎকার করে উঠলেন "মলি এটা কি চা হয়েছে? কি এটা? না হয়েছে লিকার, না হয়েছে দুধ। এই অলক্ষ্মী বউ ঘরে আসার পর থেকে একদিনও শান্তি পেলাম না। সকাল বিকাল একটু আরাম করে চা খাব তারও জো নেই। এরকম হাভাতে ঘরের মেয়ে আনলে এমনই তো হবে...।" আজ মলির কি হল কে জানে মাথাটা প্রচণ্ড গরম হয়ে গেল। ও দিলারার সামনে থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে রান্নাঘরের সিঙ্কে সশব্দে রেখে আসলো। আর ফিরে এসে নিজের চায়ের কাপে নির্লিপ্তভাবে চুমুক দিতে থাকলো। মল্লিকার স্পর্ধা দেখে দিলারা একেবারে নির্বাক হয়ে গেলেন। তারেকও আশ্চর্য হয়ে গেল ওর এমন আচরণ দেখে। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে বললো "এগুলো কি মলি? এগুলো কি ধরনের বেয়াদবি? তুমি এখনই আম্মার কাছে মাফ চাও। এখনই। তারপর ঠিকঠাক এক কাপ চা বানিয়ে আনো।" মল্লিকা যেন কিছু শুনতেই পায়নি এমন ভাব করে টেবিল গোছাতে শুরু করলো। তারেক এবার উঠে গিয়ে মল্লিকার পাশে গিয়ে প্রচণ্ড রেগে বলতে থাকে "মলি! এটা কিন্তু খুব বাড়াবাড়ি করছো। এক্ষুনি মাফ চাও।"। মল্লিকা কোন উত্তর না দিয়ে রান্নাঘরের দিকে যায়। তারেক এবার আরো রেগে যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে থাকে। রান্নাঘরে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে "এসব বেয়াদবি কিন্তু এখানে চলবেনা মলি। এসব করে কিন্তু তুমি এ বাড়িতে থাকতে পারবেনা।" মল্লিকা তারেকের দিকে ঘুরতেই তারেক আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না, রাগে তারেকের সারা শরীর কাঁপতে শুরু করলো, "মলি..." বলে চিৎকার করে উঠলো আর ওর ডানহাতটা উঠে গেল শূণ‍্যে। কিন্তু মল্লিকা তারেকের হাতটা ধরে নিল ওর গালে পড়বার আগে একটুও চোখের পলক না ফেলে। আর চোখে চোখ রেখেই এক ভৌতিক শীতল গলায় বলে উঠলো "সাবধান তারেক! সাবধান! আমি এতো সহজে হারবো না। কোথাও যাবোও না। মরবোও না। এই বাড়িতেই থাকবো। শুধু তোমরা জেনে নাও তোমাদের সাথে থাকতে আমার ঘেন্না করে।"





টুকরো কথা : দেয়াল

যখন যেখানে যাই, হায় এ কি কপাল, একখান প্রেমিক জুটে যায়, তারচেয়েও বলা ভাল জুটতে চায়। তারা উন্মুখ হয়ে তাকায় আর স্বপ্নীল চোখে যেন বলে "চলো মেয়ে আমরা ঘুরতে যাই। দূরে কোথাও। একটা নৌকো নিয়ে ঘুরবো সারাদিন। কিংবা অচেনা একটা গ্রাম পায়ে হেঁটে চষবো দুজন। পরের গাছের কুলটা পেয়ারাটা দেখো কেমন ছিঁড়ে আনবো তোমার জন‍্য। কিংবা মজা করে খেয়ে নেব কুৎসিত চা বিস্কুটও। কিংবা গিয়ে বসতে পারি একটা সুইমিংপুলের ধারেও, ঠান্ডা কফি আর ঠান্ডা ফ্রাইস খেতে থাকবো ঘন্টার পর ঘন্টা। আমার হাত ধরো, দেখো ঠিক ওই উঁচু পাহাড়টা চড়ে নেব। তুমি রেখো এই কাঁধে মাথা, আমি তোমায় কথা বলতে বলবো না, নিজেও বলবোনা একটাও শব্দ। সমুদ্রের ধারে তোমার চোখে এনে দেব নীল রং, একদম সত‍্যিকারের। কিংবা দুজনে নাহয় একটা ভীড় রাস্তায় রঙিন আইসক্রিম  চাটতে চাটতে ভীড়েই হারিয়ে যাবো। বিশ্বাস করো আমার মাথায় নেই কোনো কুচুটে। পকেটের শেষ টাকাটা খরচ করবো একটু নির্জনতার জন‍্য আর দেখো ঠিক খুঁজে পাবে ডানাগুলো।" 

উফ ! কি যন্ত্রণা ! এদের মাথায় জানি আমি শয়তানেরই বাসা। তাই আমি কান বন্ধ করে রাখি যেন কিছুই শুনতে না পাই। নিজেকে বলি "না না না... কিছুতেই শুনবো না...সত‍্যি বলুক বা মিথ‍্যা, কিচ্ছু যায় আসে না। প্রতিদিন কেন কোনোদিনই প্রথম দিনের মতো হয়না। আমার আছে দেয়াল। সাদা রঙের দেয়াল। আমি ফিরে যাব দেয়ালের কাছে। সে থাকে চিরকাল একইরকম। সেই শুধু চিরকাল সমান একাগ্রতায় শুনে যায় যত কথা আছে আর ঠিক একইভাবে তাকিয়ে থাকে। হায় প্রিয়তম দেয়াল, আমি শুধু তোমারই, আর শুধু তোমাকেই ভালবাসি।"



Tuesday, January 5, 2021

স্কেচ : আট

আরে! আরে! কি করছো?


"নাচছি।"


এ‍্যাঁ!!! এটা আবার কেমন নাচ? কোত্থেকে শিখলে?


"বাগানের একটা কেঁচোর কাছ থেকে। ওর সাথে বন্ধুত্ব হলো আজ। ওর নাচটা পছন্দ হলো তাই শিখে নিলাম।"


কি! কেঁচোর সাথে বন্ধুত্ব? কেঁচোর সাথে নাচ? তোমার বন্ধুরা কই?


"ওই যে! বাগানে। সকাল হোক, পাখিরা আর মৌমাছিরাও আসবে।"


ধ‍্যাৎ! আমি তোমার মানুষ বন্ধুদের কথা বলছি।


"ও। ওদের কেউ ছেড়ে গেছে আর কেউ তাড়া খেয়েছে।"


কি? কেন এমন করলে? ছেড়ে গেল কেন? আর তাড়ালেই বা কেন?


"বাব্বা!!! আমাকেই দুষছো দেখি!!! তুমি কে ভাই??? যাও যাও। তুমিও ভাগো তাড়াতাড়ি।"


আরে, সেভাবে ঠিক বলতে চাইনি। কি হয়েছিল তাই শুধু জানতে চেয়েছি।


"ওরাই তো বললো আমি নাকি ভালো নই, একটা আস্তো হাড় বজ্জাত। আরো বললো জানোতো? বললো আমি নাকি চৌদ্দ নম্বর!"


কি বলছো! মুখের ওপর বললো?


"কেউ বললো মুখের ওপর আর কেউ বলছিল একে অন‍্যকে। আমি নিজে শুনেছি।"


হুম... যাকগে... বাদ দাও। কিন্তু ওই যে একজন ছিল তুমি ঘুমিয়ে পড়লে আসতো, সে কোথায়?


"সে তো আর আসে না। ভুলেই গেছে আমাকে।"


হুম... তবে ওকেও বাদ দাও। কেঁচোটাই ভালো।


"এতোক্ষণে ঠিক কথাটা বললে চাঁদু! চলো তোমাকেও নাচটা শিখিয়ে দিই। কেঁচোটাতো ঘুমুচ্ছে, তুমিই একটু আমার সাথে নাচো... এই যে এভাবে দাঁড়াও... তারপর এই...এইরকম... ডিং ডিং ডিং ডিং | ডিং ডিং ডিং ডিং | এইতো দারুণ... ডিং ডিং ডিং ডিং..."


https://soundcloud.com/mykebogan/6-beers-lightweight?ref=clipboard&p=a&c=0




আবোলতাবোল : আট

চীন থেকে এসেছিল 

হট মিস চিং চিং চুঁ

সরু সরু হাত পা

উড়ে যেত দিলে ফুঁ

বললো এসে তুমরা ভাই

ভীষণ রকম বোকা তু!

গ্লোবাল কম্পিটিশনে

হয়ে যে যাবে ছাতু

এখোনো খাও ডাল ভাত

পোকা মাকড় চাখো না

না হলে সর্বভুক

পৃথিবীতে টিকবে না

সারাদিন ফেসবুক

গুজগুজ ফুসফুস

তুমাদের সরকার আন্ধা নি?

কোয়ালিটি কন্ট্রোল

ট‍্যালট‍্যালে ঝোলঝোল

এভাবে চলবে নাকি

আমদানি আর রপ্তানি?

তুমাদের মাইয়াগুলা 

এতু করে খাটনি

তারপরও চেহারা দেখো

একেকটা ফকিন্নি

পোলাপানগুলা তু

নিজের ভাষাই বুঝে না

ইংরেজী ঠিক শিখেনা

চাইনিজ তু জানেইনা

ক্লায়েন্টগুলা লেখাপড়া 

একদম কি শিখেই নাই

বিসনেস মিটিং এ

দাড়িমোচে চুলকায়

অ‍্যামবাসেডারটা

তুমাদেরই ঠিক তু

না কি সে বুঝেই না

আমাদের শর্তু

তুমাদের রাস্তায়

এতু নাঙ্গা ভুখারা

এমনও তু দেখি নাই

যখন গেছি সাহারা

তুমরা নাকি নদীমাতৃক

নদী তু খুঁজে পাইনাই

এতু দূর্গন্ধ 

বেশি একটা ঘুরিনাই

রিসোর্টের নামে তুমরা

কি বানাইসো এগুলা?

কয়টা বিল্ডিং তুলে

জমিগুলা খাইলা?

শালবনে শাল নাই

সুন্দর বনে বাঘ নাই

পাহাড় নাই রাস্টিক

সমূদ্রতে প্লাস্টিক

কতু আর মন টেকে

পাঁচতারা হোটেলটাতে

বাইরে নাকি খুব ভয়

রেপ করে গলা কাটে?

এমন করে তাকায় যেন

জীবনে মেয়ে দেখে নাই

ওরা সব কারা সব

ওদের ঘরে মেয়েরা নাই?

এতু বাচ্চা পয়দা করো

তুমাদের কি শরম নাই

নিজেকে নিয়েই ভাবো

দেশের কোনো চিন্তা নাই

এতু সময় নষ্ট করো 

কাজ করো কখন আর

পরের পেছনে লাগা

এটা কোনো ক‍্যারিয়ার?

কারিগরি বুদ্ধি নাই

বাস্তব জ্ঞান নাই

কি করবা দিয়ে শুধু

বিদ‍্যা মুখস্তু?

রোবটরা এর চেয়ে ভাল

জানে আপডেট সমস্তু

স্কুলগুলা এতু ভীড়ে

দেখবা ভেঙে পড়বে

মাদ্রাসা আবার কি

ওটা দিয়ে কি হবে?

বাচ্চাদের ছোটবেলায়

ধনী গরিব শেখাচ্ছো

ভবিষ‍্যতে কি করবে

তা নিয়ে ভেবেছো?

এতো তু স্বপ্ন দেখো

তা কারা পূরণ করবে

সবাই এক না হলে

আগুন শুধু জ্বলবে

উগ্রবাদী না তাড়ালে

একদিন হবে ব্ল‍্যাকলিস্ট

তুমাদের বাদ দিয়ে

গুনে নেব সাউদইস্ট

কথাগুলো বল্লাম 

কানে কিছু ঢুকলো?

এই বলে চিং চিং চু

ফ্লাইট ধরতে ছুটলো












স্কেচ : সাত

গোলাপ গাছে নতুন নতুন কুঁড়ি। দেখেছো তুমি?


"হুম"


খুশি নও মনে হচ্ছে?


"..."


সবচেয়ে সুন্দর গোলাপটা কাকে দেবে ঠিক করেছো?


"..."


মন খারাপ তোমার?


"গোলাপগুলো রোদে শুকোবো তারপর RoseTea বানিয়ে খেয়ে নেবো।"


কিন্তু সেদিন তো অন‍্যরকম বলছিলে


"সত‍্যি বলিনি তখন। এখন সত‍্যিটা বলছি।"


কোনটা যে সত‍্যি বল আর কোনটা যে মিথ‍্যা বল! বুঝিনা বাবা!


"তোমার বোঝার কি দরকার?"


তবে কে বুঝবে?


"সত‍্য বুঝবে আর মিথ‍্যা বুঝবে ওরা কে কি। এতো জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকে, ওদেরই বুঝে নিতে দাও।"


https://soundcloud.com/crxxx/replay-1?ref=clipboard&p=a&c=0




বাগধারা চরিত

অকটবিকট অক্কা পাবে অকর্মার ধাড়ি

অগ্নিবাণে অথই জলে অতিচালাকের নাড়ি


আউড়ে তাকায় আঁখি ঠারে আঁজলপাঁজল গাড়ি

আথালিপাথালি আছাড় খায় আচমকা সুন্দরী


ইঁচড়ে পাকা ইঁদুর কলে ইতি উতি ভাবে

ইতি টানে ইন্দ্রপতন তাই ইষ্টনামে কাঁপে


উচিত শিক্ষা উচিত শাস্তি উচিত সময়ে পাবে

উটক-পাটক উটকো কথায় উল্টো বিপদ হবে


ঊনপাঁজুরে ঊনখেজুরে ঊর্ধ্বনেত্রে তাকায়

ঊনকোটি চৌষট্টি সমস্তটাই চায়


এই বেলা এওজ-তরাজ এঁটে ওঠা দায়

এক আঁচড়ে এসপার-ওসপার, একা দোকা ঠায়


ওই কি বলে, ওই পর্যন্তই, ওজন করা প্রেম

ওতে ঘাতে চলতে পারলে ওজন দরে কেন


কঞ্জুসের ভাত্তাখোড়ে দিবানিশি কর্ম সারে, কওয়ার কথা নয়

কাঁচা ওলে পা না দিলে, কাগাবগা না করলে,

কাটান ছেঁড়ান হয়?


খচিয়ে দিয়ে খচখচানি খড়ের আগুন ধরায়

খুদে রাক্ষসের খিল ধরবে খ‍্যাঁচামেচির চিপায়


গজরগজর গছিয়ে দিতে গড়গড়িয়ে চলে

গেঁড়ে বসেও গজাল ঠোকে গান্ডেপিন্ডে গিলে


ঘটি-চোর ঘন্টা গরুড় ঘটিরামের ছানা

ঘা-করানী, ঘর-জ্বালানী শেখেনা ঘাট মানা


চই চই চই চকমকানো চকরা-বকরা জামা

দেখলে চক্ষু চড়ক গাছ চঙলমারা প্রেমা


ছক কেটে যায় ছন্দেবন্দে ছরাদ করাই সার

ছাই দিয়ে যায় বাড়া ভাতে ছালনচাখা ছার


জোচ্চোরেতে জগ দিয়ে যায় গোপনে জুত মতো

জোঁকের মুখে নুন পড়বে ঠিক জন্মের মতো


ঝকমারির ঝলসা কানায় ঝাঁটা পিটিয়ে যায়

ঝোঁকের মাথায় ঝিঁ ঝিঁ ধরে ঝোলঅম্বল এক হয়


টেনে বুনে টক্কর খেয়েও টঙস টঙস হাঁটা

ট‍্যা-ফোঁ হাঁড়ি টোল খেয়ে যায়, গরম দেখায় টাকা


ঠাউরে দেখা ঠাওর করা ঠিকে ঝিয়ের কাজ কি?

ঠুঁটো জগন্নাথ ঠান্ডা মারে ঠেলা মারায় আজ কি?


ডজন ডজন ডবকে ওঠার ডগমগানো হাসি

ডুকরে কাঁদায় ডাহা মিথ‍্যে, ডিগবাজি খায় রাশি


ঢং করা ঢনা ধরা ঢাক পিটিয়ে গায়

ঢলঢলিয়ে ঢপের কেত্তন ঢেউ খেলিয়ে যায়


তত্ত্ব করে, তল করে না, তক্কে তক্কে থাকে

তাগাড়মাখা তারিয়ে খেলেও তাসের ঘর বাঁকে


থৈ থৈ থৈ থলথলে থপথপাথপ হাঁটে

থু থু করে থোবড়া নেড়ে, থ‍্যাবড়ানো নাক বাঁটে


দয়ে মজানো দক্ষযঞ্জ দক্ষিণ হাতের কাজ নয়

দড়ি ছেঁড়া দমবাজেদের দরজা দেয়াই ঠিক হয়


ধরনা দেবে, ধাওয়া করবে, ধস্তাধস্তি শেষে

ধান শুনতে কান শুনলে ধর্মে সইবে কি সে?


নাক উঁচিয়ে নরম গরম নগদ বিদায় দিলে

নেমকহারামের নবাবি চাল দেখবে নোনা জলে


পটোলচেরা চোখের সাথে পটোল তোলা ফ্রি

পঁচা শামুকে পা টা কেটে পঞ্চত্ব প্রাপ্তী


ফপর দালাল ফড়ফড় করে, ফাঁক করে দেয় পকেট

ফাঁড়া কাটানোর ফাঁকা আওয়াজে ফাঁপ ধরে যায় পেট


বজ্র আঁটুনি ফষ্কা গেরো বগলদাবা গাঁট্টি

বয়সকালের বদলা নিতে বালির বাঁধে ঘাঁটি


ভবলীলা সাঙ্গ হবার ভয়েই কেঁচো হওয়া

ভিটে মাটি চাঁটি হলে ভুতের বোঝা বওয়া


মই কেড়ে নেয় গাছে তুলে, মগের মুলুক না কি?

মটকা মেরে থাকলে পড়ে, মড়াকাঁদা যায় কি?


যখনকার যা তখনকার তা, যদু মধুর জীবন

যেমন দেবা তেমন দেবী, যো-সো, যেমন তেমন


রকবাজিতে রক্তগঙ্গা বইতে পারে রোজ

রগরগে সব রদবদলের রাঙা মুলোর খোঁজ


লক্ষ্মীছাড়া লগি পোঁতার লজ্জার নেই মাথা

ল‍্যাংবোটে শোনে না লাখ কথার এক কথা


শকার বকার করাই কাজ, শাপ-শাপান্তের দীক্ষা

শাঁখের করাত কেটে যায় শবরীর প্রতীক্ষা


ষষ্ঠী মা দূরেই থাকে ষাড়াষাড়ির বানে

ষোল কড়াই কানা হলো ষাঁড়ের গোঁয়ের টানে


সইয়ে সইয়ে সতিন কাঁটা, সয়ে যাওয়া আর কতো?

সর্বঘটে কাঁঠালি কলা সাতকথা কয় যতো


হকের ধনের উঠলে কথা হচ্ছে হবে করে

হত‍্যে দেওয়া হীরের টুকরো হাপিত‍্যেশে মরে




English Translation of Bangla Folk Song: Fakir Lalon Shah; চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখি; Forever I Nurtured a Mysterious Bird

 Forever I Nurtured a Mysterious Bird Forever I nurtured a mysterious bird, which never discloses its identity. For this grief, my eyes ...